সূচক কমলেও বেড়েছে লেনদেন

শেয়ারবাজারে প্রত্যাশা থেকে হতাশা, কমিশনের কার্যকর উদ্যোগের অপেক্ষা

সময়: বুধবার, অক্টোবর ২৮, ২০২৬ ৪:৪২:৫২ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক : শেয়ারবাজার নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে প্রত্যাশার সৃষ্টি হয়েছিল। কারণ এই কমিশনের আমলেই সূচক বৃদ্ধির রেকর্ড দেখা যায়। কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার আগে, অর্থাৎ ৩ জুন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ছিল প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার পয়েন্ট। এরপর কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর ধারাবাহিকভাবে সূচক ও লেনদেন বাড়তে থাকে। ফলে সূচক প্রায় ছয় হাজার পয়েন্টের কাছাকাছি পৌঁছে যায়। একই সঙ্গে লেনদেন প্রায় ১ হাজার ৭০০ কোটি টাকায় উন্নীত হয়। এতে বাজারে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বেড়েছিল।

আগস্ট মাস পর্যন্ত বাজার স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল ছিল। কিন্তু এরপর ধীর গতিতে সূচক ও লেনদেন কমতে শুরু করে। পরবর্তীতে সূচক ও লেনদেন হ্রাসের মাত্রা আরও বেড়ে যায়, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা সংকট তৈরি করে। বর্তমানে বাজারের অবস্থা অত্যন্ত করুণ। ফলে বর্তমান কমিশনের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা তলানীতে পৌঁছেছে। অথচ এই কমিশনের সময়েই বাজার স্থিতিশীলতার পথে এগোচ্ছিল। কিন্তু পরে কী এমন ঘটল যে বাজার ধারাবাহিক পতনের কবলে পড়ল? মাননীয় অর্থমন্ত্রী ও বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেছেন, এক বছরের মধ্যেই বাজারের অবস্থা বদলে যাবে। সেটা কি তলানীর পথে হেঁটে আরও তলানীতে যাওয়া? লভ্যাংশ মৌসুমেও বাজার পরিস্থিতি এমন শোচনীয় হলে বাজার কি স্থিতিশীল হবে?

বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, বাজার স্থিতিশীল করতে কমিশনের একার পক্ষে সম্ভব নয়। তবে তাদেরকেই ইতিবাচক ভূমিকা পালন করতে হবে। ধারাবাহিক দরপতনের কারণ অনুসন্ধান করে যথাযথ ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তবে এটা সত্য যে বর্তমান কমিশনের সময়েই বাজার আগের তুলনায় অনেক বেশি স্থিতিশীল হয়েছিল। আবার এই কমিশনের সময়েই বাজারের সবচেয়ে করুণ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। তবে কমিশন ইতিবাচক পদক্ষেপ নিলে অবস্থার পরিবর্তন হতে পারে। বাজারকে স্থিতিশীল করতে হলে সব শ্রেণীর বিনিয়োগকারীর অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে। যেমন—কোম্পানির পরিচালক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীসহ বড় বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে। তাদের যথাযথ অংশগ্রহণ না থাকায় বাজারের এমন বেহাল দশা তৈরি হয়েছে। কোম্পানির পরিচালক, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ও বড় পুঁজির বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে বাজারে মনিটরিং বাড়াতে হবে এবং বাজারকে ফেলে দেওয়ার চক্রান্তকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।

এদিকে, আজ (২৮ অক্টোবর) প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচকের পাশাপাশি টাকার অঙ্কে লেনদেন বেড়েছে। একই সঙ্গে লেনদেনে অংশ নেওয়া বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের দরও বেড়েছে।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, বুধবার সপ্তাহের চতুর্থ কর্মদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৪৬.৭২ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৪৩৩.২৬ পয়েন্টে। এদিন অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসইএস ৭.৭১ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫৪.৪৮ পয়েন্টে। ডিএসই-৩০ সূচক ৮.৩৪ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ২ হাজার ৯৬.২৫ পয়েন্টে।

আজ ডিএসইতে মোট ২৯১টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ৬৩টির দর বেড়েছে, ৭৬টির দর কমেছে এবং ৫২টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।

ডিএসইতে এদিন প্রায় ৪৪০ কোটি ৯৫ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। আগের দিন ডিএসইতে লেনদেন হয়েছিল প্রায় ৪০৩ কোটি ৫০ লাখ টাকার। অর্থাৎ আগের দিনের তুলনায় আজ লেনদেন বেড়েছে প্রায় ৩৭ কোটি ৪৫ লাখ টাকা।

এদিকে, অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম এক্সচেঞ্জে (সিএসই) আজ ৫৮ কোটি ৪০ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের দিন সিএসইতে ১৪ কোটি ৭২ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছিল।

আজ সিএসইতে লেনদেন হওয়া ১৬২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শেয়ার ও ইউনিট দর বেড়েছে ৮৪টির, কমেছে ৭০টির এবং পরিবর্তন হয়নি ৮টির।

এদিন সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৪০.৩৪ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৫২৯.৯৫ পয়েন্টে। আগের দিন সূচক সিএএসপিআই ৬৯.০৩ পয়েন্ট কমেছিল।

 

Share
নিউজটি ৩ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged