বোর্ড নিয়ন্ত্রণ ও অনিয়মের অভিযোগ—সাঈদ খোকনের কর্মকাণ্ডে নজরদারি শুরু

সময়: রবিবার, নভেম্বর ২৩, ২০২৫ ৬:৫১:৩৪ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ইসলামী ইনস্যুরেন্স বাংলাদেশ লিমিটেডের বর্তমান চেয়ারম্যান সাঈদ খোকনের বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) একটি চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু করেছে। সাবেক ছয়জন স্পন্সর পরিচালক অভিযোগ করেছেন—চেয়ারম্যান সাঈদ খোকন অপ্রকাশিত স্থান থেকে সম্পূর্ণ আর্থিক ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে কোম্পানির কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

বিএসইসির গঠিত তদন্ত কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন অতিরিক্ত পরিচালক মো. ফারুক হোসেন। অন্যান্য সদস্যরা হলেন সহকারী পরিচালক মো. মেহেদী হাসান রনি, সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মিনহাজ বিন সালিম এবং ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের ম্যানেজার মো. গিয়াস উদ্দিন। কমিটিকে প্রয়োজনীয় নথি পর্যালোচনা করে বিস্তারিত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পরিচালনা বোর্ডে অনিয়মের অভিযোগ: পরিবারকেন্দ্রিক নিয়ন্ত্রণ
অভিযোগকারী সাবেক পরিচালকরা জানান, সাঈদ খোকন ২০১২ সালে চেয়ারম্যান পদে বসার পর থেকেই প্রতিষ্ঠানে স্বৈরাচারী ধারা তৈরি হয়। তাদের দাবি—কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই ছয়জন স্পন্সর পরিচালককে বোর্ড থেকে অপসারণ করা হয়। পরে চেয়ারম্যান তার স্ত্রী, দুই মেয়ে, শ্যালিকা এবং তার মালিকানাধীন দুটি কোম্পানির প্রতিনিধিদের পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেন। বর্তমানে কোম্পানির দশজন পরিচালক চেয়ারম্যানের পারিবারিক বা ব্যক্তিগতভাবে নিয়োগ করা, যারা মিলিতভাবে প্রায় ৩০.৩৫% শেয়ার নিয়ন্ত্রণ করছেন। এ ধরনের কাঠামো কোম্পানি আইন, বীমা আইন ও সিকিউরিটিজ আইনের সরাসরি লঙ্ঘন বলে অভিযোগকারীরা মন্তব্য করেছেন।

আরও অভিযোগ রয়েছে—সম্প্রতি রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলালেও আওয়ামী লীগ নেতা সাঈদ খোকন এখনো একটি অজ্ঞাত স্থানে অবস্থান করছেন। সেখান থেকেই তিনি বোর্ড মিটিং পরিচালনা, সিদ্ধান্ত অনুমোদন এবং বিভিন্ন আর্থিক সুবিধা ভোগ করে চলেছেন। সাবেক পরিচালকদের ভাষায়, এ আচরণ করপোরেট গভর্নেন্সের মূলনীতির পরিপন্থী।

তাদের অভিযোগ, কোম্পানির সচিব ও পরিচালক নুর মোহাম্মদ মামুন চেয়ারম্যানের একতরফা সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

সিইও, সিএফও ও সচিব নিয়োগে একক সিদ্ধান্ত
সাবেক পরিচালকরা দাবি করেন—চেয়ারম্যান নিজের ইচ্ছেমতো কোম্পানির সিইও, সিএফও এবং কোম্পানি সচিবকে নিয়োগ বা অপসারণ করেন। এসব সিদ্ধান্ত বোর্ড মিটিংয়ের কার্যবিবরণীতে লিপিবদ্ধ করা হলেও, যেসব পরিচালক আপত্তি তুলতেন, তাদের বোর্ড থেকে অপসারণ করা হতো। তারা জানান—অপসারণের সুনির্দিষ্ট কারণ আজও জানানো হয়নি, যা আইনগতভাবে অগ্রহণযোগ্য।

অভিযোগকারীদের মতে, এসব অনিয়ম ইসলামী ইনস্যুরেন্সের সুশাসন ক্ষতিগ্রস্ত করার পাশাপাশি বীমা খাতের স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি তৈরি করছে। তারা বিএসইসিকে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া, অপসারিত পরিচালকদের পুনর্বহাল এবং বোর্ড পুনর্গঠনের অনুরোধ জানিয়েছেন।

আর্থিক অবস্থায় স্থিতিশীলতা থাকলেও শাসনব্যবস্থায় প্রশ্ন
করপোরেট গভর্নেন্স নিয়ে জোরালো অভিযোগ থাকলেও ইসলামী ইনস্যুরেন্সের ব্যবসায়িক সূচক তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে।
জানুয়ারি–সেপ্টেম্বর সময়ে কোম্পানিটির:

  • গ্রস প্রিমিয়াম: ৫১ কোটি ৪০ লাখ টাকা (আগের বছর: ৫২ কোটি ৪৭ লাখ টাকা)

  • নিট প্রিমিয়াম: ৩৬ কোটি ৮৫ লাখ টাকা → বেড়ে হয়েছে ৩৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা

  • কর–পরবর্তী নিট মুনাফা: ৮ কোটি ১ লাখ টাকা (গত বছর: ৭ কোটি ৯৮ লাখ টাকা)

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর শেষে:

  • শেয়ারপ্রতি আয় (EPS): ১ টাকা ৯৫ পয়সা (আগের বছর: ১ টাকা ৯৪ পয়সা)

  • শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (NAV): ২২ টাকা ৫৭ পয়সা (আগের বছর: ২২ টাকা ৫৬ পয়সা)

Share
নিউজটি ৭৩ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged