পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বেক্সিমকো লিমিটেডের শেয়ার কারসাজি ইস্যুতে অর্থদন্ডের নজির স্থাপন করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। শেয়ারবাজারের ইতিহাসে এমন জরিমানা (৪২৮ কোটি ৫২ লাখ টাকা) এর আাগে কখনো করা হয়নি। বিএসইসির এমন কঠোর হস্তক্ষেপে গোটা শেয়ারবাজারে আতঙ্ক বিরাজ করেছে। বড় ব্যক্তি বিনিয়োগকারী ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা হাতে শেয়ার বিক্রি করে দিচ্ছেন। অন্যদিকে এতো বিপুল পরিমাণ শেয়ার কিনতে কেউই আগ্রহ দেখাচ্ছে না। দিনশেষে আরেকটি ধসের চিত্র দেখেছে শেয়ারবাজার।
আর যেখানে বিনিয়োগকারীরা নি:স্ব হয়ে যাচ্ছে সেখানে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান ড. রাশেদ মাকসুদের পদত্যাগ চাওয়াটাই স্বাভাবিক।
যেকোন দড়িকে বেশি টানাটানি করলে সেটা একসময় ছিঁড়ে যায়। শেয়ারবাজার সংস্কার করতে গিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা এমন পরিস্থিতি তৈরি করেছে যে সবাই বিনিয়োগ করবেতো দূরের কথা উল্টো পালাচ্ছে।
শেয়ারবাজারে কি কেউ লোকসান করতে আসবে? সামান্য দর বাড়লেই যেভাবে কোয়ারির নামে লাগাম টেনে ধরা হয় সেটি বিশ্বের কোন বাজারেই হয় না। এখন যে শেয়ারের দর পড়তে পড়তে তলানিতে এসে ঠেকেছে এর দায় কে নেবে? যদি দর বৃদ্ধির সময় স্টক এক্সচেঞ্জের মাথা ব্যাথা শুরু হয়ে যায় তাহলে দর কমলেও তার দায় নিতে হবে।
বর্তমান কমিশনের কাজ দেখে মনে হচ্ছে তারা শেয়ারবাজার বুঝে না।
আর যদি বুঝেই থাকে তাহলে বিনিয়োগকারীদের পথের ফকির বানানোর মিশন নিয়ে কাজ করছে। তাদের আচরণ দেখে মনে হচ্ছে, তারা চাচ্ছে শেয়ারবাজার ধ্বংস হয়ে যাক। কেউ যেন শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করতে না আসে সে রেড এলার্ট দিয়ে রাখছে। যদি শেয়ারবাজার সংস্কারের নামে বিনিয়োগকারীদের ধ্বংস করা হয় তাহলে একটি পলিসি করা হোক। কোম্পানির পরিচালকদের বাইব্যাক করতে বাধ্য করা হোক। এভাবে কখনোই পুঁজিবাজার চলতে পারে না। হয় শেয়ারবাজার ঠিক করতে হবে না হয় পদত্যাগ করতে হবে।


