ঢাকা ডাইংয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা, লোকসান ও ঋণের বোঝা চরমে

সময়: শনিবার, মার্চ ২১, ২০২৬ ৪:০৯:২৮ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারের তালিকাভুক্ত টেক্সটাইল খাতের প্রতিষ্ঠান ঢাকা ডাইং অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি লিমিটেড গুরুতর আর্থিক সংকটে জর্জরিত। কোম্পানিটির সর্বশেষ নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তার কথা স্বীকার করেছেন নিরীক্ষক।

২০২৪-২৫ অর্থবছরের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টানা লোকসান, বাড়তি ঋণের চাপ ও উৎপাদন সক্ষমতার অধিকাংশ অংশ অকেজো হয়ে পড়ায় কোম্পানির কার্যক্রম পরিচালনা নিয়ে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নিরীক্ষকের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ধারাবাহিক লোকসানের কারণে কোম্পানির জমাকৃত লোকসানের (রিটেইনড লস) পরিমাণ বেড়েছে, যা তার মূলধন কাঠামোকে দুর্বল করে দিয়েছে। একই সঙ্গে কোম্পানির দীর্ঘমেয়াদি ও স্বল্পমেয়াদি ঋণের একটি বড় অংশ ইতোমধ্যে পরিশোধযোগ্য হয়ে পড়েছে বা খুব শিগগিরই পরিশোধের সময়সীমা শেষ হবে। ফলে কোম্পানির তারল্য সংকট আরও চরম আকার ধারণ করেছে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, কোম্পানির স্থাপিত উৎপাদন সক্ষমতার একটি বড় অংশ অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। উৎপাদন স্থবিরতা ও সীমিত কার্যক্রমের কারণে কারখানার বিশাল অংশ অলস রয়েছে, যা ব্যবসার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

এ অবস্থায় নিরীক্ষক প্রতিষ্ঠান কোম্পানিটির ভবিষ্যৎ ব্যবসা পরিচালনার সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে, ‘গোয়িং কনসার্ন’ হিসেবে টিকে থাকা নিয়ে উল্লেখযোগ্য অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

গত কয়েক বছর ধরে লোকসানের বৃত্তে ঘুরপাক খাচ্ছে টেক্সটাইল খাতের এই কোম্পানি। ২০২২-২৩ অর্থবছরের পর থেকে কোনো ডিভিডেন্ড দিতে পারেনি ঢাকা ডাইং। ফলে শেয়ারবাজারে কোম্পানিটির শ্রেণি অবনমন হয়ে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে নেমে গেছে। শেয়ারবাজারে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে সাধারণত উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ কোম্পানিগুলোকে রাখা হয়, যারা সময়মতো ডিভিডেন্ড ঘোষণা বা বার্ষিক সাধারণ সভা আয়োজনে ব্যর্থ হয়।

চলতি অর্থবছরে কোম্পানির আর্থিক চাপ আরও বেড়েছে। ২০২৬ অর্থবছরের প্রথমার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর) ঢাকা ডাইং ৩৭২ কোটি ২০ লাখ টাকা লোকসানের কথা জানিয়েছে, যা আর্থিক অবস্থার ভয়াবহ অবনতির ইঙ্গিত দেয়। এই সময়ে কোম্পানির টার্নওভার আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪১ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৮ কোটি টাকায়, যেখানে আগের বছর একই সময়ে টার্নওভার ছিল ১৮ কোটি ২০ লাখ টাকা।

এ সময়ে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি লোকসান (ইপিএস) বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪২ টাকা ৭১ পয়সায়, যা কোম্পানিটির আর্থিক অবনতির গভীরতা স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তুলেছে।

Share
নিউজটি ৪ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged