স্বচ্ছ পুঁজিবাজার গঠনে AML ও CFT বাস্তবায়নে জোর

সময়: বুধবার, মে ১৩, ২০২৬ ১০:৪৭:৩৮ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক : পুঁজিবাজারে স্বচ্ছতা, সুশাসন ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে অর্থপাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁরা মনে করেন, প্রযুক্তিনির্ভর বর্তমান বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থায় পুঁজিবাজার নানা ধরনের ঝুঁকির মুখোমুখি। এ অবস্থায় অর্থপাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ কাঠামোর কার্যকর বাস্তবায়ন সময়ের গুরুত্বপূর্ণ দাবি।

বুধবার (১৩ মে) রাজধানীর নিকুঞ্জে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মাল্টিপারপাস হলে ‘স্থিতিশীল পুঁজিবাজার: অর্থ পাচার প্রতিরোধ ও সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন প্রতিরোধ সংক্রান্ত আইনের পরিপালন এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার অগ্রগতি’ শীর্ষক এক কর্মশালায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ), বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ যৌথভাবে এই কর্মশালার আয়োজন করে।

ডিএসইর রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স বিভাগের মহাব্যবস্থাপক ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম ভূইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের পরিচালক সৈয়দ কামরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএসইসির অতিরিক্ত পরিচালক মো. ওহিদুল ইসলাম।

স্বাগত বক্তব্যে মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম ভূইয়া বলেন, বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থায় পুঁজিবাজার অর্থপাচার, সন্ত্রাসে অর্থায়ন, সাইবারভিত্তিক আর্থিক অপরাধ, ভেতরের তথ্যের অপব্যবহার ও বাজার কারসাজির মতো বহুমাত্রিক ঝুঁকির সম্মুখীন হচ্ছে। এসব ঝুঁকি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ও আর্থিক খাতের সুশাসনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মো. ওহিদুল ইসলাম বলেন, স্বচ্ছ, সহনশীল ও আস্থানির্ভর পুঁজিবাজার গঠনে অর্থপাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ কাঠামোর কার্যকর বাস্তবায়ন অত্যন্ত জরুরি। তিনি উল্লেখ করেন, অবৈধ অর্থপ্রবাহ ও অর্থপাচার বাজারের স্বচ্ছতা নষ্ট করে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা দুর্বল করে দেয়। পাশাপাশি এটি আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতার জন্যও বড় ধরনের হুমকি সৃষ্টি করে।

প্রধান অতিথি সৈয়দ কামরুল ইসলাম বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টদের জন্য অর্থপাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ বিষয়ে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা অত্যন্ত জরুরি। স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসনভিত্তিক পুঁজিবাজার দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

কর্মশালায় চারটি অধিবেশন পরিচালনা করেন বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের অতিরিক্ত পরিচালক সাজ্জাদ হোসেন, উপপরিচালক মেহেদী হাসান, বিএসইসির উপপরিচালক মো. রফিকুন্নবী এবং বিএফআইইউর যুগ্ম পরিচালক শাহ আলম কাজী।

Share
নিউজটি ২ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged