ডেরিভেটিভস পণ্য চালুতে ডিএসইর উদ্যোগ, অংশীজনদের নিয়ে সচেতনতা কর্মসূচি

সময়: সোমবার, সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ৭:১২:০৫ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: পুঁজিবাজারে পণ্যের বৈচিত্র্য, গভীরতা ও দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এক্সচেঞ্জ-ট্রেডেড প্ল্যাটফর্মে আর্থিক ডেরিভেটিভস প্রবর্তন বিষয়ে অংশীজনদের নিয়ে সচেতনতা ও পরামর্শমূলক কর্মসূচির আয়োজন করেছে।

অনুষ্ঠানে বিএসইসি কমিশনার মো. নাফিজ আল তারেক, সিএফএ, এফআরএম; নির্বাহী পরিচালক মো. আবুল কালাম; ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার এবং মার্কেট ডেভেলপমেন্ট ডিভিশনের জেনারেল ম্যানেজার সাইয়িদ মাহমুদ জুবায়ের উপস্থিত ছিলেন। এতে শীর্ষ ব্রোকারেজ, মার্চেন্ট ব্যাংক, অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা অংশ নেন।

বিএসইসি কমিশনার নাফিজ আল তারেক বলেন, ডেরিভেটিভ চালুতে কমিশন ইতিবাচক হলেও আগে বাজারের প্রস্তুতি, অবকাঠামো ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা জরুরি। ডেরিভেটিভ নতুন বিনিয়োগ ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার সুযোগ তৈরি করলেও যথাযথ প্রস্তুতি ছাড়া এটি অতিরিক্ত ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

তিনি জানান, ২০২৮ সালের মধ্যে ডেরিভেটিভ চালুর লক্ষ্যে সময়ভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এ জন্য বিধিমালা সংশোধন, সেন্ট্রাল কাউন্টারপার্টি (সিসিপি) ব্যবস্থা কার্যকর এবং সিসিবিএলের প্রযুক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, সিসিপি কার্যকর না হলে ডেরিভেটিভ কার্যক্রম চালু করা কঠিন হবে। ব্রোকার, ট্রেডার ও অন্যান্য অংশীজনের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও প্রযুক্তিগত অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে। আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতায় ফিউচারস মার্কেট হেজিং ও পোর্টফোলিও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় সহায়ক। বাজারের তারল্য ও অস্থিরতা মোকাবিলায় ডেরিভেটিভ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ডিএসই ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার বলেন, এক্সচেঞ্জ-ট্রেডেড প্ল্যাটফর্মে নতুন আর্থিক পণ্য প্রবর্তনের উদ্যোগ পুঁজিবাজার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। ডিএসই ও কমিশনের সমন্বয়ে রোডম্যাপ ও সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে এবং অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে এ উদ্যোগ ধাপে ধাপে এগোবে।

বিএসইসি নির্বাহী পরিচালক মো. আবুল কালাম বলেন, ফাইন্যান্সিয়াল ডেরিভেটিভ, বিশেষ করে ইনডেক্স ডেরিভেটিভ ক্যাশ সেটেলমেন্টের মাধ্যমে তুলনামূলক সহজে চালু সম্ভব হলেও সফল বাস্তবায়নে শক্তিশালী নিয়ন্ত্রক, প্রযুক্তিগত, ক্লিয়ারিং, সেটেলমেন্ট ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কাঠামো প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে এক্সচেঞ্জ ডেরিভেটিভস রুলস যুগোপযোগী করা হবে এবং রিয়েল-টাইম মার্জিনিং, পজিশন মনিটরিং ও মার্ক-টু-মার্কেট ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।

ডিএসইর মার্কেট ডেভেলপমেন্ট ডিভিশনের জেনারেল ম্যানেজার সাইয়িদ মাহমুদ জুবায়ের বলেন, ডিএসই ২০২৮ সালের জানুয়ারিতে ডেরিভেটিভ পণ্য চালুর পরিকল্পনা করছে, যা বিএসইসি অনুমোদন করেছে। ডিএসই কৌশল ও অ্যাকশন প্ল্যান তৈরি করেছে। প্রথম ধাপে স্টক ইনডেক্স ফিউচার, পরবর্তী ধাপে সিঙ্গেল স্টক ডেলিভারেবল ফিউচার এবং দীর্ঘমেয়াদে অপশনস মার্কেট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

কর্মসূচিতে ডেরিভেটিভস পণ্য সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ ও প্রস্তুতি বিষয়ে অংশীজনদের মতামত গ্রহণ করা হয়।

 

Share
নিউজটি ০ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged