bangladesh bank

বাংলাদেশ ব্যাংকের ত্রৈমাসিক প্রতিবেদন

দীর্ঘ মেয়াদী অর্থায়ন পুঁজিবাজার থেকে আসা উচিত

সময়: সোমবার, ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২০ ১২:০৫:৩০ পূর্বাহ্ণ


সাইফুল শুভ : বতর্মানে বাংলাদেশে ব্যাংকগুলো দীর্ঘমেয়াদী মূলধনের অর্থায়নে প্রধান ভূমিকা পালন করে আসছে। অথচ দীর্ঘমেয়াদী ও বড় প্রকল্পগুলো পুঁজিবাজারের মাধ্যমে অর্থায়ন করা উচিত ছিল। এই চাহিদা বন্ড, ডিবেঞ্চার এবং ডেরিভেটিভের মতো বিভিন্ন আর্থিক উপকরণ চালুর মাধ্যমে পূরণ করা যেতো। বাংলাদেশ ব্যাংক মনে করে, ব্যাংকগুলোর দীর্ঘমেয়াদী ঋণ দেয়া উচিত নয়।
বাংলাদেশ ব্যাংক পুঁজিবাজার বিষয়ক ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনে (অক্টোবর-ডিসেম্বর ২০১৯) এ মন্তব্য করে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গবেষণা বিভাগ থেকে পুঁজিবাজার বিষয়ক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।
ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্বল্প আয়ের দেশ থেকে উচ্চ আয়ের দেশে উন্নীত করতে বাজার মূলধন বাড়াতে হবে। এজন্য দেশ এবং বিদেশ উভয় জায়গা থেকে তহবিল আকর্ষণ করতে একটি সক্রিয় ভূমিকা পালন করা দরকার।
পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিস এবং এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারেÑ যাতে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের জন্য তহবিলের মালিকদের আগ্রহ তৈরি হয়। এ লক্ষ্যে বিএসইসি’কে ভাল কর্পোরেট প্রশাসন নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি শেয়ার-বন্ড এবং ভাল সংস্থাগুলোকে উদ্বুদ্ধ করতে পারে। পাশাপাশি ইসলামীক বন্ড সুকুক আরও আকর্ষণীয় হতে পারে।
অক্টোবর-ডিসেম্বর সময়ে দেশের প্রধান দু’ শেয়ারবাজারই ছিল নেতিবাচক ধারায়। এ সময় বাজার মূলধনের মাত্র ০.৯০ শতাংশ ছিল মিউচ্যুয়াল ফান্ডের অবস্থান, যা আগের প্রান্তিকে ছিল ০.৮৯ শতাংশ। অথচ পুঁজিবাজারে মিউচ্যুয়াল ফান্ডই মূল মার্কেট মেকারের ভূমিকা পালন করে।
অন্যদিকে বাজার মূলধনে করপোরেট বন্ড ০.০৮ এবং ডিভেঞ্চার ০.০২ শতাংশ। ব্যাংক খাতের ১৫.৮৯, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ৪.২৬, বীমা ৩.৩৪ এবং অন্যান্য কোম্পানি ৫৯.৩৫ শতাংশ রয়েছে বাজার মূলধনে।
তবে বাজারের সার্বিক পিই রেশিও (মূল্য ও আয়ের অনুপাত) কমেছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় এ সময় বাজার অনেকটা কম ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) পিই ছিল ১১.৮০, যা আগের প্রান্তিকে ছিল ১৩.৩৫। ফলে এটিই পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে ঝুঁকিও কমেছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক পুঁজিবাজারের তুলনায় দেশের পুঁজিবাজারের পিই অনেক কম। থাইল্যান্ডের পিই রেশিও ১৮.৭২, ভারতে ২৩.৯৭, শ্রীলঙ্কা ১০.১৮।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, সাধারণত দীর্ঘ মেয়াদী অর্থ সংগ্রহের প্রধান স্থান হলো পুঁজিবাজার। কিন্তু এখনো এ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা আসছে না। কারণ তারা সব সময় ঋণ নিয়ে ব্যবসা করতেই পছন্দ করে।
দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন/এসএ/খান

Share
নিউজটি ৪০৯ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged