ব্রোকারেজ হাউজের জবাবদিহিতা নিশ্চিতে ডিএসইর কঠোর পদক্ষেপ

সময়: রবিবার, জুলাই ৬, ২০২৫ ৮:৩৫:১৫ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় ব্রোকারেজ হাউজগুলোর আর্থিক স্বচ্ছতা ও কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) আরও কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক ব্রোকার-ডিলার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিনিয়োগকারীদের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ওঠার প্রেক্ষিতে ডিএসই তার নিরীক্ষক প্যানেলকে নতুন করে ঢেলে সাজানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

২০২১ সালে গঠিত ডিএসইর নিরীক্ষক প্যানেলে বর্তমানে ৬১টি নিরীক্ষা সংস্থা রয়েছে। তবে অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, অনেক নিরীক্ষক আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য যথাযথভাবে তুলে ধরতে ব্যর্থ হয়েছেন। এতে করে ব্রোকার হাউজগুলোর প্রকৃত আর্থিক চিত্র অস্পষ্ট থেকে গেছে, যা বিনিয়োগকারীদের ক্ষতির বড় কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

ডিএসই গত ১ জুলাই ব্রোকার-ডিলারদের আর্থিক বিবরণী নিরীক্ষার মান উন্নয়নে নতুন নির্দেশিকা অনুমোদন করেছে। এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিএসইসি প্যানেলে তালিকাভুক্ত নিরীক্ষকরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডিএসইর প্যানেলে অন্তর্ভুক্ত হবেন। পাশাপাশি অন্যান্য যোগ্য নিরীক্ষকদের ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে আবেদন করতে আহ্বান জানানো হয়েছে।

নতুন নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়েছে, কোনো নিরীক্ষক টানা তিন বছরের বেশি সময় একই ব্রোকার ফার্মে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক বা বিএসইসি থেকে বাদ পড়া, নৈতিকতা লঙ্ঘনের অভিযোগ থাকা বা সঠিক আর্থিক প্রতিবেদন না দেওয়ার প্রমাণ মিললে সেই নিরীক্ষককে ডিএসইর প্যানেল থেকেও বাদ দেওয়া হবে।

গত কয়েক বছরে তামহা সিকিউরিটিজ, ব্যাঙ্কো সিকিউরিটিজ, ক্রেস্ট সিকিউরিটিজ ও শাহ মোহাম্মদ সগীর অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেড—এই চারটি ব্রোকার হাউজ প্রায় ৩০০ কোটি টাকা বিনিয়োগকারীদের অর্থ আত্মসাৎ করে। এই জালিয়াতির সঙ্গে একটি জাল সফটওয়্যার ডেটাবেইস ব্যবহারের বিষয়টিও উঠে এসেছে। ডিএসইর মতে, ওইসব প্রতিষ্ঠানের নিরীক্ষকরা সঠিক দায়িত্ব পালন করলে হয়তো এই বিপুল আত্মসাত রোধ করা যেত।

ডিএসই চেয়ারম্যান মোমিনুল ইসলাম বলেন, “ব্রোকার হাউজগুলোর প্রকৃত আর্থিক অবস্থা নিরূপণ এবং বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় শক্তিশালী নিরীক্ষা কাঠামো গঠন জরুরি। অতীতে নিরীক্ষকদের গাফিলতির কারণে বড় ধরনের জালিয়াতি হয়েছে, যা বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।”

ডিএসইর একজন কর্মকর্তা বলেন, “যেসব ব্রোকার হাউজ অর্থ আত্মসাৎ করেছে, তাদের নিরীক্ষিত প্রতিবেদনগুলোতে অনিয়মের কোনো ইঙ্গিত ছিল না। এর ফলে বিনিয়োগকারীরা প্রতারিত হয়েছেন। অথচ বিনিয়োগকারী সুরক্ষা তহবিল থেকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সক্ষমতা ছিল সীমিত।”

এই প্রেক্ষাপটে ডিএসই এখন ব্রোকার-ডিলার ফার্মগুলোর বার্ষিক আর্থিক বিবরণীর নিরীক্ষা আরও কঠোরভাবে তদারকি করতে নিরীক্ষক প্যানেল আপডেট করছে। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে বিনিয়োগকারী যেন এমন প্রতারণার শিকার না হয়, তা নিশ্চিত করাই প্রধান লক্ষ্য।

Share
নিউজটি ১৩১ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged