ডিএসইকে তাৎক্ষণিক পরিদর্শনের ক্ষমতা দিতে সম্মতি বিএসইসির

সময়: রবিবার, এপ্রিল ২৬, ২০২৬ ১১:১৪:০৮ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর কার্যক্রমে অনিয়ম দ্রুত শনাক্ত করতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই) তাৎক্ষণিক পরিদর্শনের ক্ষমতা দেওয়ার বিষয়ে নীতিগত সম্মতি দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

ডিএসইর প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে প্রচলিত বিধান অনুযায়ী, কোনো তালিকাভুক্ত কোম্পানিতে পরিদর্শন চালাতে হলে ডিএসইকে আগে কমিশনের অনুমতি নিতে হয়, যা অনেক ক্ষেত্রে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার পথে বাধা সৃষ্টি করে।

ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আমিন জানিয়েছেন, কমিশন নীতিগতভাবে এমন বিধান বাতিলে সম্মত হয়েছে, যার ফলে প্রয়োজন হলে এক্সচেঞ্জ সরাসরি যেকোনো সময়ে কোম্পানিতে পরিদর্শন পরিচালনা করতে পারবে।

বর্তমান লিস্টিং রেগুলেশনের ৫৪(১) ধারায় বলা আছে, বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে প্রয়োজন মনে করলে কমিশনের পূর্বানুমোদন সাপেক্ষে ডিএসই তালিকাভুক্ত কোম্পানির কার্যক্রম পরিদর্শন করতে পারে এবং পরিদর্শনের ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে হয়। এই বিধানের কারণেই তাৎক্ষণিকভাবে পরিদর্শন পরিচালনা করা সম্ভব হয় না।

নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে এই সীমাবদ্ধতা দূর হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। নুজহাত আমিন আরও জানান, প্রাথমিকভাবে জরুরি ভিত্তিতে পরিদর্শনের অনুমোদন দ্রুত দেওয়া হবে এবং পরবর্তীতে বিধানটি সম্পূর্ণভাবে সংশোধন করে ডিএসইকে স্বাধীনভাবে পরিদর্শনের ক্ষমতা দেওয়া হবে। এ বিষয়ে শিগগিরই আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা জারি হতে পারে।

এদিকে, নতুন ব্যবস্থার জন্য প্রস্তুতি শুরু করেছে ডিএসই। লিস্টিং রেগুলেশন সংশোধনের পর যেকোনো সময় পরিদর্শন পরিচালনার জন্য একটি কাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে। প্রতিটি পরিদর্শনের বিষয়ে কমিশনকে অবহিত করা হবে বলেও জানান তিনি।

বর্তমানে ডিএসই ব্রোকারেজ হাউজগুলোতে পূর্বানুমতি ছাড়াই পরিদর্শন করতে পারলেও গ্রাহকদের ব্যাংক হিসাব যাচাই করার সুযোগ না থাকায় কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে অসাধু ব্রোকারদের বিরুদ্ধে গ্রাহকের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে, যেখানে ভুয়া ব্যাংক স্টেটমেন্ট জমা দেওয়ার ঘটনাও রয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে ব্রোকারদের গ্রাহকদের ব্যাংক হিসাব যাচাইয়ের ক্ষমতাও ডিএসইকে দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলে মত দিয়েছেন ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক। এজন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি প্রয়োজন হবে এবং এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে আবেদন জানানো হবে।

তিনি আরও বলেন, এই ক্ষমতা প্রয়োগে যেন কোনো অপব্যবহার না হয়, সেজন্য একটি নিরাপদ ও নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।

সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে শেয়ারবাজারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়বে এবং বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ আরও সুরক্ষিত হবে।

Share
নিউজটি ৫ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged