নিজস্ব প্রতিবেদক: ২০২৪ সালে শেয়ারবাজারে অভিষেক হওয়া তিন কোম্পানি—এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ, টেকনো ড্রাগ ও বেস্ট হোল্ডিং—এর মধ্যে এক বছরের মাথায় দেখা দিয়েছে চরম বৈষম্য। বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে প্রাথমিক শেয়ার বিক্রির সময় কাট-অফ মূল্য নির্ধারণ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য শেয়ার ছাড়ার পর এখন কোম্পানিগুলোর অবস্থান যেন আকাশ-পাতাল।
প্রাথমিক শেয়ার বিক্রির সময় এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজের কাট-অফ মূল্য ছিল ৫০ টাকা, যেখানে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা শেয়ার পেয়েছেন ২০ টাকায়। টেকনো ড্রাগের কাট-অফ ছিল ৩৪ টাকা (সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য ২৪ টাকা) এবং বেস্ট হোল্ডিংয়ের কাট-অফ ছিল ৩৫ টাকা (সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য ২৪ টাকা)। তবে তালিকাভুক্তির পর তিন কোম্পানির পারফরম্যান্সের চিত্র পুরোপুরি ভিন্ন।
ডিভিডেন্ড ও ক্যাটাগরি
ডিভিডেন্ড ঘোষণায় ধারাবাহিকতা দেখিয়েছে এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ। ২০২৪ অর্থবছরে ১০ শতাংশ ও ২০২৫ অর্থবছরেও ১০ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। টেকনো ড্রাগও ইতিবাচক ধারা ধরে রেখেছে—২০২৪ সালে ১২ শতাংশ এবং ২০২৫ সালে ১০ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে।
তবে বেস্ট হোল্ডিং ২০২৪ সালে ১০ শতাংশ ডিভিডেন্ড দিলেও ২০২৫ অর্থবছরের ডিভিডেন্ড এখনও ঘোষণা করেনি। নির্ধারিত সময়ে ডিভিডেন্ড না দেওয়া এবং আর্থিক প্রতিবেদন হালনাগাদ না রাখায় কোম্পানিটির শেয়ার ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে অবনমিত হয়েছে। অপর দুই কোম্পানি নিয়মিত ডিভিডেন্ড ও আর্থিক প্রতিবেদন দাখিল করায় ‘এ’ ক্যাটাগরিতে লেনদেন অব্যাহত রেখেছে।
এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ: শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি
চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর’২৫) এশিয়াটিকের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) দাঁড়িয়েছে ১ টাকা ২৪ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ের ২৪ পয়সার তুলনায় প্রায় পাঁচগুণ বেশি। একই সময়ে শেয়ারপ্রতি ক্যাশ ফ্লো বেড়ে ২ টাকা ২ পয়সা হয়েছে (আগের বছর ছিল ৬০ পয়সা) এবং সম্পদ মূল্য (এনএভি) বেড়ে ৫৫ টাকা ৩৩ পয়সায় উন্নীত হয়েছে।
দ্বিতীয় প্রান্তিকেও (অক্টোবর-ডিসেম্বর’২৫) ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ৩৪ পয়সা, যা আগের বছরের ৭২ পয়সার চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। প্রথম দুই প্রান্তিক মিলিয়ে (জুলাই-ডিসেম্বর’২৫) কোম্পানিটির মোট ইপিএস দাঁড়িয়েছে ২ টাকা ৫৮ পয়সা, আগের বছর একই সময়ে যা ছিল ৯৬ পয়সা। ছয় মাসে ক্যাশ ফ্লো বেড়ে ৪ টাকা ১ পয়সা হয়েছে (আগের বছর ছিল ৮৭ পয়সা) এবং সম্পদ মূল্য বেড়ে ৫৬ টাকা ৭ পয়সায় পৌঁছেছে। শক্তিশালী আয় ও নগদ প্রবাহ কোম্পানির মৌলভিত্তি মজবুত করছে।
টেকনো ড্রাগ: মিশ্র চিত্র
টেকনো ড্রাগের পারফরম্যান্সে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর’২৫) ইপিএস কমে ৪৭ পয়সা হয়েছে, আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ৬৩ পয়সা। একই সময়ে ক্যাশ ফ্লো কমে ১৫ পয়সা হয়েছে (আগের বছর ছিল ২৩ পয়সা)।
দ্বিতীয় প্রান্তিকেও (অক্টোবর-ডিসেম্বর’২৫) ইপিএস কমে ৪০ পয়সা হয়েছে (আগের বছর ছিল ৪৮ পয়সা)। প্রথম দুই প্রান্তিক মিলিয়ে মোট ইপিএস দাঁড়িয়েছে ৮৭ পয়সায়, আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ১ টাকা ৮ পয়সা। তবে ইতিবাচক দিক হলো—ছয় মাসে ক্যাশ ফ্লো বেড়ে ১ টাকা ১১ পয়সা হয়েছে, যা আগের বছরের ১৯ পয়সার তুলনায় অনেক বেশি। সম্পদ মূল্য বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১ টাকা ৮ পয়সায় (পুনর্মূল্যায়িত)।
বেস্ট হোল্ডিং: অন্ধকারে বিনিয়োগকারীরা
চলতি অর্থবছরে কোনো প্রান্তিক আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি বেস্ট হোল্ডিং। ডিভিডেন্ড না দেওয়া ও আর্থিক তথ্য হালনাগাদ না থাকায় কোম্পানিটি ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে নেমে এসেছে, যা বিনিয়োগকারীদের জন্য সতর্ক সংকেত।
মূল্য আয় অনুপাত
মূল্য আয় অনুপাতের (পিই রেশিও) দিক থেকেও এশিয়াটিক এগিয়ে। কোম্পানিটির পিই রেশিও বর্তমানে ১১.৪৫, যেখানে টেকনো ড্রাগের পিই রেশিও ১৮.২৮। বেস্ট হোল্ডিংয়ের আর্থিক প্রতিবেদন হালনাগাদ না থাকায় তাদের পিই অনুপাত আপডেট হয়নি।


