মার্জিন ঋণে কঠোর শর্ত: ছাত্র-গৃহিণী-অবসরপ্রাপ্তরা আর পাবেন না সুবিধা

সময়: বুধবার, আগস্ট ২০, ২০২৫ ১২:৫৪:৫১ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: সীমিত আয়ের বিনিয়োগকারীদের জন্য বন্ধ হতে যাচ্ছে মার্জিন ঋণ। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) নতুন “মার্জিন বিধিমালা (রহিতকরণ), ২০২৫”-এর খসড়া প্রকাশ করেছে, যেখানে বছরে গড়ে অন্তত ৫ লাখ টাকার বিনিয়োগ ছাড়া কেউ মার্জিন ঋণ নিতে পারবেন না।

খসড়ায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ছাত্র, গৃহিণী ও অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তির মতো যাদের আয়ের নিয়মিত উৎস নেই, তারা আর মার্জিন ঋণের আওতায় আসতে পারবেন না। বিএসইসি’র ভাষ্য অনুযায়ী, সীমিত আর্থিক সক্ষমতা সম্পন্ন বিনিয়োগকারীদের অতিরিক্ত ঝুঁকিতে ফেলা বাজারের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। খসড়াটি নিয়ে আগামী ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জনমত গ্রহণ করবে কমিশন।

নতুন বিধিমালায় মার্জিন ঋণ সংক্রান্ত বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ শর্ত অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—

মার্জিন ঋণ শুধুমাত্র ব্যক্তি বিনিয়োগকারীদের দেওয়া হবে; যৌথ বা নগদ ভিত্তিতে নয়।

মার্জিন চুক্তি এক বছরের জন্য বৈধ থাকবে এবং উভয় পক্ষের সম্মতিতে নবায়নযোগ্য হবে।

অবাস্তব লাভের (unrealised gains) বিপরীতে মার্জিন দেওয়া যাবে না।

মার্জিন ঋণ কেবল সিকিউরিটিজ কেনার জন্য ব্যবহারযোগ্য হবে, নগদ উত্তোলন বা স্থানান্তরের অনুমতি নেই।

পোর্টফোলিওর আকার অনুসারে মার্জিন ঋণের অনুপাতও নির্ধারণ করা হয়েছে—

৫ লাখ থেকে ১০ লাখ টাকার পোর্টফোলিওতে ১:০.৫ অনুপাতে মার্জিন।

১০ লাখ টাকার বেশি পোর্টফোলিওতে ১:১ অনুপাতে মার্জিন।

শুধুমাত্র সেইসব সিকিউরিটিজ মার্জিনের জন্য প্রযোজ্য হবে, যেগুলোর ফ্রি ফ্লোট মার্কেট ক্যাপিটালাইজেশন ৫০ কোটি টাকার ওপরে।

এছাড়া কিছু শেয়ার মার্জিনের জন্য অযোগ্য থাকবে। যেমন—

ট্রেইলিং পিই রেশিও ৩০-এর ওপরে থাকা শেয়ার,

অডিটেড আর্থিক প্রতিবেদনে উল্লেখযোগ্য ভুল (material misstatement),

অস্তিত্বের ঝুঁকি (going concern risk) বা বন্ধ থাকা কোম্পানি,

“বি” বা “জেড” ক্যাটাগরির শেয়ার,

এসএমই, এটিবি বা ওটিসি বোর্ডের শেয়ার।

খসড়ায় আরও বলা হয়েছে, মার্জিন ঋণ পাওয়ার আগে বিনিয়োগকারীর আয় যাচাই বাধ্যতামূলক। এর জন্য আয়ের সার্টিফিকেট, বেতন স্লিপ, ব্যাংক স্টেটমেন্ট ও টিআইএন (Taxpayer Identification Number) যাচাই করা হবে। কেউ মিথ্যা তথ্য দিলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে নতুন কিছু শর্তও। বিনিয়োগকারীর ইক্যুইটি সবসময় মার্জিনের কমপক্ষে ৭৫% বা পোর্টফোলিওর মূল্যের ১৭৫% হতে হবে। অনুপাত নিচে নামলে ব্রোকারেজ হাউস মার্জিন কল দেবে। পরপর তিনবার মার্জিন কল পূরণ না হলে সাত দিনের নোটিশে শেয়ার বিক্রি করা যাবে। তবে ইক্যুইটি যদি ৫০% এর নিচে নেমে যায়, তাহলে কোনো নোটিশ ছাড়াই শেয়ার বিক্রির ক্ষমতা থাকবে ব্রোকারেজ হাউসের, এবং এই পরিস্থিতিতে দায়ভারও তাদের ওপর বর্তাবে।

 

Share
নিউজটি ৮৬ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged