বাজার সংস্কারে তিন স্তরের কর্মপরিকল্পনা নিয়েছে বিএসইসি

সময়: বৃহস্পতিবার, মে ১৪, ২০২৬ ১:৪০:৩৭ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশের শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। বাজারে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশিত ১৮০ দিনের কর্মসূচি এবং নির্বাচনি ইশতেহারের অংশ হিসেবেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিএসইসির পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম জানান, কমিশন ইতোমধ্যে বাজার সংস্কার, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থা, বিনিয়োগ শিক্ষা সম্প্রসারণ এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ শুরু করেছে। তিনি বলেন, সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পাশাপাশি শেয়ারবাজারে সুশাসন ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠাই এসব উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, তরুণ উদ্যোক্তাদের মধ্যে বিনিয়োগ শিক্ষা ছড়িয়ে দিতে দেশজুড়ে অনলাইন ও অফলাইন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে। এতে প্রশিক্ষিত উদ্যোক্তার সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি পুঁজিবাজার বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছে বিএসইসি।

এ ছাড়া কমিশনে যোগ্য, দক্ষ ও সৎ জনবল নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এর মাধ্যমে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়বে এবং বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে।

শেয়ারবাজার সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বাজারের কাঠামোগত দুর্বলতা দূর করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বিএসইসি মনে করছে, এসব সংস্কারের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী ও বিনিয়োগবান্ধব পুঁজিবাজার গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

একইসঙ্গে গত ১৫ বছরে শেয়ারবাজারে সংঘটিত বিভিন্ন অনিয়ম, কারসাজি ও জালিয়াতির ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগও রয়েছে। কমিশনের ভাষ্য, এতে বাজারে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা হবে এবং বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ ও আস্থা বাড়বে।

আগামী অর্থবছরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) নজরদারি ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা করেছে বিএসইসি। এ জন্য শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বিত সিস্টেম ইন্টিগ্রেশন করা হবে। কমিশনের মতে, এর ফলে বাজার কারসাজি, ইনসাইডার ট্রেডিং এবং অন্যান্য অনিয়ম দ্রুত শনাক্ত করা সহজ হবে।

বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় ‘ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড আইন, ২০২৬’ প্রণয়নের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এই আইনের আওতায় বিভিন্ন কোম্পানির কাছে থাকা অদাবীকৃত লভ্যাংশ ও শেয়ার প্রকৃত বিনিয়োগকারীদের কাছে ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

স্টার্ট-আপ ও এসএমই খাতের কোম্পানিগুলোর জন্য ‘ডিজিটাল আইপিও এক্সপ্রেস’ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে সহজ ও দ্রুত প্রক্রিয়ায় ৩০ দিনের মধ্যে তালিকাভুক্তির সুযোগ দেওয়া হবে। একই সঙ্গে আবেদন থেকে অনুমোদন পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সম্পন্ন করা হবে।

শিক্ষার্থীদের মধ্যে আর্থিক সচেতনতা বাড়াতে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমে ব্যক্তিগত অর্থব্যবস্থা ও বিনিয়োগ শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছে কমিশন।

পাঁচ বছর মেয়াদি পরিকল্পনায় শক্তিশালী বন্ড ও ইক্যুইটি মার্কেট গড়ে তোলার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে করপোরেট বন্ড, সুকুক, গ্রিন বন্ড এবং এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ড (ইটিএফ) সম্প্রসারণে যুগোপযোগী আইন ও নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে টেকসই বন্ড কাঠামো উন্নয়নেও কাজ করছে কমিশন।

বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে ‘ফরেন পোর্টফোলিও ইনভেস্টমেন্ট (এফপিআই) অনবোর্ডিং পোর্টাল’ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি বিও হিসাব খোলা, মূলধন প্রত্যাবাসন এবং বিনিয়োগ প্রক্রিয়া ডিজিটাল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য শেয়ারবাজার ট্রাইব্যুনালকে আরও কার্যকর করার পরিকল্পনাও রয়েছে। একই সঙ্গে অনিয়মের তথ্য প্রকাশকারীদের সুরক্ষায় পৃথক হুইসেলব্লোয়ার বিধিমালা প্রণয়নের কাজও শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

বিএসইসি মনে করছে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের পুঁজিবাজারে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, বাজারের গভীরতা বৃদ্ধি, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

Share
নিউজটি ৫ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged