নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের পুঁজিবাজারকে আরও গতিশীল, স্থিতিশীল এবং বিনিয়োগবান্ধব করে গড়ে তুলতে ব্যাপক পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। জাতীয় সংসদে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
সোমবার স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদ অধিবেশনে নোয়াখালী-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফখরুল ইসলামের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন।
অর্থমন্ত্রী জানান, দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের একটি কার্যকর উৎস হিসেবে দেশের শেয়ারবাজারকে গড়ে তুলতে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) কাজ করছে। এ লক্ষ্যে আইনি সংস্কার, নতুন আর্থিক পণ্য সংযোজন এবং বাজারে স্বচ্ছতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, বাজারের গভীরতা বাড়ানো এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। এজন্য মৌলভিত্তি শক্তিশালী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানিগুলোকেও ধীরে ধীরে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের জন্য বাজারকে আরও আকর্ষণীয় করতে নতুন ধরনের আর্থিক পণ্য চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। এর মধ্যে রয়েছে শক্তিশালী বন্ড মার্কেট গঠন, এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ড (ইটিএফ), ইসলামিক বন্ড বা সুকুক এবং গ্রিন বন্ড চালু করা।
পুঁজিবাজারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বড় ধরনের আইনি সংস্কার প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে। অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বিএসইসি আইন ২০২৫’ প্রণয়নের কাজ এগিয়ে চলছে। পাশাপাশি ‘ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড আইন-২০২৬’ এবং ‘হুইসেলব্লোয়ার সুরক্ষা বিধিমালা ২০২৬’ প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া কর্পোরেট খাতে সুশাসন নিশ্চিত করতে ‘কর্পোরেট গভর্নেন্স রুলস ২০২৬’ চূড়ান্ত করার কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। বাজারে কারসাজি প্রতিরোধে তদন্ত ও এনফোর্সমেন্ট কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে বলেও জানান তিনি।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, পুঁজিবাজারকে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে সম্পূর্ণ ডিজিটাইজেশনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, যাতে বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে বিনিয়োগকারীরা সহজে লেনদেনে অংশ নিতে পারেন।
পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের সচেতনতা বাড়াতে শিক্ষা কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা বাস্তবায়িত হলে দেশে বিনিয়োগ সংস্কৃতি আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।


