কাল-পরশুর মধ্যেই ফ্লোরপ্রাইস প্রত্যাহারের নির্দেশনা

সময়: সোমবার, জুন ৮, ২০২৬ ১:৫৮:২২ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত দুই কোম্পানি বেক্সিমকো লিমিটেড ও ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি অবশেষে ফ্লোরপ্রাইসের বন্দিদশা থেকে মুক্তি পেতে চলেছে। ছয় বছরেরও বেশি সময় পর কোম্পানি দুটির ওপর থেকে ফ্লোরপ্রাইস প্রত্যাহার করে নেওয়ার নীতিগত অবস্থান নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। কাল-পরশুর মধ্যে বেক্সিমকো ও ইসলামী ব্যাংকের ফ্লোরপ্রাইস প্রত্যাহারের নির্দেশনা জারি হতে পারে। বিএসইসি সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (৮ জুন) বিশেষ কমিশন সভা আয়োজন করে এই সিদ্ধান্ত কার্যকরের ঘোষণা দেওয়া হবে।

বর্তমানে বেক্সিমকোর শেয়ারের ফ্লোরপ্রাইস ধার্য করা আছে ১১০ টাকা ১০ পয়সা এবং ইসলামী ব্যাংকের ফ্লোরপ্রাইস রয়েছে ৩২ টাকা ৬০ পয়সা।

বিএসইসির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর গত বৃহস্পতিবার প্রথম সংবাদ সম্মেলনে ফ্লোরপ্রাইস ব্যবস্থার বিরুদ্ধে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন মো. মাসুদ খান। পাশাপাশি তিনি স্পষ্ট ঘোষণা দেন, ভবিষ্যতে কোনো পরিস্থিতিতেই আর ফ্লোরপ্রাইস আরোপ করা হবে না। এরপর রোববার (৭ জুন) সিএফএ সোসাইটির এক দশকপূর্তি অনুষ্ঠানেও তিনি এই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।

রোববার (৭ জুন) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের একটি প্রতিনিধি দল নতুন কমিশনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তাদের বেক্সিমকো ও ইসলামী ব্যাংকের ওপর থেকে ফ্লোরপ্রাইস তুলে নেওয়ার বিষয়টি জানিয়েছেন বিএসইসি চেয়ারম্যান মাসুদ খান।

ফ্লোরপ্রাইস হলো শেয়ারের দামের সর্বনিম্ন সীমা, যার চেয়ে কম দামে শেয়ার কেনা বা বেচার কোনো আদেশ দেওয়া যায় না।

২০২০ সালের এপ্রিলে শ্রীলঙ্কা নিজেকে দেউলিয়া ঘোষণা করলে বাংলাদেশেও অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এর তীব্র প্রভাব পড়ে শেয়ারবাজারে। চলতে থাকে টানা দরপতন। এই অবস্থায় ২০২০ সালের ১৯ মার্চ তৎকালীন বিএসইসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামের নেতৃত্বাধীন কমিশন বাজারে ফ্লোরপ্রাইস আরোপ করে।

পরবর্তীতে ধাপে ধাপে বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ারের ওপর আরোপিত ফ্লোরপ্রাইস প্রত্যাহার করা হলেও ইসলামী ব্যাংক ও বেক্সিমকোর শেয়ারের ক্ষেত্রে তা বহাল ছিল।

বিএসইসির সদ্যবিদায়ী চেয়ারম্যান রাশেদ মাকসুদ খান ২০২৪ সালে দায়িত্ব গ্রহণের পর ফ্লোরপ্রাইসের বিরুদ্ধে তার নীতিগত অবস্থানের কথা জানিয়েছিলেন। কিন্তু রহস্যজনক কারণে শেষপর্যন্ত তিনিও বেক্সিমকো ও ইসলামী ব্যাংকের ওপর থেকে ফ্লোরপ্রাইস প্রত্যাহার করেননি।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে ফ্লোরপ্রাইসের কারণে কৃত্রিমভাবে শেয়ারের দাম ধরে রাখায় বিনিয়োগকারীরা প্রকৃত মূল্য নিরূপণ করতে পারছিলেন না। নতুন কমিশনের এই সিদ্ধান্ত বাজারে স্বাভাবিক লেনদেন ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হবে। তবে ফ্লোরপ্রাইস প্রত্যাহারের পর শেয়ারের দাম কমে গেলে স্বল্পমেয়াদে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হতে পারে বলেও মনে করছেন তারা।

 

Share
নিউজটি ১০৪ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged