আইপিও সহজ করার উদ্যোগে বিএসইসি, নতুন কোম্পানি আসার গতি বাড়বে

সময়: সোমবার, জানুয়ারি ১৯, ২০২৬ ৭:৫১:৫১ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: সাম্প্রতিক আইনগত সংস্কারের ফলে শেয়ারবাজারে নতুন কোম্পানির তালিকাভুক্তি প্রক্রিয়া—বিশেষ করে আইপিও (ইনিশিয়াল পাবলিক অফারিং)—আগের তুলনায় অনেক সহজ ও কার্যকর হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ। রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিএসইসি ভবনে শেয়ারবাজারের অংশীজনদের সঙ্গে আয়োজিত পঞ্চম মাসিক সমন্বয় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

সভায় বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, বাজারের কাঠামোকে শক্তিশালী করা এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার করাই বর্তমানে কমিশনের প্রধান অগ্রাধিকার। তিনি জানান, ২০২৫ সালে কমিশন তিনটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রক সংস্কার সম্পন্ন করেছে। এসব সংস্কারের মধ্যে রয়েছে মার্জিন রুলস, মিউচুয়াল ফান্ড রুলস এবং পাবলিক অফার অব ইক্যুইটি সিকিউরিটিজ রুলস। তাঁর মতে, এসব পরিবর্তন শেয়ারবাজারের দীর্ঘদিনের কাঙ্ক্ষিত সংস্কারের বড় একটি অংশ পূরণ করেছে।

আইপিওকে শেয়ারবাজারের ‘হৃৎপিণ্ড’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নতুন বিধিবিধানের ফলে দীর্ঘদিনের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা অনেকটাই দূর হয়েছে। একই সঙ্গে তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়া আগের তুলনায় আরও স্বচ্ছ, সময়োপযোগী ও কার্যকর হয়েছে, যা ভবিষ্যতে ভালো মানের কোম্পানিকে বাজারে আসতে উৎসাহিত করবে।

সমন্বয় সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ও শেয়ারবাজার শক্তিশালীকরণ কমিটির চেয়ারম্যান আনিসুজ্জামান চৌধুরী। তিনি বলেন, শেয়ারবাজারের কাঠামোগত সমস্যাগুলো দূর করতে সব অংশীজনকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। বিএসইসির এ ধরনের অংশীজনভিত্তিক আলোচনা উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, নিয়মিত সংলাপের মাধ্যমেই প্রকৃত সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে বাস্তবভিত্তিক সমাধান বের করা সম্ভব। একই সঙ্গে তিনি দ্রুত চলমান সংকট কাটিয়ে উঠে একটি দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন রূপরেখা বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেন।

সভায় আগামী পাঁচ বছরের জন্য শেয়ারবাজার উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। আলোচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে ছিল—নতুন আর্থিক পণ্যের প্রবর্তন, ই-কেওয়াইসি ব্যবহারের মাধ্যমে দ্রুত বিনিয়োগকারী অন্তর্ভুক্তি, অনলাইনে বিও হিসাব খোলার সুবিধা, শক্তিশালী কমোডিটি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠা এবং সরকারি ও বহুজাতিক কোম্পানির তালিকাভুক্তি। পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন জোরদার, সিসিবিএল-এর কার্যক্রম শুরু এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে বাজার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ডিজিটাল সংযোগ বাড়ানোর বিষয়টিও গুরুত্ব পায়।

এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন Dhaka Stock Exchange-এর চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম, সিসিবিএল চেয়ারম্যান ওয়াহিদ-উজ-জামান, ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ডিবিএ) সভাপতি সাইফুল ইসলাম এবং ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিরঞ্জন চন্দ্র দেবনাথ। এছাড়া মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন ও সিডিবিএল-এর শীর্ষ কর্মকর্তারাও সভায় উপস্থিত থেকে বিনিয়োগ শিক্ষা কার্যক্রম বিস্তৃত করা এবং মার্চেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রমের পরিধি বাড়ানোর বিষয়ে একমত পোষণ করেন।

Share
নিউজটি ৬ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged