নিজস্ব প্রতিবেদক: বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে শেয়ারবাজারে যে মন্দা পরিস্থিতির সূচনা হয়েছিল, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তা থেকে উত্তরণের পথে অগ্রসর হচ্ছিল। ধারাবাহিক ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় সূচক ৬ হাজার পয়েন্টের কাছাকাছি পৌঁছেছিল। কিন্তু বাজারকে আরও স্থিতিশীল করতে কমিশন পরিবর্তন করে বর্তমান কমিশন গঠন করা হয়। তবে其结果 প্রত্যাশার বিপরীত হয়েছে। বাজারে কোনো উন্নতি হয়নি, বরং তা নিম্নমুখী趋势ে রয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সূচক ৫ হাজার পয়েন্টের নিচে নেমে যেতে পারে।
তারা জানান, বর্তমানে বাজার পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক। এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে অতি শিগগিরই সূচক ৫ হাজার পয়েন্টের নিচে নেমে যাবে—এতে কোনো সন্দেহ নেই। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বহু ক্ষেত্রে সাফল্য প্রদর্শন করেছেন। দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি সুদৃঢ় করতে তিনি আন্তরিক প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। শেয়ারবাজারের প্রতি তার গভীর আন্তরিকতা থেকেই কমিশন পরিবর্তন করেছিলেন। কিন্তু যে উদ্দেশ্যে কমিশন গঠন করা হয়েছিল, তা সফল হয়নি। এতে বর্তমান কমিশন বিতর্কের মুখে পড়েছে। ধারাবাহিক দরপতনের প্রতিবাদে বিনিয়োগকারীরা ইতোমধ্যে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন। বাজার অস্থিরতার জন্য বিনিয়োগকারীরা বর্তমান কমিশনকেই দায়ী করছেন।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকার শেয়ারবাজারকে আরও উন্নত ও শক্তিশালী করতে চেয়েছিল। কিন্তু বর্তমান কমিশন তা করতে পারেনি। বরং দিন যত যাচ্ছে বাজার পরিস্থিতি ততই অবনতি হচ্ছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রশ্ন উঠছে—বাজার নিয়ন্ত্রণে কেউ রয়েছেন কি না। তারা যদি বাজার নিয়ন্ত্রণে কী করতে হবে তা না জানেন, তবে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করা উচিত। বর্তমান কমিশনের কারণে বর্তমান সরকারের অন্যান্য সাফল্য ক্ষুণ্ন হচ্ছে এবং প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। এ বিষয়ে সরকারের ইতিবাচক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা উচিত। কারণ এ অবস্থা চলতে থাকলে বাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা সংকটও তলানীতে পৌঁছাবে। তাই বর্তমান কমিশন নিয়ে সরকারের ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
এদিকে, আজ (২৬ অক্টোবর) প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচকের পাশাপাশি টাকার অঙ্কে লেনদেন কমেছে। একই সঙ্গে লেনদেনে অংশগ্রহণকারী অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের দরও কমেছে।
বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, সোমবার সপ্তাহের দ্বিতীয় কর্মদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৩৩.০০ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৩৯৯.৫৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এদিন অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসইএস ৭.২৫ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৫৩.৪৩ পয়েন্টে এবং ডিএসই-৩০ সূচক ১০.৯৮ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ৯০.৭৪ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
আজ ডিএসইতে মোট ৩৮৪টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশগ্রহণ করেছে। এর মধ্যে ৭৪টির দর বেড়েছে, ২৫২টির দর কমেছে এবং ৫৮টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।
ডিএসইতে এদিন প্রায় ৪১০ কোটি ৫৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। আগের দিন ডিএসইতে লেনদেন হয়েছিল প্রায় ৪৩০ কোটি ৭২ লাখ টাকার। অর্থাৎ আগের দিনের তুলনায় আজ লেনদেন কমেছে প্রায় ২০ কোটি ১৫ লাখ টাকা।
এদিকে, অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম এক্সচেঞ্জে (সিএসই) আজ ১৬ কোটি ৪২ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের দিন সিএসইতে ১৬ কোটি ১২ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছিল।
আজ সিএসইতে লেনদেন হওয়া ১৬৯টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শেয়ার ও ইউনিট দর বেড়েছে ৫০টির, কমেছে ৯৭টির এবং পরিবর্তন হয়নি ২২টির।
এদিন সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ২২.৭৭ পয়েন্ট কমে ১৪ হাজার ৫৫৮.৬৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আগের দিন সূচক সিএএসপিআই ২২.৪৯ পয়েন্ট কমেছিল।


