নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
সোমবার (১৩ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত কমিশনের ৯৯২তম সভায় মোট ১৪টি ব্রোকার হাউজ ও মার্চেন্ট ব্যাংককে নেগেটিভ ইকুইটি সমন্বয়ের জন্য অতিরিক্ত সময় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে ৭৫ কোটি টাকা আকারের তিনটি নতুন ক্লোজ-এন্ডেড মিউচুয়াল ফান্ডের খসড়া প্রসপেক্টাসও অনুমোদন দিয়েছে কমিশন।
বিএসইসি চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের সভাপতিত্বে আগারগাঁওয়ের কমিশন কার্যালয়ে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
নেগেটিভ ইকুইটিতে ছাড় পেল ১৪ প্রতিষ্ঠান
শেয়ারবাজারে দীর্ঘদিনের মন্দা ও দরপতনের প্রভাবে অনেক ব্রোকার হাউজ ও মার্চেন্ট ব্যাংকের পোর্টফোলিওতে নেগেটিভ ইকুইটি এবং আনরিয়ালাইজড লোকসান সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এবং তাদের দাখিল করা ‘অ্যাকশন প্ল্যান’ পর্যালোচনা শেষে বিএসইসি প্রভিশন সংরক্ষণের সময়সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়।
এই তালিকায় থাকা ১৪টি প্রতিষ্ঠান হলো—
১. কমার্স ব্যাংক সিকিউরিটিজ অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড
২. ফার ইস্ট শেয়ারস অ্যান্ড সিকিউরিটিজ লিমিটেড
৩. ইমতিয়াজ হোসাইন সিকিউরিটিজ লিমিটেড
৪. মন্ডল সিকিউরিটিজ লিমিটেড
৫. এমএএইচ সিকিউরিটিজ লিমিটেড
৬. স্কয়ার সিকিউরিটিজ ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড
৭. শাকিল রিজভী স্টক লিমিটেড
৮. এসবিএসি ব্যাংক ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড
৯. এনওয়াই ট্রেডিং লিমিটেড
১০. মিডওয়ে সিকিউরিটিজ লিমিটেড
১১. আল-হাজ্ব সিকিউরিটিজ অ্যান্ড স্টকস লিমিটেড
১২. রূপালী ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড
১৩. এবি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড
১৪. এলায়েন্স ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড
কমিশনের মতে, এই সাময়িক ছাড়ের ফলে প্রতিষ্ঠানগুলো নিট সম্পদ ঘাটতি সংক্রান্ত বিধি পালনে সময় পাবে, যা তাদের আর্থিক কাঠামো পুনর্গঠনে সহায়ক হবে এবং বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষাও জোরদার করবে।
অনুমোদন পেল ৭৫ কোটি টাকার তিন মিউচুয়াল ফান্ড
বাজারে তারল্য বাড়ানো ও বিনিয়োগের ক্ষেত্র সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বিএসইসি ২৫ কোটি টাকা করে মোট তিনটি ক্লোজ-এন্ডেড মিউচুয়াল ফান্ডের অনুমোদন দিয়েছে।
১. মিডল্যান্ড ব্যাংক গ্রোথ ফান্ড
এই ফান্ডের প্রাথমিক আকার ২৫ কোটি টাকা। উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান মিডল্যান্ড ব্যাংক পিএলসি বিনিয়োগ করবে ২.৫ কোটি টাকা এবং বাকি ২২.৫ কোটি টাকা আইপিওর মাধ্যমে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হবে।
ফান্ডটির সম্পদ ব্যবস্থাপক মিডল্যান্ড ব্যাংক অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড, ট্রাস্টি সন্ধানী লাইফ ইন্স্যুরেন্স এবং কাস্টোডিয়ান কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলন পিএলসি।
২. মিডল্যান্ড ব্যাংক ব্যালেন্সড ফান্ড
২৫ কোটি টাকা আকারের এই ফান্ডেও উদ্যোক্তা হিসেবে মিডল্যান্ড ব্যাংক ২.৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে। অবশিষ্ট অর্থ সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। সম্পদ ব্যবস্থাপক, ট্রাস্টি ও কাস্টোডিয়ান আগের ফান্ডের মতোই নির্ধারিত হয়েছে।
৩. সন্ধানী এএমএল এসএলএফএল শরীয়াহ ফান্ড
ইসলামী শরীয়াহভিত্তিক এই ফান্ডের আকারও ২৫ কোটি টাকা। উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান সন্ধানী লাইফ ফিন্যান্স লিমিটেড দেবে ২.৫ কোটি টাকা এবং বাকি ২২.৫ কোটি টাকা আইপিওর মাধ্যমে সংগ্রহ করা হবে।
ফান্ডটির সম্পদ ব্যবস্থাপক সন্ধানী অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড, ট্রাস্টি বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি (বিজিআইসি) পিএলসি এবং কাস্টোডিয়ান হিসেবে থাকবে কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলন পিএলসি।
প্রতিটি ফান্ডের ইউনিটের অভিহিত মূল্য ১০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাজার শক্তিশালী করতে কমিশনের প্রত্যাশা
বিএসইসি মনে করে, নেগেটিভ ইকুইটি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সময় বাড়ানোর এই সিদ্ধান্ত মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক ভিত মজবুত করবে। পাশাপাশি নতুন মিউচুয়াল ফান্ডগুলো বাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য নিরাপদ বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করবে।


