নিজস্ব প্রতিবেদক, ০৫ জুলাই ২০২৬, রোববার: ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. আব্দুল লতিফ তার চাকরি থেকে অব্যাহতিকে আইনবিরোধী, একপেশে এবং সুবিচারের পরিপন্থী হিসেবে চিহ্নিত করে এই ঘটনার তদন্ত ও তাকে পুনর্বহালের আবেদন জানিয়েছেন। রোববার (৫ জুলাই) তিনি অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব বরাবর এই আবেদন জমা দেন।
আবেদনে তিনি অভিযোগ তুলেছেন যে, বিগত ২৫ জুন ডিএসই কর্তৃপক্ষ তাকে কোনো প্রকার পূর্ববর্তী নোটিশ বা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়েই কেবল ‘পদের অবমূল্যায়ন’ অজুহাতে তার চাকরি থেকে বরখাস্ত করে এবং তা সঙ্গে সঙ্গেই কার্যকর করে।
আব্দুল লতিফ তার আবেদনে উল্লেখ করেছেন, তিনি প্রায় দুই দশক ধরে আন্তরিকতা, পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার সঙ্গে ডিএসইতে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তার পুরো চাকরিকালে কর্মদক্ষতা ও আচরণ সম্পর্কে কখনো কোনো অভিযোগ ছিল না। তিনি বলেন, এই অবস্থায় কোনো কারণ দর্শানোর নোটিশ অথবা শুনানির আয়োজন না করেই তাকে চাকরিচ্যুত করার সিদ্ধান্ত শ্রম আইন, প্রতিষ্ঠানের চাকরির বিধিমালা এবং সুশাসনের নীতিমালার সম্পূর্ণ পরিপন্থী।
দীর্ঘদিনের এই স্থায়ী কর্মকর্তা আরও দাবি করেছেন, এভাবে হঠাৎ করেই তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া শুধু আইনগতভাবেই ভুল নয়, বরং এটি তার মৌলিক মানবাধিকারকেও লঙ্ঘন করেছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে তিনি এবং তার পরিবার আর্থিক ও মানসিকভাবে প্রচণ্ড ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং তার দীর্ঘদিনের পেশাগত ও সামাজিক মর্যাদাও নষ্ট হয়েছে।
আবেদনে আব্দুল লতিফ দেশের শীর্ষ পুঁজিবাজার প্রতিষ্ঠান হিসেবে ডিএসইর কাছ থেকে এই ধরনের অস্বচ্ছ ও আইনবহির্ভূত আচরণ কাম্য নয় বলেও মন্তব্য করেন। পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে তিনি ডিএসইর বরখাস্তের আদেশটি একটি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বাতিল এবং চাকরির ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ণ রেখে বকেয়া বেতন-ভাতাসহ অন্যান্য সুবিধাদি প্রদানসহ তাকে ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার পদে পুনর্বহাল করতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এছাড়া, এই আবেদনের একটি অনুলিপি বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান, ডিএসইর চেয়ারম্যান এবং ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে প্রেরণ করা হয়েছে বলেও জানা গেছে।


