কারেকশন সূচক লেনদেন dse-cse

অস্বাভাবিক শেয়ারদরে ডিএসই-সিএসইর কড়াকড়ি

সময়: সোমবার, জুলাই ১৩, ২০২৬ ৬:৩৬:১৯ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক : শেয়ারদর ও লেনদেনে অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতির পরিপ্রেক্ষিতে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ড্যাফোডিল কম্পিউটার্স পিএলসি এবং উসমানিয়া গ্লাস শিট ফ্যাক্টরি লিমিটেডের শেয়ার লেনদেন সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)।

সোমবার (১৩ জুলাই) দিনের অবশিষ্ট সময়ের জন্য কোম্পানি দুটির শেয়ার লেনদেন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ সংক্রান্ত ঘোষণা স্টক এক্সচেঞ্জ দুটির ওয়েবসাইটেও প্রকাশ করা হয়েছে।

স্টক এক্সচেঞ্জ সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে কোনো অপ্রকাশিত মূল্য সংবেদনশীল তথ্য (পিএসআই) কিংবা উল্লেখযোগ্য ব্যবসায়িক অগ্রগতির ঘোষণা ছাড়াই ড্যাফোডিল কম্পিউটার্স ও উসমানিয়া গ্লাসের শেয়ারদর এবং লেনদেনের পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় নিয়ন্ত্রক পদক্ষেপ হিসেবে কোম্পানি দুটির শেয়ার লেনদেন সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।

ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, গত এক মাসে ড্যাফোডিল কম্পিউটার্সের শেয়ারদর উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ১৪ জুন শেয়ারটির দাম ছিল ১৪৬ টাকা ৩০ পয়সা, যা ৯ জুলাই লেনদেন শেষে বেড়ে ১৭০ টাকা ৬০ পয়সায় পৌঁছায়। ফলে কয়েকটি কার্যদিবসের ব্যবধানে শেয়ারটির দর ২৪ টাকা ৩০ পয়সা বা প্রায় ১৬ দশমিক ৬১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

অন্যদিকে, উসমানিয়া গ্লাসের শেয়ারদরে আরও বড় উত্থান দেখা গেছে। ২২ জুন কোম্পানিটির শেয়ারদর ছিল ৩৭ টাকা ৩০ পয়সা, যা ৯ জুলাই বেড়ে ৭০ টাকা ২০ পয়সায় উন্নীত হয়। এতে অল্প সময়ের ব্যবধানে শেয়ারটির দর ৩২ টাকা ৯০ পয়সা বা প্রায় ৮৮ দশমিক ২০ শতাংশ বেড়েছে।

এ ধরনের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে ডিএসই ও সিএসই যৌথভাবে কোম্পানি দুটির শেয়ার লেনদেন সাময়িকভাবে স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয়।

এর আগে, ২১ জুন ড্যাফোডিল কম্পিউটার্স এবং ২ জুলাই উসমানিয়া গ্লাসের কাছে শেয়ারদর ও লেনদেন বৃদ্ধির কারণ জানতে চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছিল ডিএসই। জবাবে উভয় কোম্পানি জানিয়েছে, তাদের কাছে এমন কোনো অপ্রকাশিত মূল্য সংবেদনশীল তথ্য নেই, যা শেয়ারদর বা লেনদেনে প্রভাব ফেলতে পারে। পাশাপাশি কোম্পানিগুলো জানিয়েছে, তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম কিংবা আর্থিক অবস্থায়ও উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন ঘটেনি।

স্টক এক্সচেঞ্জ সূত্র আরও জানিয়েছে, কোম্পানি দুটির শেয়ারদরের এই অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে তাদের প্রকৃত ব্যবসায়িক অবস্থার কোনো সুস্পষ্ট সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। তাই দরবৃদ্ধির পেছনে গোপন তথ্যের অপব্যবহার, সমন্বিত লেনদেন বা সম্ভাব্য বাজার কারসাজির কোনো ঘটনা রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ উদ্দেশ্যে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর কাছে প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও অতিরিক্ত তথ্যও চাওয়া হয়েছে।

Share
নিউজটি ৪ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged