৫৩৮ কোটি টাকার ঋণে নিলামে উঠছে অ্যারামিট সিমেন্টের সম্পদ।

সময়: বুধবার, সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৫ ১২:৫৫:৪৮ অপরাহ্ণ

ঋণখেলাপির কারণে প্রায় ৫৩৮ কোটি ৯৩ লাখ টাকা (২১ জুলাই পর্যন্ত) বকেয়া থাকায় ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর মালিকানাধীন অ্যারামিট সিমেন্ট পিএলসি-এর বন্ধক রাখা সম্পত্তি নিলামে তোলার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এ লক্ষ্যে ব্যাংকটি গত ৪ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের জুবেলি রোড শাখা থেকে নিলাম বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। আগ্রহী ক্রেতাদের অংশগ্রহণের শেষ তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২৮ সেপ্টেম্বর।

বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, নিলামের আওতায় রয়েছে চট্টগ্রামের কালুরঘাট ভারী শিল্প এলাকায় ১৫ একর জমি এবং অ্যারামিট গ্রুপের চারটি কারখানা ও ভবন—

অ্যারামিট সিমেন্ট

অ্যারামিট পাওয়ার লিমিটেড

অ্যারামিট স্টিল পাইপস লিমিটেড

অ্যারামিট থাই অ্যালুমিনিয়াম লিমিটেড

ব্যাংকের নথি অনুযায়ী, অ্যারামিট সিমেন্ট মোট ৬.৬১ একর জমি বন্ধক রেখেছিল। ঋণটি ২০২২ অর্থবছরে প্রায় ৫০ কোটি টাকা দিয়ে শুরু হলেও ২০২৩ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪২৩ কোটি টাকাতে।

ইসলামী ব্যাংকের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সাবেক ভূমিমন্ত্রীর প্ররোচনায় প্রতিষ্ঠানটিকে ঋণ দেওয়া হয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময়মতো কিস্তি পরিশোধ না হওয়ায় ব্যাংক আইন অনুযায়ী এ ঋণ আদায়ের পদক্ষেপ নিয়েছে।

অ্যারামিট সিমেন্টের একজন স্পন্সর শেয়ারহোল্ডার সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, যার কাছে কোম্পানির ১৪.৯৭% শেয়ার রয়েছে। তার স্ত্রী রুখমিলা জামান পূর্বে ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন। অন্যান্য স্পন্সর শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে রয়েছে:

অ্যারামিট লিমিটেড (১৯.২৯%)

বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (৬.৪৩%)

ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ – আইসিবি (৫.২৩%)

অ্যারামিট সিমেন্ট শুধু ইসলামী ব্যাংকের কাছেই নয়, আরও কয়েকটি ব্যাংকের ঋণে জড়িয়ে আইনি জটিলতায় রয়েছে।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে ব্যাংক এশিয়া দায়ের করা মামলার পর চট্টগ্রাম অর্থঋণ আদালত কোম্পানির ব্যাংক হিসাব জব্দ করে।

সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ৩ কোটি ৩০ লাখ টাকার ঋণ অপরিশোধিত থাকায় চেক ডিজঅনার মামলা করেছে।

উৎপাদন বন্ধ ও তারল্য সংকট
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিদর্শন দল ২৫ জুলাই ২০২৫ তারিখে কোম্পানির কারখানা বন্ধ দেখতে পায়। কোম্পানির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, কাঁচামালের অভাব, তারল্য সংকট এবং ব্যাংকগুলো ঋণ পরিশোধ না হওয়ায় এলসি খুলতে অস্বীকৃতি জানানোর কারণে উৎপাদন বন্ধ করতে হয়েছে। বর্তমানে কোম্পানির মোট দায় প্রায় ৮০০ কোটি টাকা, যার একটি বড় অংশ সুদ।

গত তিন অর্থবছর ধরে অ্যারামিট সিমেন্ট টানা লোকসানে রয়েছে। যদিও ২০২২ অর্থবছরে ৫% নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে, বর্তমানে ডিভিডেন্ড প্রদানে ব্যর্থ হয়ে কোম্পানিটি ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে লেনদেন করছে।

৯ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) ডিএসইতে কোম্পানির শেয়ারের দাম ৬.৬২% কমে ১২ টাকা ৭০ পয়সায় নেমে আসে। গত এক বছরে শেয়ারটির সর্বোচ্চ দর ছিল ১৮ টাকা ১০ পয়সা এবং সর্বনিম্ন ১০ টাকা ৫০ পয়সা।

 

Share
নিউজটি ১১১ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged