নিজস্ব প্রতিবেদক: নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দুই হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী জমা না দেওয়ার অভিযোগে বাংলাদেশ রেস ম্যানেজমেন্ট পিএলসিকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। সিকিউরিটিজ ও এক্সচেঞ্জ কমিশন (মিউচুয়াল ফান্ড) বিধিমালা, ২০০১-এর ৩৩(৩) বিধি লঙ্ঘনের দায়ে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে এ অর্থদণ্ড আরোপ করা হয়েছে।
বিএসইসির এনফোর্সমেন্ট বিভাগের আদেশে বলা হয়েছে, মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালার ৩৩(৩) বিধি অনুযায়ী হিসাব বছর শেষ হওয়ার তিন মাসের মধ্যে সম্পদ ব্যবস্থাপককে ওই হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী কমিশন, ট্রাস্টি ও হেফাজতকারীর কাছে জমা দিতে হয়। কিন্তু বাংলাদেশ রেস ম্যানেজমেন্ট পিএলসি ৩০ জুন ২০২২ এবং ৩০ জুন ২০২৩ সমাপ্ত দুই হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাখিল করেনি।
নির্ধারিত সময়সীমা পার হওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে এনফোর্সমেন্ট কার্যক্রম শুরু করে বিএসইসি। এর অংশ হিসেবে ২ জুন ২০২৬ বাংলাদেশ রেস ম্যানেজমেন্টকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়। ওই নোটিসে ২২ জুন ২০২৬ অনুষ্ঠিতব্য শুনানিতে প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
তবে প্রতিষ্ঠানটির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুনানির তারিখ পরিবর্তন করে ২৭ জুলাই নির্ধারণ করা হয়। নির্ধারিত ওই শুনানিতে বাংলাদেশ রেস ম্যানেজমেন্টের পক্ষে অংশ নেন প্রতিষ্ঠানের ইভিপি ও সিইও (চলতি দায়িত্ব) একেএম মামুনুর রশীদ এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট ও হেড অব অ্যাকাউন্টস মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম। তারা অভিযোগের বিষয়ে কমিশনের কাছে নিজেদের ব্যাখ্যা তুলে ধরেন। কিন্তু তাদের উপস্থাপিত ব্যাখ্যা বিএসইসির কাছে সন্তোষজনক বলে বিবেচিত হয়নি।
এরপর পুঁজিবাজারে শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও জনস্বার্থের বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন, ১৯৯৩-এর ১৮ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতা প্রয়োগ করে বাংলাদেশ রেস ম্যানেজমেন্ট পিএলসিকে ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন।
বিএসইসির আদেশ অনুযায়ী, আদেশ জারির তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে কমিশনের অনুকূলে ব্যাংক ড্রাফট অথবা পে-অর্ডারের মাধ্যমে জরিমানার অর্থ পরিশোধ করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থদণ্ডের টাকা জমা না দিলে সিকিউরিটিজ আইন অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
রেস ম্যানেজমেন্টের বক্তব্য
অন্যদিকে বাংলাদেশ রেস ম্যানেজমেন্টের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, একই বিষয়ে এর আগে যে কারণ দর্শানোর কার্যক্রম হয়েছিল, সেখানে প্রতিষ্ঠানটির দেওয়া ব্যাখ্যা এবং পরবর্তী নিষ্পত্তির বিষয়টি বিবেচনায় না নিয়েই নতুন করে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তাদের ব্যবস্থাপনায় থাকা প্রতিটি মিউচুয়াল ফান্ডের জন্য বছরে ১৭০টিরও বেশি প্রতিবেদন কমিশন, ট্রাস্টি, কাস্টডিয়ান এবং অন্যান্য অংশীজনের কাছে জমা দেওয়া হয়।
রেস ম্যানেজমেন্ট আরও বলেছে, গত পাঁচ হিসাব বছরে তাদের ব্যবস্থাপনায় থাকা বিভিন্ন মিউচুয়াল ফান্ডের মোট ৫৭টি নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী কমিশনের কাছে দাখিল করা হয়েছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতেই প্রতিষ্ঠানটি শুনানিতে নিজেদের অবস্থান ও বক্তব্য কমিশনের সামনে তুলে ধরে।
তবে প্রতিষ্ঠানটির দেওয়া ব্যাখ্যা এবং উপস্থাপিত তথ্য বিএসইসির কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি। কমিশনের আদেশে বলা হয়েছে, রেস ম্যানেজমেন্টের বক্তব্য পর্যালোচনা করে অভিযোগগুলো সঠিক এবং ইচ্ছাকৃতভাবে সংঘটিত হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়েছে। কমিশনের বিবেচনায় এ ধরনের কর্মকাণ্ড পুঁজিবাজারের উন্নয়ন ও শৃঙ্খলার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
সবশেষে বিএসইসি সিদ্ধান্তে পৌঁছায় যে, বাংলাদেশ রেস ম্যানেজমেন্ট পিএলসি সিকিউরিটিজ ও এক্সচেঞ্জ কমিশন (মিউচুয়াল ফান্ড) বিধিমালা, ২০০১-এর ৩৩(৩) বিধি লঙ্ঘন করেছে। কমিশনের আদেশে আরও বলা হয়েছে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন, ১৯৯৩-এর ১৮ ধারার আওতায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ।


