স্মার্ট সাবমিশনে শেয়ারবাজারে ডিজিটাল বিপ্লব, কমছে কাগুজে ঝামেলা

সময়: সোমবার, ডিসেম্বর ২২, ২০২৫ ২:২৬:৩২ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: দীর্ঘদিন ধরে দেশের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর জন্য রেগুলেটরি তথ্য জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া ছিল জটিল, ব্যয়সাপেক্ষ এবং সময়নির্ভর। একই তথ্য বারবার প্রিন্ট করে আলাদা আলাদা স্টক এক্সচেঞ্জে জমা দিতে হওয়ায় প্রশাসনিক চাপ যেমন বাড়ত, তেমনি নষ্ট হতো মূল্যবান সময়। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) চালু করেছে সম্পূর্ণ অনলাইনভিত্তিক স্মার্ট সাবমিশন সিস্টেম (এসএসএস)।

এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এখন থেকে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডগুলো মূল্য সংবেদনশীল তথ্য (পিএসআই), আর্থিক প্রতিবেদনসহ বিভিন্ন বাধ্যতামূলক নথি কাগজ ছাড়াই অনলাইনে জমা দিতে পারবে। ফলে তথ্য দাখিলের গতি বাড়ার পাশাপাশি উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে প্রশাসনিক ব্যয়। একই সঙ্গে প্রতিটি সাবমিশনের ডিজিটাল ট্র্যাকিং সুবিধা থাকায় তথ্য ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হবে।

ডিএসই সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে পরীক্ষামূলকভাবে স্মার্ট সাবমিশন সিস্টেম চালু করা হয়। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে এর কার্যক্রম ও সক্ষমতা সম্প্রসারণ করা হয়েছে। সর্বশেষ দুটি নতুন মডিউল সংযোজনের ফলে এখন একটি মাত্র ডিজিটাল গেটওয়ে ব্যবহার করে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ—উভয় জায়গায় একসঙ্গে তথ্য জমা দেওয়া যাচ্ছে। এর মাধ্যমে দীর্ঘদিনের দ্বৈত সাবমিশন সমস্যার কার্যকর সমাধান হয়েছে।

এ বিষয়ে ডিএসইর চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম বলেন, এই উদ্যোগের ফলে কাগুজে নথির ওপর নির্ভরতা পুরোপুরি দূর করা সম্ভব হয়েছে। তার মতে, ডিজিটাল সাবমিশন শুধু সময় ও খরচ সাশ্রয়ের বিষয় নয়; এটি শেয়ারবাজারে শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা এবং সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করার একটি মৌলিক কাঠামোগত সংস্কার।

ডিএসই আরও জানায়, চায়নিজ কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সিস্টেমটি নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় উন্নয়ন করা হয়েছে। এর ফলে ভবিষ্যতে বাজারের চাহিদা অনুযায়ী নতুন ফিচার সংযোজন এবং প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত আপডেট বাস্তবায়ন তুলনামূলকভাবে সহজ হবে।

প্রযুক্তিগত গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে ডিএসইর প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা (সিটিও) ড. মো. আসিফুর রহমান বলেন, একক ডিজিটাল সাবমিশন পয়েন্ট চালুর ফলে ম্যানুয়াল হস্তক্ষেপজনিত ভুল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। পাশাপাশি তথ্য জমার প্রতিটি ধাপ ডিজিটালি যাচাইযোগ্য হওয়ায় নিয়ন্ত্রণ ও জবাবদিহি আরও শক্তিশালী হবে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, স্মার্ট সাবমিশন সিস্টেমের প্রভাব শুধু স্টক এক্সচেঞ্জের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রমেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। এটি তালিকাভুক্ত কোম্পানি, বিনিয়োগকারী ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার মধ্যে তথ্যপ্রবাহকে আরও দ্রুত, নির্ভরযোগ্য ও স্বচ্ছ করে তুলবে, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের শেয়ারবাজারের দক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

Share
নিউজটি ৩৪ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged