নিজস্ব প্রতিবেদক: সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে বিনিয়োগকারী ঝুয়াং লিফেংয়ের বিরুদ্ধে শুরু করা এনফোর্সমেন্ট কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে নিষ্পত্তি করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। কমিশনের প্রকাশিত পর্যালোচনা আদেশে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালের ৬ জানুয়ারি কারণ দর্শানো ও শুনানির নোটিশ জারির মধ্য দিয়ে ঝুয়াং লিফেংয়ের বিরুদ্ধে এ আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে শুনানির তারিখ পুনর্নির্ধারণ করে ১১ মার্চ করা হয়। প্রাইম ব্যাংক সিকিউরিটিজ লিমিটেডে বিও (বেনিফিশিয়ারি ওনার্স) হিসাবধারী এই বিনিয়োগকারী কমিশনের নোটিশের জবাবে লিখিত ব্যাখ্যা ও একটি সম্পূরক পত্র জমা দেন। পরে ২০ এপ্রিল অনুষ্ঠিত আনুষ্ঠানিক শুনানিতে উপস্থিত হয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন তিনি।
কমিশন জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয়বস্তু, সংশ্লিষ্ট তথ্য-উপাত্ত এবং বিনিয়োগকারীর লিখিত ও মৌখিক বক্তব্য পর্যালোচনা করে তাঁর বিরুদ্ধে চলমান আইনি কার্যক্রম শেষ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে আদেশে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, এ নিষ্পত্তির ফলে সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারী কোনো পক্ষের ক্ষতিসাধনের দায় কিংবা আইনগত বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি পাবেন না।
এদিকে, তৌফিকা ফুডস অ্যান্ড লাভেলো আইসক্রিম পিএলসির (লাভেলো আইসক্রিম) শেয়ারে কৃত্রিমভাবে দর বাড়ানো এবং সিরিজ ট্রেডিংয়ের অভিযোগে পৃথক একটি এনফোর্সমেন্ট আদেশে গত ১৩ অক্টোবর মোট ৩৫.৯২ লাখ টাকা জরিমানা করেছে বিএসইসি।
এ ঘটনায় জরিমানার আওতায় এসেছে মার্চেন্ট ব্যাংক সিবিসি ক্যাপিটাল অ্যান্ড ইকুইটি ম্যানেজমেন্ট, একটি করপোরেট প্রভিডেন্ট ফান্ড এবং তিনজন ব্যক্তি।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তদন্তে উঠে আসে, লিজ ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেডের মালিক ঝুয়াং লিফেংয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিও হিসাব ব্যবহার করে সিবিসি ক্যাপিটাল একটি সমন্বিত লেনদেন নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছিল। এই নেটওয়ার্কে প্রতিষ্ঠানটির পাশাপাশি লিজ ফ্যাশনের এমপ্লয়িজ কন্ট্রিবিউটরি প্রভিডেন্ট ফান্ড (ইসিপিএফ), কোম্পানিটির প্রধান অর্থ কর্মকর্তা এইচএম রুবাইয়াত, তাঁর স্ত্রী শায়লা আক্তার এবং ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (প্ল্যানিং) রাজন কুমার সাহার সম্পৃক্ততার তথ্য উঠে আসে।
ডিএসইর তদন্ত অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৬ মে থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত সময়ে লাভেলো আইসক্রিমের মোট শেয়ার লেনদেনের ২২.৩০ শতাংশ সম্পন্ন করেছিল সংশ্লিষ্ট সিন্ডিকেটটি।
তদন্তে ১৩টি সুনির্দিষ্ট ম্যাচড ট্রেড বা সমন্বিত লেনদেনের তথ্য পাওয়া যায়। এসব লেনদেনের মাধ্যমে চক্রটি ২ কোটি ২৪ লাখ টাকার বাস্তবায়িত মুনাফা এবং ১ কোটি ৯৫ লাখ টাকার অবাস্তবায়িত মুনাফা অর্জন করেছিল বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়।
তদন্তে উঠে আসা অনিয়মের ঘটনায় লিজ ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিজের এমপ্লয়িজ কন্ট্রিবিউটরি প্রভিডেন্ট ফান্ডকে (ইসিপিএফ) ১৪ লাখ ৬৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই ঘটনায় সিবিসি ক্যাপিটাল অ্যান্ড ইকুইটি ম্যানেজমেন্টকে ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানার নির্দেশ দেয় বিএসইসি।
এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে এইচএম রুবাইয়াতকে ৬ লাখ ৮২ হাজার টাকা, শায়লা আক্তারকে ৪ লাখ ৯৪ হাজার টাকা এবং রাজন কুমার সাহাকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের ওপর আরোপিত জরিমানার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৫ লাখ ৯২ হাজার টাকা। লাভেলো আইসক্রিমের শেয়ারে কৃত্রিম দরবৃদ্ধি ও সিরিজ ট্রেডিংয়ের অভিযোগে তদন্তের ভিত্তিতে এসব শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয় কমিশন।


