বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) বর্তমান পর্ষদ দায়িত্ব গ্রহণ করার পর খুব সাহসী পদক্ষেপ ও সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। যদিও সামগ্রিক পুঁজিবাজারের মন্দাবস্থায় দিনের পর দিন বিনিয়োগকারীদের লোকসান হচ্ছে; কিন্তু শেয়ারবাজার সংস্কারে এসব ভূমিকা প্রশংসনীয়। তবে বিএসইসি তার ক্ষমতা দেখাতে গিয়ে আবার অজ্ঞতা যেন প্রকাশ না পায়- সেদিকে দৃষ্টি রাখতে হবে। এছাড়া ক্ষমতা পেয়ে তার অপব্যবহারও যেন না হয়- সে ব্যাপারে সজাগ থাকতে হবে।
সম্প্রতি নিজ ক্ষমতায় স্টক এক্সচেঞ্জের স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ করতে গিয়ে তালগোল পাকিয়ে ফেলছে বিএসইসি। স্টক এক্সচেঞ্জের পর্ষদ ও প্রশাসন প্রবিধিমালা অনুযায়ী, বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের সুপারিশক্রমে নতুন স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগের সুযোগ আছে। তবুও ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশন আইনের ২৪ ধারা প্রয়োগ করে সংস্থাটি নিজের পছন্দে স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ দিয়েছে। তবে ইতোপূর্বে যাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তারা প্রবিধিমালা অনুযায়ী নিয়োগ পাওয়ার যোগ্য নয়। বিব্রত হয়ে নিয়োগপ্রাপ্তরা দায়িত্ব গ্রহণে অপারগতা প্রকাশ করেছেন।
পরপর দুই দফা নিয়োগে এমন ঘটনা ঘটেছে। দ্বিতীয় দফায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালনা পর্ষদে দুই স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ দেয় বিএসইসি। তবে পরদিনই তাদের বাদ দিয়ে নতুন দু’জনকে নিয়োগ দিয়েছে সংস্থাটি। এ সংক্রান্ত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আগের দু’জন দায়িত্ব গ্রহণে অপারগতা প্রকাশ করেছেন বলেও জানায় বিএসইসি।
বিএসইসি যে দু’জনকে স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে তারা হলেন- আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইপিডিসির সাবেক এমডি মোমিনুল ইসলাম এবং বহুজাতিক ওয়েলস ফার্গো ব্যাংকের সাবেক কান্ট্রি ম্যানেজার শাহনাজ সুলতানা। এর আগে ডিএসইর স্বতন্ত্র পরিচালক পদে নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান হুদা ভাসী চৌধুরীর অংশীদার এ এফ নেসারউদ্দিন এবং জেড এন কনসালট্যান্টের প্রধান পরামর্শক সৈয়দা জাকেরিন বখ্ত নাসিরকে নিয়োগ দিয়েছিল। নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান হুদা ভাসী চৌধুরী নিরীক্ষক এবং জেড এন কনসালট্যান্ট ডিএসইর পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হওয়ায় আইন অনুযায়ী স্বার্থের সংঘাতের (সাংঘর্ষিক) কারণে তারা দায়িত্ব গ্রহণে অপারগতা প্রকাশ করে।
গত ১ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত কমিশন সভায় ডিএসইতে সাত স্বতন্ত্র পরিচালক পদে নিয়োগ দিয়ে আদেশ জারি করেছিল বিএসইসি। তবে ডিএসইর সাবেক এমডি মাজেদুর রহমান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. মো. হেলালউদ্দিন ডিএসইর পৃথক দুই ব্রোকারেজ হাউসের পরিচালক পদে দায়িত্ব পালনের তিন বছর অতিক্রম না করায় স্বতন্ত্র পরিচালক পদে দায়িত্ব নেয়ার অপারগতা প্রকাশ করেন।
আইনে বলা আছে, স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ হবে স্টক এক্সচেঞ্জের সুপারিশ ও তালিকা থেকে। বিএসইসি এ নিয়ম মানছে না। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর এ কমিশনই আগের স্বতন্ত্র পরিচালকদের পদত্যাগ করতে বাধ্য করে। এখন পূর্ণ পর্ষদ নেই- এমন অজুহাত দিচ্ছে।
অথচ ডিএসইর বোর্ড অ্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন রেগুলেশনস ২০১৩ এর ৩(১)(এফ) ধারায় স্পষ্ট বলা আছে, কোনো ক্যাটেগরির পরিচালকদের পদ শূন্য থাকায় পর্ষদের কোনো কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হবে না। স্বতন্ত্র পরিচালক না থাকার পরও পর্ষদে ছয় পরিচালক ছিলেন। তাদের সুপারিশ বা আলোচনা ছাড়া স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ নিয়ে শুরুতেই প্রধান স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে অস্বস্তিকর পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
অনেকে বলাবলি শুরু করে দিয়েছে বিএসইসির চেয়ারম্যানসহ অন্যান্য কমিশনাররা শেয়ারবাজারের আইন কানুন সম্পর্কে এতোটা অভিজ্ঞ নয়। তবে দিনশেষে ভেতরে যতই দুর্বলতা থাকুক প্রকাশ্যে যেন তা না আসে।
বিএসইসি স্বেচ্ছাচারিতা বা ক্ষমতার অপব্যবহার করছে এমন অভিযোগ যেন না আসে। আর বিএসইসির বর্তমান পর্ষদ “অজ্ঞ” এটা প্রচার হলেতো সবই শেষ।


