আইডিআরএ নিয়ম ভঙ্গ, পরিচালকদের শেয়ার কম—অগ্রণী ইন্স্যুরেন্সে কোয়ালিফাইড মতামত

সময়: বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ১৬, ২০২৬ ১:২৪:৫৪ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক :  পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত অগ্রণী ইন্স্যুরেন্স পিএলসির ২০২৫ সালের আর্থিক প্রতিবেদন নিয়ে নিরীক্ষকের প্রতিবেদনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অসঙ্গতি তুলে ধরা হয়েছে। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে সমাপ্ত অর্থবছরের অডিট রিপোর্টে ‘কোয়ালিফাইড অপিনিয়ন’ দেওয়ার ভিত্তি এবং ‘এমফ্যাসিস অব ম্যাটার’ অনুচ্ছেদে এসব বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে।

মূলধন ও শেয়ারহোল্ডিং ঘাটতি:

নিরীক্ষকের প্রতিবেদন বলছে, কোম্পানির পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ ৩৬ কোটি ১ লাখ ৮৬ হাজার ৯৮০ টাকা। অথচ নন-লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির জন্য স্পন্সর ও পরিচালকদের সম্মিলিতভাবে ন্যূনতম ৬০ শতাংশ শেয়ার ধারণের বাধ্যবাধকতা থাকলেও অগ্রণী ইন্স্যুরেন্সের ক্ষেত্রে তা মাত্র ২৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ, যা সরাসরি নিয়ম লঙ্ঘন। একইসঙ্গে নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরএ-র নির্দেশনা অনুযায়ী কোম্পানির ন্যূনতম ৪০ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধন থাকা প্রয়োজন হলেও বর্তমান অবস্থায় তা এখনও সেই সীমার অনেক নিচে রয়েছে।

সম্পদ ব্যবস্থাপনায় ঘাটতি:

কোম্পানির সম্পদ ব্যবস্থাপনা নিয়েও গুরুতর পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়েছে। নিরীক্ষক জানান, সম্পত্তি, প্ল্যান্ট ও যন্ত্রপাতির (পিপিই) জন্য কোনো পূর্ণাঙ্গ স্থায়ী সম্পদের রেজিস্টার সংরক্ষণ করা হয়নি এবং সম্পদগুলো সঠিকভাবে চিহ্নিত করার জন্য ইউনিক কোডও দেওয়া হয়নি, যা আন্তর্জাতিক হিসাবমান (IAS-16) অনুসরণে ঘাটতি নির্দেশ করে। যদিও ব্যবস্থাপনা একটি তালিকা সরবরাহ করেছে এবং প্রধান কার্যালয়ের সম্পদের অস্তিত্ব আংশিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়েছে।

এমফ্যাসিস অব ম্যাটার অংশে যা বলা হয়েছে:

‘এমফ্যাসিস অব ম্যাটার’ অংশে নিরীক্ষক উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের জন্য ঘোষিত স্টক ডিভিডেন্ডের মাধ্যমে কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন প্রায় ২ কোটি ৩৮ লাখ টাকা বাড়িয়ে ৩৬ কোটি টাকার বেশি করা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নথি রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ (RJSC)-এ জমা দেওয়া হলেও এখনও শিডিউল-১০ ও ফর্ম-১২ এর অনুমোদন পাওয়া যায়নি। তবে এই প্রসঙ্গে নিরীক্ষকের মতামতে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি।

সহযোগী প্রতিষ্ঠানের আর্থিক বিবরণীতে সংশোধন:

সহযোগী প্রতিষ্ঠান অগ্রণী ইন্স্যুরেন্স সিকিউরিটিজ লিমিটেডের আর্থিক বিবরণীতেও একটি সংশোধনের বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২১ সালে ১ কোটি টাকার একটি ব্যয় ভুলভাবে রাজস্ব ব্যয় হিসেবে দেখানো হয়েছিল, যা পরে মূলধনী ব্যয় হিসেবে পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক হিসাবমান (IAS-8) অনুসরণ করে এই সংশোধন আনা হয়েছে। এর ফলে পূর্ববর্তী আর্থিক তথ্য, নিট সম্পদ মূল্য (NAV) ও শেয়ারপ্রতি আয়ে (EPS) সমন্বয় এসেছে।

বাজার সংশ্লিষ্টদের পর্যবেক্ষণ:

নিরীক্ষকের এই পর্যবেক্ষণগুলো অগ্রণী ইন্স্যুরেন্সের আর্থিক কাঠামো, নিয়ন্ত্রক অনুবর্তিতা ও অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনায় উন্নতির জরুরি প্রয়োজনীয়তার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

Share
নিউজটি ২৬ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged