শেয়ারহোল্ডারদের কথা কেউ ভাবছে না

পিপলস লিজিংয়ের সম্পদের হিসাব আগামী মাসে

সময়: সোমবার, নভেম্বর ৪, ২০১৯ ৯:২৫:৫৪ পূর্বাহ্ণ


সাইফুল শুভ : পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিনান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড (পিএলএফএসএল)-এর নিরীক্ষা শেষ হচ্ছে। সম্পদের প্রকৃত হিসাব পাওয়ার পর আমানতকারীদের পাওনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। তবে শেয়ারহোল্ডারদের ক্ষতিপূরণের বিষয়ে কিছু ভাবছে না কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আদালতের নির্দেশে ‘একনাবিন’ নিরীক্ষক হিসেবে কাজ করছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগ এ তথ্য জানিয়েছে।
জানা গেছে, ‘একনাবিন’ নিরীক্ষা কার্যক্রম শেষ করতে চার মাস সময় চেয়েছিল। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। যেহেতু আদালতের নির্দেশে দায়িত্ব পালন করছে- সেজন্য নিরীক্ষককেও যথেষ্ট সময় দেয়া হচ্ছে।
অবসায়নের চূড়ান্ত ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত স্টক এক্সচেঞ্জগুলো পিএলএফএসলকে তালিকাচ্যুতও করতে পারছে না। একের পর এক লেনদেন স্থগিতের সময় বাড়ানো হচ্ছে। বিনিয়োগকারীরা অভিযোগ করছেন, কোম্পানিটির অবস্থা এতো খারাপ এটি বাংলাদেশ ব্যাংকের উচিত ছিল আগে থেকেই সতর্ক করা। হঠাৎ করে অবসায়নের সিদ্ধান্তে হতাশ তারা। এমন কী বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বাভাস পেলে আমানতকারীরাও বুঝে-শুনে টাকা গচ্ছিত রাখতো।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আহমদ আলী ‘দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন’-কে বলেন, ‘আমরা ডিসেম্বরের মধ্যে নিরীক্ষা প্রতিবেদন দিতে বলেছি। যাতে জানুয়ারি থেকে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেয়া শুরু করা যায়।’
গত ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে কাজ শুরু করেছে ‘একনাবিন’। পিএলএফএসএলে প্রকৃত সম্পদ ও দায় নির্ধারণের পর প্রথমে আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেয়ার চিন্তা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। শেয়ারহোল্ডারদের জন্য কোনো ক্ষতিপূরণের বিষয়ে ভাবা হচ্ছে না। বাংলাদেশ ব্যাংক মনে করে কোম্পানি আইন অনুযায়ী শেয়ারহোল্ডাররা কোম্পানির মালিক। কোম্পানি যদি লোকসান করে তবে মালিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। এটাই স্বাভাবিক।
এদিকে কোম্পানিটি অবসায়নের ঘোষণার পর টানা ৬ বারের মতো লেনদেন বন্ধের সময় বাড়ানো হয়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
তথ্যমতে, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের পরিচালনা পর্ষদ কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেন আরো ১৫ দিন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সে হিসেবে আগামী ২৮ অক্টোবর থেকে থেকে ১১ নভেম্বর পর্যন্ত কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেন বন্ধ থাকবে।
এর আগে আরো ৫ দফা কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেন বন্ধের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছিল। এর মধ্যে প্রথম দফায় ১৩ থেকে ২৭ আগস্ট পর্যন্ত, দ্বিতীয় দফায় ২৮ আগস্ট থেকে ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত, তৃতীয় দফায় ১২ সেপ্টেম্বর থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত, চতুর্থ দফায় ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ১১ অক্টোবর পর্যন্ত এবং পঞ্চম দফায় ১৩ অক্টোবর থেকে থেকে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত কোম্পানিটির লেনদেন বন্ধ ছিল।
উল্লেখ্য, ১৯৯৭ সালের ২৪ নভেম্বর পিপলস লিজিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসাবে অনুমোদন লাভ করে। ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠানটি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। কোম্পানির শেয়ার সংখ্যা ২৮ কোটি ৫৪ লাখ ৪০ হাজার ৫৯৭টি। এর মধ্যে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের শেয়ারের সংখ্যা ৬৭ দশমিক ১০ শতাংশ, উদ্যোক্তাদের শেয়ার ২৩ দশমিক ২১ শতাংশ এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের শেয়ার ৯ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং বিদেশিদের শূন্য দশমিক ১৯ শতাংশ শেয়ার আছে। প্রতিষ্ঠানটিতে মোট আমানতের পরিমাণ ২ হাজার ৩৬ কোটি ২২ লাখ টাকা। এর মধ্যে ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা রয়েছে বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বাকি ৭০০ কোটি টাকা রয়েছে ৬ হাজার সাধারণ গ্রাহকদের আমানত।
প্রতিষ্ঠানটির ঋণের পরিমাণ ১ হাজার ১৩১ কোটি টাকা, এর মধ্যে ৭৪৮ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ। খেলাপি ঋণের বড় অংশই কোম্পানির উদ্যোক্তা পরিচালকরা নিয়েছেন।
দৈনিক শেয়ারবাজার প্রতিদিন/এসএ/খান

Share
নিউজটি ৪০২ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged