অস্থিরতার মাঝেও শেয়ারবাজারে বাড়ছে বিনিয়োগকারী উপস্থিতি

সময়: বুধবার, এপ্রিল ১৫, ২০২৬ ১১:১৯:১৭ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশের শেয়ারবাজারে অস্থিরতা দেখা গেলেও প্রতিনিয়ত বাড়ছে বিনিয়োগকারীদের সংখ্যা। চলতি এপ্রিল মাসে প্রতি কার্যদিবসে গড়ে বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) হিসাব বেড়েছে ৩১৭টি করে। এই বিও হিসাবের মধ্যে যেমন স্থানীয় বিনিয়োগকারীরা রয়েছেন, তেমনি বিদেশি ও প্রবাসীরাও আছেন। অর্থাৎ স্থানীয় ও বিদেশি উভয় শ্রেণির বিনিয়োগকারীই বাড়ছে।

চলতি মাসের প্রথম ১৪ দিনে (৯ কার্যদিবস) শেয়ারবাজারে বিও হিসাব বেড়েছে ২ হাজার ৮৫৬টি। প্রতি কার্যদিবসে গড়ে হিসাব বেড়েছে ৩৭১টির বেশি। এর মধ্যে বিদেশি ও প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাব বেড়েছে ২৬টি—প্রতি কার্যদিবসে গড়ে ৩টি করে। আর স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাব বেড়েছে ২ হাজার ৭৭৭টি, যা প্রতিদিন গড়ে ৩০৯টি।

বিও হলো শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের জন্য ব্রোকারেজ হাউস বা মার্চেন্ট ব্যাংকে বিনিয়োগকারীর খোলা হিসাব। এই হিসাবের মাধ্যমেই লেনদেন করা সম্ভব। বিও হিসাব রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করে সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল)।

সিডিবিএলের তথ্য অনুযায়ী, ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত শেয়ারবাজারে মোট বিও হিসাবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬ লাখ ৫৭ হাজার ৩১৮টি। মার্চ শেষে যা ছিল ১৬ লাখ ৫৪ হাজার ৪৬২টি। বর্তমানে বিদেশি ও প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের নামে বিও হিসাব আছে ৪৩ হাজার ২২৬টি, যা মার্চ শেষে ছিল ৪৩ হাজার ২০০টি। এপ্রিলের ১৪ দিনে বিদেশি ও প্রবাসীদের হিসাব বেড়েছে ২৬টি।

দেড় মাসের ব্যবধানে (ফেব্রুয়ারি শেষ থেকে এপ্রিলের ১৪ দিন) বিদেশি ও প্রবাসীদের বিও হিসাব বেড়েছে ৮৪টি। তবে দীর্ঘদিন ধরে ধারাবাহিকভাবে দেশের শেয়ারবাজারে এ শ্রেণির বিনিয়োগকারীর সংখ্যা কমছিল। ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে বিদেশি ও প্রবাসী বিনিয়োগকারীরা ধারাবাহিকভাবে শেয়ারবাজার ছাড়তে থাকেন, যা চলতি বছরের প্রথম দুই মাসেও অব্যাহত ছিল।

২০২৩ সালের ২৯ অক্টোবর বিদেশি ও প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের নামে বিও হিসাব ছিল ৫৫ হাজার ৫১২টি। সেখান থেকে ধারাবাহিকভাবে কমে চলতি বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি তা ৪৩ হাজার ১০১টিতে নেমে আসে—অর্থাৎ কমেছে ১২ হাজার ৪১১টি। এখন আবার ফিরতে দেখা যাচ্ছে বিদেশি ও প্রবাসীদের। তবে ২০২৩ সালের তুলনায় এখনো তাদের বিও হিসাব ১২ হাজার ২৮৬টি কম রয়েছে।

স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের চিত্র

বিদেশিদের পাশাপাশি বাড়ছে স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের সংখ্যাও। সিডিবিএল সূত্র অনুযায়ী, বর্তমানে দেশি বিনিয়োগকারীদের নামে বিও হিসাব আছে ১৫ লাখ ৯৫ হাজার ৯৯৯টি, যা মার্চ শেষে ছিল ১৫ লাখ ৯৩ হাজার ২২২টি। ২০২৫ সাল শেষে ছিল ১৫ লাখ ৭৯ হাজার ২৩টি। অর্থাৎ চলতি বছরে স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাব বেড়েছে ১৬ হাজার ৯৭৬টি।

তবে এর আগে বিপুল সংখ্যক বিনিয়োগকারী শেয়ারবাজার ছেড়েছেন। ২০২৪ সালের শুরুতে বিও হিসাব ছিল ১৭ লাখ ৭৩ হাজার ৫৫১টি। বর্তমানে যা ১৬ লাখ ৫৭ হাজার ৩১৮টি—অর্থাৎ কমেছে এক লাখ ১৬ হাজার ২৩৩টি।

নারী-পুরুষ উভয়ের বিও হিসাব বাড়ছে

বর্তমানে পুরুষ বিনিয়োগকারীদের নামে বিও হিসাব আছে ১২ লাখ ৪৭ হাজার ৫০৬টি। গত বছর শেষে যা ছিল ১২ লাখ ৩৩ হাজার ৭৪৩টি। চলতি বছরে পুরুষ বিনিয়োগকারীদের হিসাব বেড়েছে ১৩ হাজার ৭৬৩টি। এর মধ্যে এপ্রিল মাসে বেড়েছে ২ হাজার ৩০৪টি।

নারী বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাব বর্তমানে ৩ লাখ ৯১ হাজার ৭১৯টি। ২০২৫ সাল শেষে যা ছিল ৩ লাখ ৮৮ হাজার ৮২৯টি। চলতি বছরে নারী বিনিয়োগকারীদের হিসাব বেড়েছে ২ হাজার ৮৯০টি। এপ্রিল মাসে বেড়েছে ৪৯৯টি।

কোম্পানি ও যৌথ হিসাবেও প্রবৃদ্ধি

চলতি বছরে কোম্পানির বিও হিসাব বেড়েছে ২৯০টি। বর্তমানে কোম্পানি বিও হিসাব রয়েছে ১৮ হাজার ৯৩টি, যা ২০২৫ সাল শেষে ছিল ১৭ হাজার ৮০৩টি। এপ্রিল মাসে বেড়েছে ৫৩টি।

একক নামে বিও হিসাব বর্তমানে ১১ লাখ ৯৭ হাজার ৮৩২টি—চলতি বছরে বেড়েছে ১৫ হাজার ১১৭টি। যৌথ নামে বিও হিসাব আছে ৪ লাখ ৪১ হাজার ৩৯৩টি, যা ২০২৫ সাল শেষে ছিল ৪ লাখ ৩৯ হাজার ৮৫৭টি—চলতি বছরে বেড়েছে এক হাজার ৫৩৬টি।

 

Share
নিউজটি ৩ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged