নাভানা ফার্মা বিতর্কে নতুন মোড়, তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা

সময়: রবিবার, এপ্রিল ১৯, ২০২৬ ১১:৫৮:৩৯ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত নাভানা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডকে ঘিরে চলমান নিয়ন্ত্রণ সংকট নতুন মাত্রা পেয়েছে। একাধিক দফায় কোম্পানিটির নিয়ন্ত্রণ দখল ও পুনর্দখলের ঘটনায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। বিষয়টি তদন্তে নেমেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। তবে তদন্ত প্রক্রিয়ায় অনৈতিকভাবে যুক্ত থাকার অভিযোগে কমিশনের এক কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

জানা গেছে, দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে নাভানা ফার্মার নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে সক্রিয় হয়েছেন পদত্যাগ করা কয়েকজন প্রভাবশালী শেয়ারধারী, যারা বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, ক্ষমতাচ্যুত সরকারের সাবেক ভূমিমন্ত্রীর পরিবারের সদস্য ও তাদের সহযোগীরা দূর থেকে কোম্পানির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন এবং এ ক্ষেত্রে বিদ্যমান এক শেয়ারধারীর সহযোগিতা পাচ্ছেন।

এই প্রেক্ষাপটে গত ২৮ জানুয়ারি কোম্পানির পর্ষদে পরিবর্তন এনে জাভেদ কায়সার আলীকে চেয়ারম্যান, ড. সাঈদ আহমেদকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং মো. আমিনুল হক ভূঁইয়াকে কোম্পানি সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের পক্ষ থেকে বিএসইসিতে জোরপূর্বক নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার অভিযোগ দায়ের করা হলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে ঘটনার সত্যতা পায় কমিশন। এরপর পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদন জমা না দেওয়া পর্যন্ত পুনর্গঠিত পর্ষদ বহাল রাখার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট তথ্য আদান-প্রদানে সহযোগিতার নামে বিএসইসির সহকারী পরিচালক মোহা. ইব্রাহীম আলীর বিরুদ্ধে অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় তিনি ধরা পড়লে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় এবং তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

বিএসইসি জানিয়েছে, কর্মচারী চাকরি বিধিমালা, ২০২১ অনুযায়ী অসদাচরণের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কমিশনের চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ স্বাক্ষরিত এক আদেশে বলা হয়েছে, অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং তদন্ত চলাকালে তিনি বিধি অনুযায়ী খোরাকি ভাতা পাবেন।

অন্যদিকে, নাভানা ফার্মা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সঙ্গে ভ্যাট সংক্রান্ত বিরোধেও জড়িয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির কাছে ১৩৯ কোটি ৪৫ লাখ টাকার ভ্যাট দাবি করেছে এনবিআর। এ বিষয়ে পুনঃতদন্তের আবেদন ও শুনানি চলমান থাকলেও এখনো কোনো চূড়ান্ত সমাধান হয়নি বলে নিরীক্ষকরা জানিয়েছেন।

এদিকে, কোম্পানিটির দুর্বল ডিভিডেন্ড ঘোষণায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। আইপিওতে ৩৪ টাকা (যোগ্য বিনিয়োগকারী) ও ২৪ টাকা (সাধারণ বিনিয়োগকারী) দরে ৭৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করলেও ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কোম্পানিটি মাত্র ১৪ শতাংশ বা শেয়ারপ্রতি ১ টাকা ৪০ পয়সা ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে। যা বাজারের তুলনায় কম বলে মনে করছেন বিনিয়োগকারীরা।

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, একই বিনিয়োগ ব্যাংকে স্থায়ী আমানতে রাখলে তুলনামূলক বেশি রিটার্ন পাওয়া সম্ভব। ফলে কোম্পানিটির প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমে গেছে।

অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও দুর্বল পারফরম্যান্সের প্রভাবে কোম্পানির শেয়ারদরেও বড় পতন ঘটেছে। ২০২৪ সালের ১২ মে যেখানে শেয়ারদর ছিল ১১৩ টাকা ৬০ পয়সা, তা কমে ২০২৬ সালের ১৫ এপ্রিল দাঁড়িয়েছে ৫৯ টাকা ১০ পয়সায়। অর্থাৎ প্রায় ৪৮ শতাংশ দর হ্রাস পেয়েছে।

এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে কোম্পানি সচিব আমিনুল হক ভূঁইয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

Share
নিউজটি ৩১ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged