শেয়ারবাজারে কারসাজির জাল উন্মোচনে বিএসইসি: এনআরবিসি ব্যাংক ও সহযোগীদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু

সময়: রবিবার, অক্টোবর ১৯, ২০২৫ ১:৩৭:০১ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে আলোচিত এনআরবিসি ব্যাংক পিএলসি ও এর সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে বড় ধরনের কারসাজি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। তদন্তের আওতায় রয়েছেন ব্যাংকটির চেয়ারম্যান এসএম পারভেজ তমাল, এসকেএফ ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাশেদ আহমেদ লিটন, এবং তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলো।

বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, ব্যাংকটির সহযোগী প্রতিষ্ঠান এনআরবিসি ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড ও এনআরবিসি ব্যাংক সিকিউরিটিজ লিমিটেড-এর মাধ্যমে শেয়ারবাজারে জালিয়াতি ও কারসাজি সংঘটিত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এই অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে বিএসইসি’র মার্কেট ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন বিভাগ তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটিটি আগামী ৬০ কর্মদিবসের মধ্যে কমিশনের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করবে।

? অভিযোগের উৎস: বিএফআইইউ’র গোয়েন্দা প্রতিবেদন
তদন্তের সূচনা হয় বাংলাদেশ ফাইনান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) একটি প্রতিবেদনের ভিত্তিতে।
ওই প্রতিবেদনে উঠে আসে, পারভেজ তমাল ও রাশেদ আহমেদ লিটন তাদের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে শেয়ারবাজারে জালিয়াতি করে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেছেন।
বিএসইসি সূত্র নিশ্চিত করেছে, এ প্রতিবেদন পর্যালোচনার পরই তদন্তের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

কমিশনের মতে, শেয়ারবাজার ও সাধারণ বিনিয়োগকারীর স্বার্থ রক্ষায় এই অভিযোগগুলো তদন্ত করা অত্যন্ত জরুরি। এজন্য সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স, ১৯৬৯, বিএসইসি আইন, ১৯৯৩ এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ অনুযায়ী তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

⚖️ নতুন নেতৃত্বের কঠোর অবস্থান
বিগত সরকারের সময়ে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর অনিয়ম বা অর্থ আত্মসাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ছিল।
তবে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর পুনর্গঠিত বিএসইসি এখন অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের নেতৃত্বে বর্তমান কমিশন বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে দৃঢ় পদক্ষেপ নিচ্ছে।
এরই অংশ হিসেবে এনআরবিসি ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত শুরু হয়েছে।

? পারভেজ তমালের আইনি জটিলতা
তদন্তের আগে থেকেই এনআরবিসি ব্যাংকের চেয়ারম্যান এসএম পারভেজ তমাল বিভিন্ন আইনি জটিলতায় জড়িয়েছেন।
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তার ব্যাংক হিসাব জব্দ করেছে এবং আদালত তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।

? এনআরবিসি ব্যাংকের পটভূমি
২০১২ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের প্রথম মেয়াদে অনুমোদন পাওয়া চতুর্থ প্রজন্মের ৯টি ব্যাংকের মধ্যে এনআরবিসি ব্যাংক ছিল অন্যতম।
তৎকালীন উদ্যোক্তাদের মধ্যে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির নেতা, এবং প্রবাসে ক্ষমতাসীন দলের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরা ছিলেন।
চলতি বছরের ১২ মার্চ, বাংলাদেশ ব্যাংক এনআরবিসি ব্যাংকের পর্ষদ ভেঙে দেয়।
পর্ষদ ভেঙে দেওয়ার আগে পর্যন্ত ব্যাংকটির চেয়ারম্যান ছিলেন এসএম পারভেজ তমাল।

? বিএসইসি’র প্রত্যাশা
বিএসইসি আশা করছে, এই তদন্তের মাধ্যমে এনআরবিসি ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের প্রকৃত চিত্র উন্মোচিত হবে।
কমিশনের মতে, এই তদন্ত শেয়ারবাজারে আস্থা পুনরুদ্ধারের এক গুরুত্বপূর্ণ নজির হিসেবে কাজ করবে।

 

Share
নিউজটি ১০০ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged