এনআরবি ইক্যুইটি নিয়ে সবুজ হাওলাদারের অভিযোগপত্রে ভয়ঙ্কর তথ্য প্রকাশ

সময়: Thursday, September 17th, 2020 6:08:22 pm


নিজস্ব প্রতিবেদক : সিকিউরিটিজ আইন ভঙ্গ করায় এনআরবি ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডকে গতকাল অনুষ্ঠিত বিএসইসির ৭৪০তম সভায় ১০ লাখ টাকা জরিমানা করে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। আর এই প্রতিষ্ঠানের গ্রাহক সবুজ হাওলাদারের অভিযোগের প্রেক্ষিতেই কমিশন জরিমানার সিদ্ধান্ত নেয়।

সবুজ হাওলাদার গত ২৫ মার্চ এনআরবি ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্টের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎয়ের অভিযোগ করেন। অভিযোগপত্রে সবুজ হাওলাদার বলেন, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের মনোনীত মার্চেন্ট ব্যাংক এনআরবি ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডে দীর্ঘদিন তিনি হিসাব পরিচালনা করে এসেছেন। তিনি বরাবরই প্রাথমিক গণ প্রস্তাবে অংশগ্রহণ করার জন্য হিসাবগুলো পরিচালনা করছে। তিনি প্রত্যেকটি আইপিওতেই অংশগ্রহণ করেছেন এবং কম-বেশি আইপিওতে কৃতকার্য হয়েছেন। এমতাবস্থায় তিনি এনআরবি ইক্যুটিতে তহবিল উত্তোলনের জন্য আবেদন ফরম জমা দেয়। কিন্তু এনআরবি ইক্যুইটির ম্যানেজিং ডাইরেক্টর কাজী সাইফুর রহমান তহবিল উত্তোলনে বাধা প্রদান করে এবং উত্তোলনের ফরম জমা নেয়নি। তিনি যখন কাজী সাইফুর রহমানকে নিয়ন্ত্রক সংস্থায় লিখিতভাবে অভিযোগ করবে বলেছেন তখন তিনি তহবিল উত্তোলন ব্যাতিরেকে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা প্রদান করে এবং সকল টাকা প্রদান করা হবে বলে স্ট্যাম্পে জোর পূর্বক স্বাক্ষর গ্রহণ করে। কিন্তু অদ্যবধি ফরমই জমা রাখেনি।

সবুজ হাওলাদার অভিযোপত্রে আরো বলেন, তিনি প্রায় ২৮৯টি হিসাব তার তত্ত্বাবধানে পরিচালনা করে আসছে। কাজী সাইফুর রহমান তার পরিচালনার সকল হিসাবের টাকা আত্মসাৎ করে। পরিশেষে এনআরবি ইক্যুইটির কাছ থেকে পাওনা টাকা উদ্ধার ও কাজী সাইফুর রহমানের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আবেদন করেন।

এ ব্যাপারে সবুজ হাওলাদারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমি এতোগুলো বিও অ্যাকাউন্ট করা যে বেআইনী তা জানতাম না। এনআরবি ইক্যুইটিই আমার সব ফরম লিখে দিয়েছে। ২০১৪ সালে ক্যাপিটাল মার্কেট সংক্রান্ত একটি মেলায় ওদের সঙ্গে আমার দেখা হয়। ওই সময়ে আমি ওদের সঙ্গে তিনদিন কাজ করি। তারা আমাকে বিও অ্যাকাউন্ট খোলার প্রলোভন দেখায়। অনেকগুলো অ্যাকাউন্ট খোলার বিষয়ে কাজী সাইফুর রহমান ও এনআরবি ইক্যুইটির চেয়ারম্যানও আমাকে প্রলোভন দেখান। পরবর্তীতে অ্যাকাউন্ট খুলে আইপিও ব্যবসা শুরু করি। আমার অ্যাকাউন্টগুলো ওদের ওইখানে আছে, যা তদন্ত করলে সব বেরিয়ে আসবে। দুটি কোম্পানির ডিভিডেন্ডও আমার অ্যাকাউন্টে ছিল। কিন্তু সবকিছু কাজী সাইফুর রহমান ষড়যন্ত্র করে আত্মসাৎ করেছে। এখন আমাকে উল্টো মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। সাইফুর রহমান তার লোকজন দিয়ে নানা হুমকি দিয়ে আসছে বলে জানান সবুজ হাওলাদার। এ ব্যাপারে কাজী সাইফুর রহমানের সঙ্গে বারংবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

 

দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন/এসএ/খান

নিউজটি ২৪৯ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged