পাঁচ ইসলামী ব্যাংকের একীভূতকরণে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষার দাবি ডিএসইর

সময়: রবিবার, মে ১০, ২০২৬ ৯:০৬:৪৪ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: দুর্বল পাঁচটি ইসলামী ব্যাংকের একীভূতকরণ প্রক্রিয়ায় সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ সুরক্ষায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সক্রিয় ভূমিকা চেয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। যথাযথ ক্ষতিপূরণ ও সুরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়া বিনিয়োগকারীরা তাদের মালিকানাগত স্বার্থ হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার প্রতিষ্ঠানটি।

বৃহস্পতিবার রাজধানীতে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে গভর্নর ড. মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এসব বিষয় তুলে ধরে ডিএসইর সাত সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন ডিএসই চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম।

বৈঠকে ডিএসই নেতারা বলেন, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং এক্সিম ব্যাংকের একীভূতকরণ নিয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা বাড়ছে।

তাদের মতে, অতীতের দুর্বল ব্যবস্থাপনা, অনিয়ম ও আর্থিক অব্যবস্থাপনার দায় সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া ঠিক হবে না। কারণ বর্তমান সংকটের জন্য ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা কোনোভাবেই দায়ী নন।

ডিএসইর পক্ষ থেকে মার্জার প্রক্রিয়ায় পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিতের পাশাপাশি সাধারণ ও ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

একই বৈঠকে দেশের পুঁজিবাজারকে আধুনিক, গতিশীল ও দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবও উপস্থাপন করে ডিএসই।

প্রস্তাবগুলোর মধ্যে ছিল শেয়ার লেনদেন নিষ্পত্তির সময়সীমা বর্তমান T+2 থেকে কমিয়ে T+1 করা, যাতে বাজারে লেনদেনের গতি ও কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায়। পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে নন-রেসিডেন্ট ইনভেস্টর টাকা অ্যাকাউন্ট (এনআইটিএ) খোলার প্রক্রিয়া সহজ করার অনুরোধ জানানো হয়।

প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও অবকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে তফসিলি ব্যাংকগুলোতে থাকা ডিএসইর স্থায়ী আমানত ধাপে ধাপে নগদায়নে সহযোগিতা চায় প্রতিষ্ঠানটি। এছাড়া রিয়েল-টাইম গ্রস সেটেলমেন্ট (আরটিজিএস) সুবিধার সময়সীমা বাড়ানো এবং ঝুঁকি মূল্যায়ন শক্তিশালী করতে স্টক এক্সচেঞ্জকে সরাসরি ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরোর (সিআইবি) রিপোর্ট ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাবও তুলে ধরা হয়।

বৈঠকে সরকারি সিকিউরিটিজের সেকেন্ডারি মার্কেট সম্প্রসারণ, সুকুক লেনদেন চালু এবং আইপিও ও বন্ডভিত্তিক পুনঃমূলধনীকরণ ব্যবস্থার বিষয়েও আলোচনা হয়।

ডিএসইর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর প্রতিনিধি দলের বক্তব্য গুরুত্বসহকারে শুনেছেন এবং জনস্বার্থ ও পুঁজিবাজারের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

Share
নিউজটি ২ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged