আর্থিক ঘাটতি পূরণে ৭ প্রতিষ্ঠানকে ২০২৭ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত সময় দিল বিএসইসি

সময়: সোমবার, অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ৭:১৯:২৩ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: নিট সম্পদের ঘাটতি পূরণ এবং সিকিউরিটিজ আইন ও বিধিবিধান পরিপালনের জন্য সাতটি ক্যাপিটাল মার্কেট সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠানকে আগামী ৩০ এপ্রিল ২০২৭ পর্যন্ত সময় দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। অন্যদিকে, আর্থিক সক্ষমতা ও বিভিন্ন মূল্যায়ন সূচকে সন্তোষজনক অবস্থানে থাকায় চারটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার অনুমতি দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিএসইসির চেয়ারম্যান মাসুদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিশনের ১ হাজার ৩৫তম জরুরি সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের লাইসেন্স বাতিলের প্রক্রিয়াধীন নয়টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অধীনস্থ ১২টি ক্যাপিটাল মার্কেট সাবসিডিয়ারি কোম্পানির আর্থিক ও আইনগত অবস্থা পর্যালোচনা করে কমিশন এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

পর্যাপ্ত নিট সম্পদ এবং বিভিন্ন মূল্যায়ন সূচকে সন্তোষজনক অবস্থানের কারণে চারটি সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার অনুমোদন দিয়েছে বিএসইসি।

এগুলোর মধ্যে দুটি স্টক ব্রোকার প্রতিষ্ঠান হলো—প্রিমিয়ার লিজিং সিকিউরিটিজ ব্রোকিং লিমিটেড ও অ্যাভিভা ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড। অন্য দুটি মার্চেন্ট ব্যাংকার প্রতিষ্ঠান হচ্ছে পিএলএফএস ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড এবং প্রাইম ফাইন্যান্স ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড।

কমিশনের পর্যালোচনায় প্রতিষ্ঠানগুলোর নিট সম্পদ পর্যাপ্ত এবং মূল্যায়ন সূচকে অবস্থান সন্তোষজনক হওয়ায় তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নিট সম্পদসহ বিভিন্ন আর্থিক মানদণ্ড এবং আইনগত বিধিবিধান পরিপালনে ঘাটতি থাকায় সাতটি প্রতিষ্ঠানকে তা সংশোধনের জন্য ২০২৭ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত সময় দিয়েছে কমিশন।

এই তালিকায় চারটি স্টক ব্রোকার প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এগুলো হলো—প্রিমিয়ার লিজিং সিকিউরিটিজ লিমিটেড, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং সিকিউরিটিজ লিমিটেড, ফারইস্ট স্টকস অ্যান্ড বন্ডস লিমিটেড এবং পিএফআই সিকিউরিটিজ লিমিটেড।

এ ছাড়া দুটি মার্চেন্ট ব্যাংকার প্রতিষ্ঠান—আইএল ক্যাপিটাল লিমিটেড ও জিএসপি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড এবং একটি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি—প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডকে একই সময়সীমার মধ্যে প্রয়োজনীয় ঘাটতি পূরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিএসইসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট সাতটি প্রতিষ্ঠানকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আর্থিক ঘাটতি নিরসনের পাশাপাশি প্রযোজ্য আইন ও বিধিবিধান পরিপালন নিশ্চিত করতে হবে। ফলে আগামী ৩০ এপ্রিলের মধ্যে প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এদিকে, এফএএস ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের নিট সম্পদের ঘাটতি পূরণ এবং প্রয়োজনীয় আইন ও বিধিবিধান পরিপালনের জন্য আগেই সময়সীমা নির্ধারণ করেছে বিএসইসি।

কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটিকে ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, অন্য সাতটি প্রতিষ্ঠানের জন্য ২০২৭ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করা হলেও এফএএস ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্টের ক্ষেত্রে পূর্বনির্ধারিত সময়সীমাই বহাল রয়েছে।

বিএসইসির এ সিদ্ধান্তের ফলে সংশ্লিষ্ট সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে আর্থিক সক্ষমতা ও আইনগত পরিপালন-সংক্রান্ত ঘাটতি সংশোধনের জন্য নির্দিষ্ট সময় দেওয়া হলো। একই সঙ্গে সন্তোষজনক আর্থিক অবস্থানে থাকা চারটি প্রতিষ্ঠানকে কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো আর্থিক ঘাটতি পূরণ এবং প্রয়োজনীয় বিধিবিধান পরিপালন করতে পারবে কি না, তা তাদের পরবর্তী কার্যক্রম ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার মূল্যায়নের ওপর নির্ভর করবে।

Share
নিউজটি ৩ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged