নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে কারসাজি ও গুজব প্রতিরোধে নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা ৩০টি কোম্পানির তালিকা প্রকাশ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এসব কোম্পানি মূলধন সংগ্রহ করলেও তাদের উৎপাদন কার্যক্রম বর্তমানে সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে দুটি রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানও। ডিএসইর ওয়েবসাইটে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
ডিএসইর এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হলো বিনিয়োগকারীদের সচেতন করা। শেয়ারবাজারে প্রায়শই এসব বন্ধ কোম্পানিকে কেন্দ্র করে ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে শেয়ারের দাম কৃত্রিমভাবে বাড়ানো বা কমানো হয়। ফলে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েন। এই তালিকা প্রকাশের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ কোম্পানিগুলোর প্রকৃত অবস্থা জানতে পারবেন এবং সচেতন সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।
নতুন সংযোজন: হ্যামিদ ফ্যাব্রিক্স
তালিকায় সর্বশেষ যুক্ত হয়েছে হ্যামিদ ফ্যাব্রিক্স। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, অপর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহের কারণে উৎপাদন কার্যক্রমে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে। সিএনজি ও এলএনজি ব্যবহার করেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা যায়নি। তাই বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এবং শ্রম বিধিমালা ২০১৫ অনুসারে ২২ জুন থেকে কারখানাটি ‘লে-অফ’ ঘোষণা করা হয়েছে। গ্যাস সংকট সমাধান হলে উৎপাদন পুনরায় চালু হবে বলে কোম্পানির আশা।
রহিমা ফুড কর্পোরেশনের উৎপাদন বন্ধ
এর আগে ১২ আগস্ট রহিমা ফুড কর্পোরেশন তাদের নারকেল তেল এবং কাজুবাদাম প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানার উৎপাদন বন্ধ করে দেয়। বাজারে প্রত্যাশিত অবস্থান তৈরি করতে না পারায় তারা সাময়িকভাবে উৎপাদন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। কোম্পানি কর্তৃপক্ষের মতে, এটি তাদের জন্য শিক্ষণীয় অভিজ্ঞতা এবং দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্বের জন্য নতুন কৌশল খোঁজা হচ্ছে।
২০০২ সাল থেকে নিষ্ক্রিয় প্রতিষ্ঠানও তালিকায়
ডিএসইর প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান ২০২০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে উৎপাদন বন্ধ করেছে। তবে একটি প্রতিষ্ঠান ২০০২ সাল থেকেই কার্যক্রম বন্ধ অবস্থায় রয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নির্দেশে ছয় মাসের বেশি সময় ধরে উৎপাদন বন্ধ থাকায় বারাকা পাওয়ার ও জাহিন স্পিনিং মিলস-কে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের জন্য সতর্কবার্তা
ডিএসইর একজন শেয়ারহোল্ডার পরিচালক বলেন, “এই তালিকা প্রকাশের মূল উদ্দেশ্য হলো বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা। তারা প্রায়শই গুজবে বিভ্রান্ত হয়ে ক্ষতির সম্মুখীন হন। এখন যেহেতু প্রকৃত অবস্থা জানা যাচ্ছে, বিনিয়োগকারীরা সচেতনভাবে এবং নিজেদের দায়িত্বে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।”
প্রকাশিত তালিকার কোম্পানিগুলো
ডিএসই প্রকাশিত ৩০ কোম্পানির তালিকায় রয়েছে—
অ্যাপোলো ইস্পাত কমপ্লেক্স, অ্যারামিট সিমেন্ট, আজিজ পাইপস, বারাকা পাওয়ার, দুলামিয়া কটন, এমারাল্ড অয়েল, ফ্যামিলি টেক্স (বিডি), জিবিবি পাওয়ার, জেনারেশন নেক্সট ফ্যাশনস, খুলনা পাওয়ার কোম্পানি, খুলনা প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং, মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক, মেঘনা পিইটি ইন্ডাস্ট্রিজ, মেট্রো স্পিনিং মিলস, মিথুন নিটিং, নিউ লাইন ক্লথিংস, নর্দার্ন জুট, নুরানি ডায়িং, প্রাইম টেক্সটাইল, আরএসআরএম, রেজেন্ট টেক্সটাইল, সুহ্নিদ ইন্ডাস্ট্রিজ, স্ট্যান্ডার্ড সিরামিকস, টাং হাই নিটিং, ইয়াকিন পলিমার, জাহিন স্পিনিং মিলস, শ্যামপুর সুগার মিলস এবং উসমানিয়া গ্লাস শীট ফ্যাক্টরিজ।


