নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের প্রথম সম্পদ-ভিত্তিক গ্রিন সুকুক ‘বেক্সিমকো গ্রিন-সুকুক আল ইস্তিসনা’ নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে তীব্র অনাগ্রহ দেখা দিয়েছে। শেয়ারে রূপান্তরের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও সম্ভাব্য লোকসানের আশঙ্কায় অধিকাংশ বিনিয়োগকারী সেই পথে হাঁটছেন না। ট্রাস্টি ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি) সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালে যেখানে ১ কোটি ৭ লাখ ইউনিট সুকুক শেয়ারে রূপান্তরিত হয়েছিল, সেখানে ২০২৫ সালে সেই সংখ্যা নেমে এসেছে মাত্র ৩৫০ ইউনিটে। ফলে গত চার বছরে মোট রূপান্তরের হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ৬ দশমিক ৩৬ শতাংশ।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০২৫ সালে রূপান্তরের হার সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যাওয়ার পেছনে অন্যতম কারণ বেক্সিমকো লিমিটেডের শেয়ারের ফ্লোর প্রাইস। বর্তমানে কোম্পানিটির শেয়ারদর ১১০ টাকা ১০ পয়সায় স্থির রয়েছে। বিনিয়োগকারীদের আশঙ্কা, ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার করা হলে শেয়ারের দাম উল্লেখযোগ্য হারে কমে যেতে পারে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বেক্সিমকোর ব্যবসায়িক কার্যক্রমও ব্যাপকভাবে স্থবির হয়ে পড়েছে। গাজীপুরের গার্মেন্টস ইউনিট বন্ধ রয়েছে এবং টেক্সটাইল বিভাগ আংশিকভাবে সচল আছে।
এদিকে আর্থিক সংকটের কারণে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর মাসে সুকুকের মেয়াদ শেষে মূল অর্থ ফেরত দেওয়া বেক্সিমকোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে আইসিবির নেতৃত্বে গঠিত একটি বিশেষ কমিটি সুকুকের মেয়াদ আরও ছয় বছর বাড়িয়ে ২০৩২ সাল পর্যন্ত সম্প্রসারণের সুপারিশ করেছে। তিন হাজার কোটি টাকার এই সুকুক তহবিল দিয়ে দুটি সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প এবং টেক্সটাইল খাত সম্প্রসারণের পরিকল্পনা থাকলেও বর্তমানে কেবল তিস্তা সোলার প্ল্যান্ট চালু রয়েছে। অন্যদিকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় করতোয়া সোলার প্ল্যান্টটি অচল অবস্থায় পড়ে আছে।
বেক্সিমকোর আর্থিক অবস্থাও বিনিয়োগকারীদের উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের পূর্ণাঙ্গ আর্থিক প্রতিবেদন এখনো প্রকাশ না হলেও, প্রথম ছয় মাসের হিসাবে কোম্পানিটির আয় আগের ১ হাজার ৪৪১ লাখ টাকা থেকে কমে ৪১৫ কোটিতে নেমে এসেছে। একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটি ৩৫৬ কোটি টাকা লোকসান করেছে এবং কোনো লভ্যাংশ ঘোষণা করতে পারেনি।
এই অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীরা শেয়ারে রূপান্তরের ঝুঁকি না নিয়ে আপাতত সুকুকের অর্ধবার্ষিক মুনাফা গ্রহণ করাকেই তুলনামূলক নিরাপদ বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করছেন।


