দুই ফান্ডের খসড়া প্রসপেক্টাস অনুমোদন

পাঁচ ফান্ডে লেনদেনের ধরন ও অর্থের উৎস অনুসন্ধানে বিএসইসি

সময়: সোমবার, অক্টোবর ২৬, ২০২৬ ৬:২৮:০৭ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে পাঁচটি মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটের দাম প্রভাবিত করা এবং অর্থের বিনিময়ে বিনিয়োগ পরামর্শ দেওয়ার অভিযোগে মো. আশরাফুল ইসলামের কর্মকাণ্ড অনুসন্ধানে নেমেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এ বিষয়ে তদন্ত করতে গত ১৩ অক্টোবর তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে আদেশ জারি করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

বিএসইসির আদেশ অনুযায়ী, আশরাফুলের পাঁচটি মিউচুয়াল ফান্ডে লেনদেনের ধরন, বিভিন্ন ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাঁর সংশ্লিষ্টতা, সমন্বিত লেনদেনের মাধ্যমে ইউনিটের দাম প্রভাবিত করার অভিযোগ এবং এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে কোনো আর্থিক সুবিধা নেওয়া হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখবে কমিটি। তদন্ত শেষ করে ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন ও সুপারিশ জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন বিএসইসির অতিরিক্ত পরিচালক সুলতানা পারভীন এবং সহকারী পরিচালক লামিয়া আক্তার ও মো. কামাল হোসেন।

পাঁচ মিউচুয়াল ফান্ডের লেনদেন তদন্তের আওতায়

বিএসইসির তদন্তের আওতায় থাকা পাঁচটি ফান্ড হলো—এক্সিম ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, ফিনিক্স ফাইন্যান্স ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, এমবিএল ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, প্রাইম ফাইন্যান্স ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড এবং আইসিবি এএমসিএল সোনালী ব্যাংক লিমিটেড ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড।

কমিশনের আদেশে বলা হয়েছে, এসব ফান্ডের ইউনিট কেনাবেচার সময়, লেনদেনের পরিমাণ, অর্থের উৎস এবং আশরাফুলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সুবিধাভোগী মালিকানা বা বিও হিসাব পরীক্ষা করা হবে। এসব হিসাব তিনি নিজে পরিচালনা করতেন, নাকি অন্য কেউ তাঁর সঙ্গে সমন্বয় করে লেনদেন করতেন, সেটিও যাচাই করবে তদন্ত কমিটি।

এ ছাড়া সমন্বিত, পারস্পরিক, চক্রাকার কিংবা পূর্বপরিকল্পিত লেনদেনের মাধ্যমে বাজারে কৃত্রিম লেনদেনের পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছিল কি না, অথবা ইউনিটের দাম অস্বাভাবিকভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা হয়েছিল কি না, তা অনুসন্ধান করা হবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিনিয়োগ পরামর্শের বিষয়টিও তদন্তে

তদন্তের অংশ হিসেবে আশরাফুলের ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রামসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হবে। বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে নির্দিষ্ট দামে ইউনিট কেনার পরামর্শ, মূল্যলক্ষ্যমাত্রা কিংবা লেনদেনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখবে কমিটি।

প্রয়োজনীয় নিবন্ধন বা অনুমোদন ছাড়াই তিনি বিনিয়োগ গবেষণা, বিশ্লেষণ কিংবা পরামর্শ দিয়েছেন কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় রাখা হয়েছে। পাশাপাশি তাঁর কাছে অপ্রকাশিত মূল্যসংবেদনশীল তথ্য ছিল কি না এবং তিনি বা তাঁর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কেউ এ ধরনের তথ্য আদান-প্রদান কিংবা ব্যবহার করেছেন কি না, তা যাচাই করা হবে।

ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হবে

তদন্তে ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানগুলোর সংশ্লিষ্টতার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশেষ করে উত্তরায় অবস্থিত দুটি ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানের শাখায় আশরাফুলের নিয়ন্ত্রণ বা প্রভাব ছিল কি না, পাশাপাশি অ্যারেনা সিকিউরিটিজ লিমিটেডের ভূমিকা কী ছিল, তা পরীক্ষা করা হবে।

এসব প্রতিষ্ঠান বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অনুমোদনহীন লেনদেন, মার্জিন সুবিধা কিংবা অন্য কোনো উপায়ে তাঁকে সহায়তা করেছিলেন কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখবে কমিটি।

এ ছাড়া আশরাফুল কিংবা তাঁর সহযোগীরা এসব লেনদেন থেকে কোনো মুনাফা বা আর্থিক সুবিধা পেয়েছেন কি না, তা হিসাব করে নির্ধারণ করতে বলা হয়েছে। তদন্তে সিকিউরিটিজ আইন, বিধিমালা, প্রবিধান অথবা নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশনা লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া যায় কি না, সেটিও যাচাই করবে কমিটি।

যেসব আইনের আওতায় তদন্ত

বিএসইসি জানিয়েছে, শেয়ারবাজার ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ বিবেচনায় ১৯৬৯ সালের সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অধ্যাদেশের ২১ ধারা এবং ১৯৯৩ সালের বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইনের ১৭এ ধারার আওতায় তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তবে তদন্তের আদেশে উল্লেখ করা অভিযোগগুলো এখনো প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়নি। আশরাফুল ইসলাম কিংবা অন্য কোনো ব্যক্তি সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘন করেছেন কি না, তা তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতেই নির্ধারণ করা হবে।

Share
নিউজটি ৩ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged