পাঁচ ব্যাংক একীভূত হয়ে আসছে ‘ইউনাইটেড ইসলামী ব্যাংক’

সময়: বুধবার, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৫ ১২:১২:৪৯ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ ব্যাংক একীভূত হতে যাওয়া পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সঙ্গে এসব ব্যাংকে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হবে। শিগগিরই পাঁচ ব্যাংক একীভূত করে নতুন রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংক ‘ইউনাইটেড ইসলামী ব্যাংক’ গঠন করা হবে।

মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বোর্ড বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র জানান, একীভূতকরণ প্রক্রিয়া শেষ হলে বিদ্যমান বোর্ড বিলুপ্ত হবে। পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সর্বোচ্চ পাঁচ সদস্যের একটি টিম প্রতিটি ব্যাংকের কার্যক্রম পরিচালনা করবে। বৈঠকে ব্যাংক রেজুলেশন অর্ডিন্যান্স, বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার এবং খেলাপি ঋণ আদায় বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

কোন ব্যাংকগুলো একীভূত হচ্ছে?
সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং এক্সিম ব্যাংককে একীভূত করে গঠন করা হবে নতুন রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংক ‘ইউনাইটেড ইসলামী ব্যাংক’। এজন্য বাংলাদেশ ব্যাংক শিগগিরই লাইসেন্স ইস্যু করবে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ ইসলামী ব্যাংক খাতের দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও দুর্নীতি কাটিয়ে গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হবে। একীভূত হওয়ার পর পাঁচ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ও এমডির পদ শূন্য ঘোষণা করা হবে এবং শেয়ারও শূন্য বলে গণ্য হবে। তবে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও আমানতকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নতুন ব্যাংকের অধীনে পাঁচ ব্যাংকের সব সম্পদ ও দায়ভার স্থানান্তরিত হওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করবে ‘ইউনাইটেড ইসলামী ব্যাংক’।

খেলাপি ঋণের চিত্র ও সরকারি অর্থায়ন
তথ্য অনুযায়ী, একীভূত হতে যাওয়া পাঁচ ব্যাংকের ৪৮ থেকে ৯৮ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ খেলাপি। এই একীভূতকরণের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ দাঁড়িয়েছে ৩৫ হাজার ২০০ কোটি টাকা, যার মধ্যে সরকার দেবে ২০ হাজার ২০০ কোটি টাকা।

এসব ব্যাংকের মধ্যে চারটি দীর্ঘদিন ধরে ছিল এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে, আর এক্সিম ব্যাংক ছিল নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারের অধীনে।

চলতি মাসের শুরুতে সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যান ও পরিচালকদের সঙ্গে বৈঠক শেষে ফার্স্ট সিকিউরিটি, ইউনিয়ন ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক একীভূত হতে সম্মতি দেয়। তবে এক্সিম ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক সময় চাইলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংক আর কোনো সুযোগ দেয়নি।

কেন এই একীভূতকরণ?
বাংলাদেশ ব্যাংক মনে করছে, দুর্বল ব্যাংকগুলোকে একীভূত করে পুনর্গঠন করলে ব্যাংক খাতে স্থিতিশীলতা আসবে। পরবর্তীতে নির্দিষ্ট সময় পর নতুন ব্যাংকের শেয়ার বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়া হবে। তখন বড় অঙ্কের আমানতকারীদের শেয়ার গ্রহণের সুযোগ দেওয়া হবে। ছোট আমানতকারীরা চাইলে তাদের টাকা তুলে নিতে পারবেন, তাতে কোনো বাধা থাকবে না।

 

 

Share
নিউজটি ৪১২ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged