২০ আর্থিক প্রতিষ্ঠানে টালমাটাল পরিস্থিতি, লাইসেন্স বাতিলের হুমকি

সময়: রবিবার, আগস্ট ১৭, ২০২৫ ৯:২১:৪৭ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি ২০টি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে (এনবিএফআই) লাল তালিকাভুক্ত করেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের বিতরণ করা ঋণের ৮৩ শতাংশের বেশি খেলাপি হয়ে পড়েছে, যা আমানতকারীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি করেছে। কারণ প্রতিষ্ঠানগুলো জামানতের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি ঋণ বিতরণ করেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ২০ প্রতিষ্ঠানে গ্রাহকদের আমানতের পরিমাণ প্রায় ২২ হাজার ১২৭ কোটি টাকা। অথচ ডিসেম্বর পর্যন্ত তারা মোট ২৫ হাজার ৮০৮ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করেছে, যার বিপরীতে জামানত রয়েছে মাত্র ৬ হাজার ৮৯৯ কোটি টাকা—যা মোট ঋণের মাত্র ২৬.৭৩ শতাংশ। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, ঋণের ঝুঁকি কমাতে সমপরিমাণ বা তার বেশি জামানত রাখা হয়, কিন্তু এখানে তা হয়নি।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বহু ক্ষেত্রে যথাযথ মূল্যায়ন ছাড়াই ঋণ বিতরণ করা হয়েছে এবং জামানত যাচাইও কোনো স্বাধীন নিরীক্ষক দ্বারা সম্পন্ন হয়নি। এর ফলে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২১ হাজার ৪৬২ কোটি টাকা।

এর মধ্যে এফএএস ফাইন্যান্স, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, বিআইএফসি, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, ইউনিয়ন ক্যাপিটাল, ফার্স্ট ফাইন্যান্স এবং পিপলস লিজিং–এ খেলাপি ঋণের হার ৯০ শতাংশেরও বেশি।

এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যেই সংশ্লিষ্ট ২০ প্রতিষ্ঠানের কাছে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠিয়েছে—কেন তাদের লাইসেন্স বাতিল করা হবে না।

ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর জানান, সাম্প্রতিক মূল্যায়নে দেখা গেছে অন্তত ১৫টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান কার্যত টিকে থাকার মতো অবস্থায় নেই। এসব প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণের হার ৮০ থেকে ১০০ শতাংশের মধ্যে হতে পারে। তিনি আরও বলেন, এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনরুদ্ধারে প্রয়োজন হবে প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা।

 

Share
নিউজটি ১২৯ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged