নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ওষুধ খাতের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসি ৩০ জুন ২০২৫ সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য ১২০ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে। কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের ২২ অক্টোবর ২০২৫ বিকেল ৩টায় অনুষ্ঠিত সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
ঘোষণা অনুযায়ী, স্কয়ার ফার্মার ৫৯তম বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫ সকাল ১০টায় ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে। বিনিয়োগকারীদের জন্য রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে ১৬ নভেম্বর ২০২৫।
চলতি অর্থবছরে কোম্পানির আর্থিক ফলাফলও সন্তোষজনক ছিল। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে স্কয়ার ফার্মার সমন্বিত ভিত্তিতে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) দাঁড়িয়েছে ২৭ টাকা ৪ পয়সা, যা আগের বছর ছিল ২৩ টাকা ৬১ পয়সা। একই সময়ে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫৭ টাকা ৮৮ পয়সা, যা গত বছর ছিল ১৪২ টাকা ৫ পয়সা। আর শেয়ারপ্রতি নগদ প্রবাহ (এনওসিএফপিএস) দাঁড়িয়েছে ১৯ টাকা ৫২ পয়সা, যা গত অর্থবছরে ছিল ২০ টাকা ৯০ পয়সা।
স্বতন্ত্র ভিত্তিতে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি আয় ছিল ১৬ টাকা ৬৩ পয়সা, যা গত বছর ছিল ১৭ টাকা ৫৯ পয়সা। একই সময়ে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২৪ টাকা ৭১ পয়সা, যা আগের বছর ছিল ১১৯ টাকা ৩৫ পয়সা। আর শেয়ারপ্রতি নগদ প্রবাহ দাঁড়িয়েছে ১৭ টাকা ৯৬ পয়সা, যা গত বছর ছিল ১৯ টাকা ৯৬ পয়সা।
পরিচালনা পর্ষদের সভায় আরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, কোম্পানি বিএমআরই (Balanced Modernization, Replacement and Expansion), ক্যাপিটাল মেশিনারি ও জমি ক্রয়ের জন্য মোট ৬৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে। এই বিনিয়োগের মাধ্যমে স্কয়ার ফার্মা তাদের উৎপাদন সক্ষমতা ও পণ্যের বৈচিত্র্য আরও বৃদ্ধি করতে চায়, যা ভবিষ্যতে কোম্পানির প্রবৃদ্ধি ও রপ্তানি আয়ে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
কোম্পানির সচিব খন্দকার হাবিবুজ্জামান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, শেয়ারহোল্ডারদের BOID-এ সংযুক্ত ব্যাংক হিসাব (A/C) ও Routing Number হালনাগাদ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে, যাতে BEFTN সিস্টেমের মাধ্যমে অনলাইনে ডিভিডেন্ড সংগ্রহ করা যায়। পাশাপাশি যেসব শেয়ারহোল্ডার তাদের ১২-সংখ্যার e-TIN নম্বর BO অ্যাকাউন্টে যুক্ত করবেন, তাদের ক্ষেত্রে কর কর্তন (Tax deduction) হবে ১৫ শতাংশের পরিবর্তে ১০ শতাংশ।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের ধারাবাহিক পারফরম্যান্স ও উচ্চ ক্যাশ ডিভিডেন্ড বিনিয়োগকারীদের আস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে। দেশের ফার্মাসিউটিক্যাল খাতে স্কয়ারের আধিপত্য ও আর্থিক স্থিতিশীলতা কোম্পানিটিকে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই বৃদ্ধির পথে রাখবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।


