রেস অ্যাসেটের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং সন্দেহ, তদন্তে দুদক-এনবিআর

সময়: বুধবার, ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬ ৫:৪৮:২৯ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ছয়টি মিউচ্যুয়াল ফান্ডের অর্থ অনিয়মের মাধ্যমে আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান Race Asset Management PLC-এর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে Bangladesh Securities and Exchange Commission (বিএসইসি)।

সংস্থাটির নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে ভুয়া অগ্রিম আয়কর প্রদর্শনের মাধ্যমে প্রায় ৯ কোটি ৬৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় বিস্তারিত তদন্তের জন্য সম্প্রতি Anti-Corruption Commission (দুদক) ও National Board of Revenue (এনবিআর)-কে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়েছে বিএসইসি।

রেস অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ১২টি ফান্ডের মধ্যে ৬টিতে এই আর্থিক অসঙ্গতি পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট ফান্ডগুলো হলো— IFIC Bank First Mutual Fund, First Janata Bank Mutual Fund, First Bangladesh Fixed Income Fund, Trust Bank First Mutual Fund, EBL First Mutual Fund এবং EXIM Bank First Mutual Fund।

আয়কর আইন-২০২৩ অনুযায়ী মিউচ্যুয়াল ফান্ডের আয় সম্পূর্ণ করমুক্ত হলেও এসব ফান্ডের ব্যালেন্স শিটে বিপুল অঙ্কের অর্থ অগ্রিম আয়কর হিসেবে দেখানো হয়েছে, যা নিরীক্ষকদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে।

বিএসইসির অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, ২০১১-২০১২ অর্থবছর থেকেই সরকার মিউচ্যুয়াল ফান্ডের আয় করমুক্ত ঘোষণা করে। এনবিআরের জারি করা বিভিন্ন পরিপত্র ও এসআরওতেও এ বিষয়টি স্পষ্ট রয়েছে। তবুও রেস অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট করমুক্ত আয়ের বিপরীতে ৯ কোটি ৬৮ লাখ টাকা অগ্রিম আয়কর পরিশোধের দাবি করলেও এর পক্ষে কোনো ব্যাংক সনদ, হিসাব বিবরণী বা চালানের কপি দাখিল করতে পারেনি। বরং মাত্র ২৮ লাখ ১৮ হাজার টাকা রিফান্ডের আবেদনসংক্রান্ত কিছু কাগজপত্র জমা দিয়ে দায় এড়ানোর চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

নিয়ন্ত্রক সংস্থার মতে, করমুক্ত আয়ের বিপরীতে কাল্পনিক অগ্রিম আয়কর দেখানো শুধু বিনিয়োগকারীদের স্বার্থের পরিপন্থী নয়, বরং এর মাধ্যমে অর্থ পাচারের মতো গুরুতর অপরাধ সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে। অর্থ কোথায় সরানো হয়েছে এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত—তা খতিয়ে দেখতে দুদক ও এনবিআরের চেয়ারম্যানদের কাছে পাঠানো চিঠিতে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বিএসইসি জানিয়েছে, পুঁজিবাজারে স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তারা ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে। আর্থিক প্রতিবেদনে অসংগতি ও যথাযথ প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হওয়ায় বিষয়টি এখন উচ্চপর্যায়ের তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও কমিশনের পক্ষ থেকে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।

Share
নিউজটি ৬ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged