সূচক কমলেও বেড়েছে লেনদেন

নতুন কমিশনেও কাটেনি পতনের ধারা, হতাশ বিনিয়োগকারীরা

সময়: মঙ্গলবার, অক্টোবর ৬, ২০২৬ ৬:৩৭:০৩ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: সাম্প্রতিক সময়ে শেয়ারবাজারে টানা দরপতনে বিনিয়োগকারীরা চরম অসন্তোষ প্রকাশ করছেন। এই পরিস্থিতিতে পতন রোধে কার্যকর উদ্যোগ না নিয়ে বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ উপলক্ষে বাজার উন্নয়নের কথা বলছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, এতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ আরও বেড়েছে।

তাদের মত অনুযায়ী, নিয়ন্ত্রক সংস্থার উচিত ছিল দরপতন ঠেকিয়ে বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে এনে বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ পালন করা। ধারাবাহিক পতনের কারণে বিনিয়োগকারীদের লোকসান যেমন বাড়ছে, তেমনি বাজারও তলানিতে নেমে আসছে। ফলে লেনদেনে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ কমে যাচ্ছে। বাজার স্থিতিশীল করার লক্ষ্যে চেয়ারম্যানসহ নতুন কমিশন গঠন করা হলেও, নতুন কমিশনের কাছে যে প্রত্যাশা ছিল তা পূরণে তারা পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে। অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, আগের কমিশনই বর্তমানের চেয়ে ভালো ছিল। বাজারে তাদের কোনো সাফল্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে না, শুধু বাজার উন্নয়ন ও সংস্কারের বক্তৃতা ছাড়া।

বিনিয়োগকারীরা বলছেন, পতনের বাজারে অনেক শেয়ার কিনলেও বাজার যদি ঘুরে না দাঁড়ায়, তাহলে সেই শেয়ার থেকে মুনাফা হবে কীভাবে? বরং কম দরে শেয়ার কেনার পরও ধারাবাহিক পতনে লোকসান গুনতে হচ্ছে। বাজারে ওঠানামা স্বাভাবিক হলেও, বর্তমান পরিস্থিতি মেনে নেয়ার মতো নয়। আগামী দিনের কথা বলে বর্তমান পতন ঠেকানোর দায় থেকে সরে পড়ছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। নতুন কমিশনের সময়ে উত্থানের তুলনায় পতনের মাত্রা অনেক বেশি। বাজারে স্থিতিশীলতা আনতে না পারলে তাদের চেয়ারে থাকা উচিত নয় বলে মনে করছেন বিনিয়োগকারীরা। ধারাবাহিক পতনে তাদের লোকসান দিন দিন বাড়ছে, অথচ নিয়ন্ত্রক সংস্থা পতন না ঠেকিয়ে সংস্কার ও বক্তৃতা দিয়ে নিজেদের দায় এড়াচ্ছে।

এদিকে, আজ (০৬ অক্টোবর) প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচকের পতন হলেও টাকার অংকে লেনদেন বেড়েছে। এছাড়া, লেনদেনে অংশ নেয়া বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের দর কমেছে।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, মঙ্গলবার সপ্তাহের তৃতীয় কর্মদিবসে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ২০.৩৭ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৪২৪.৯০ পয়েন্টে। এদিন অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসইএস ৪.৯৪ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭৪.৮৫ পয়েন্টে। আর ডিএসই-৩০ সূচক ৪.৬৫ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ২ হাজার ৭৭.০৯ পয়েন্টে।

আজ ডিএসইতে মোট ৩৯০টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ৭৯টির দর বেড়েছে, ২৭০টির দর কমেছে এবং ৪১টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।

ডিএসইতে এদিন প্রায় ৫৬৪ কোটি ১৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। আগের দিন ডিএসইতে লেনদেন হয়েছিল প্রায় ৫৩৭ কোটি ১১ লাখ টাকার। অর্থাৎ আগের দিনের তুলনায় আজ লেনদেন বেড়েছে প্রায় ৭০ কোটি ৬ লাখ টাকা।

এদিকে, অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম এক্সচেঞ্জে (সিএসই) আজ ১৬ কোটি ৬৪ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের দিন সিএসইতে ১৭ কোটি ১১ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছিল।

আজ সিএসইতে লেনদেন হওয়া ১৭৫টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শেয়ার ও ইউনিট দর বেড়েছে ৪৭টির, কমেছে ১১০টির এবং পরিবর্তন হয়নি ১৮টির।

এদিন সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৬২.৯১ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৫৫৭.৯৪ পয়েন্টে। আগের দিন সূচক সিএএসপিআই ৪০.২১ পয়েন্ট কমেছিল।

Share
নিউজটি ১ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged