সংসদে অর্থমন্ত্রী: একীভূত হচ্ছে ৫ ইসলামী ব্যাংক, বাড়লো আমানত সুরক্ষার সীমা

সময়: মঙ্গলবার, জুন ৯, ২০২৬ ৭:৩৪:৫৬ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ব্যাংকিং খাত স্বাভাবিক করতে ও সুশাসন নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন কঠোর ও যুগান্তকারী উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এসব উদ্যোগের অংশ হিসেবে পাঁচটি সমস্যাপীড়িত ইসলামী ব্যাংককে একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি’ গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি আমানতকারীদের আস্থা বাড়াতে সুরক্ষিত আমানতের সীমা এক লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে দুই লাখ টাকা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৯ জুন) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফর রহমানের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এসব তথ্য জানান। লুৎফর রহমান জানতে চেয়েছিলেন, ব্যাংকিং খাতকে স্বাভাবিক করতে সরকার বিশেষ কোনো পদক্ষেপ নিয়েছে কি না এবং নিয়লে সেগুলো কী কী।

জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যাংকিং খাত স্বাভাবিক করতে সরকার একটি সুসংগঠিত ও বহুমাত্রিক রেজল্যুশন কাঠামো প্রতিষ্ঠা করেছে। এর আইনি ভিত্তি হিসেবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে ‘ব্যাংক রেজল্যুশন আইন ২০২৬’ কার্যকর করা হয়েছে। এই কাঠামোর আওতায় পাঁচটি সমস্যাগ্রস্ত ইসলামী ব্যাংককে একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি’ গঠন করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী এ পদক্ষেপটিকে উল্লেখযোগ্য বলে অভিহিত করেন।

তিনি আরও জানান, ‘আমানত সুরক্ষা আইন ২০২৬’-এর মাধ্যমে আমানতকারীদের সর্বোচ্চ সুরক্ষিত আমানতের পরিমাণ এক লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে দুই লাখ টাকা করা হয়েছে। আগে ফাইন্যান্স কোম্পানির আমানতকারীরা এই সুরক্ষার আওতার বাইরে থাকলেও এখন তাদেরও এর অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

খেলাপি ঋণ আদায় ও ঋণশৃঙ্খলা ফেরাতে গৃহীত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপগুলোর কথাও সংসদে তুলে ধরেন মন্ত্রী। সেগুলো হলো:

ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী ইচ্ছাকৃত খেলাপি শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বিআরপিডি সার্কুলার জারি করা হয়েছে। এছাড়া খেলাপি ও ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের তালিকা প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

ঋণের সর্বোচ্চ সীমা: একজন ঋণগ্রহীতা পুরো ব্যাংকিং খাত থেকে সর্বোচ্চ কত টাকা ঋণ নিতে পারবেন, তার সীমা নির্ধারণ করা হচ্ছে।

বন্ড ইস্যুর নির্দেশনা: এক হাজার কোটি টাকার বেশি বিশাল অঙ্কের অর্থায়নের ক্ষেত্রে ব্যাংকের ওপর চাপ কমাতে বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

রিট বাণিজ্য বন্ধে উদ্যোগ: খেলাপি ঋণগ্রহীতারা যেন উচ্চ আদালতে রিট করে ঋণ আদায় কার্যক্রম স্থগিত করতে না পারেন, সে লক্ষ্যে অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

অর্থ ঋণ আদালতে ব্যাংকার: অর্থ ঋণ আদালতের বিচারক প্যানেলে বা জুরি বোর্ডে অভিজ্ঞ ব্যাংকারদের অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

এএমসি গঠন: বেসরকারি খাতে অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি (এএমসি) প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন করা হচ্ছে।

ভালো গ্রাহকদের প্রণোদনা: যারা নিয়মিত ঋণ পরিশোধ করেন, তাদের চিহ্নিত করে প্রণোদনা দেওয়ার নীতিমালা হালনাগাদ করা হচ্ছে।

এডিআরে ঋণ আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা: বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির (এডিআর) মাধ্যমে আগামী ৩০ জুনের মধ্যে প্রতিটি ব্যাংকের মোট খেলাপি ঋণের ন্যূনতম ১ শতাংশ নগদ আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

শীর্ষ খেলাপি ও বিশেষ মনিটরিং: প্রতিটি ব্যাংকের শীর্ষ ২০ খেলাপি ঋণ আদায়ের অগ্রগতি নিয়মিত যাচাই করা হবে এবং যেসব ব্যাংকে ১০ শতাংশের বেশি খেলাপি ঋণ রয়েছে, তাদের জন্য বিশেষ মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে।

সবশেষে অর্থমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, একটি সুস্পষ্ট আইনি কাঠামো, স্বচ্ছ রেজল্যুশন প্রক্রিয়া এবং আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষার নিশ্চয়তা—এই তিনটি উপাদান একসঙ্গে ব্যাংকিং খাতে আমানতকারী ও অংশীজনদের আস্থা পুনরুদ্ধারে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

Share
নিউজটি ৬ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged