রেকর্ড ডিপোজিট প্রবৃদ্ধির পথে ইউসিবি, সংস্কার বিরোধীদের শাস্তির মুখোমুখি

সময়: শনিবার, সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৫ ৫:৩৩:৪৬ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রতারণার মাধ্যমে রিট পিটিশন দাখিল করে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসি (ইউসিবি)–এর সংস্কার কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ৬ ব্যক্তিকে ১৫ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে তাঁদের ভবিষ্যতে এ বিষয়ে কোনো ধরনের আইনি পদক্ষেপ গ্রহণে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

আদালতের আদেশ অনুযায়ী দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন—এম এ সবুর, বশির আহমেদ, শওকত আজিজ রাসেল, বজল আহমেদ, আহমেদ আরিফ বিল্লাহ ও সুজন চন্দ্র নাথ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ ব্যাংক সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তাঁর ঘনিষ্ঠজনদের নেতৃত্বাধীন ইউসিবির পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেয়। পরে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ২৩ জন শেয়ারহোল্ডারের শেয়ার জব্দের নির্দেশ দেয়।

এর পর ২০২৫ সালের জুলাইয়ে গ্রুপটির একটি অংশ দাবি করে যে, তারা ব্যাংকের ১০ শতাংশের বেশি শেয়ারহোল্ডার। এ দাবি দেখিয়ে কোম্পানিজ অ্যাক্ট, ১৯৯৪-এর ২৩৩ ধারার অধীনে রিট পিটিশন দাখিল করা হয়। রিটে নতুন পরিচালনা পর্ষদের বৈধতা, বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) এবং সংশ্লিষ্ট এজেন্ডা চ্যালেঞ্জ করা হয়।

সর্বশেষ শুনানিতে ইউসিবির আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাইফুজ্জামান আদালতে জানান, রিটকারীদের মধ্যে কয়েকজন দেশের বাইরে অবস্থান করলেও তারা শপথনামায় সশরীরে উপস্থিত থাকার মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন। এর মাধ্যমে আদালত ও শপথ কমিশনারকে প্রতারিত করার চেষ্টা করা হয়েছে।

অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত রিটকারীদের মোট ১৫ লাখ টাকা জরিমানা করেন। এর মধ্যে ১২ লাখ টাকা ইউসিবিকে এবং ৩ লাখ টাকা সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল ও মার্শাল অফিসে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এছাড়া ভবিষ্যতে একই বিষয়ে নতুন করে মামলা দায়েরের ওপরও নিষেধাজ্ঞা জারি হয়।

খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, হাইকোর্টের এ রায় ব্যাংকিং খাতে একটি শক্ত বার্তা পাঠিয়েছে। ভবিষ্যতে সংস্কার কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার যেকোনো প্রচেষ্টা আদালতের কঠোর নজরদারির মধ্যে থাকবে এবং অপরাধীদের জবাবদিহি করতে হবে।

এরই মধ্যে ইউসিবি সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছে। ব্যাংকটির প্রধান লক্ষ্য আমানতকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা শক্তিশালী করা। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে ইউসিবি ৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকার বেশি নেট ডিপোজিট প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে এবং নতুন করে ৪ লাখ ৫০ হাজারেরও বেশি অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। এটি ব্যাংকের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেকর্ড।

 

Share
নিউজটি ১১৩ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged