নিজস্ব প্রতিবেদক: বিদায়ী সপ্তাহে (১৭-২১ মে, ২০২৬) দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) অধিকাংশ মূল্যসূচকে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেলেও কমেছে লেনদেন ও শেয়ার হাতবদলের পরিমাণ। একই সঙ্গে বাজার মূলধনে সামান্য বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। ডিএসই প্রকাশিত সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনা থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স (DSEX) সপ্তাহজুড়ে ১৮ দশমিক ৯ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ৩৬ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ২৬৪ দশমিক ১২ পয়েন্টে। আগের সপ্তাহ শেষে সূচকটির অবস্থান ছিল ৫ হাজার ২৪৫ দশমিক ২২ পয়েন্টে। চলতি বছরের শুরু থেকে এ সূচকের সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ২০ শতাংশ।
ব্লু-চিপ কোম্পানিগুলোর সমন্বয়ে গঠিত ডিএস-৩০ সূচকও ঊর্ধ্বমুখী ছিল। সপ্তাহ শেষে সূচকটি ১৩ দশমিক ৬৮ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ৬৯ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯৯৫ দশমিক ৩৫ পয়েন্টে, যা আগের সপ্তাহে ছিল ১ হাজার ৯৮১ দশমিক ৬৭ পয়েন্ট। বছরের শুরু থেকে সূচকটির প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭ দশমিক ৬৫ শতাংশ।
শরিয়াহভিত্তিক কোম্পানিগুলোর সূচক ডিএসইএস (DSES) বিদায়ী সপ্তাহে ৩ দশমিক ৩৫ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ৩১ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৬৯ দশমিক ৪৭ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আগের সপ্তাহে সূচকটি ছিল ১ হাজার ৬৬ দশমিক ১২ পয়েন্টে। চলতি বছরে সূচকটির প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ৮৭ শতাংশ।
তবে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের প্ল্যাটফর্ম এসএমই সূচক ডিএসএমইএক্স (DSMEX) সামান্য কমেছে। সপ্তাহ শেষে সূচকটি ২ দশমিক ১১ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ১৭ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৩৭ দশমিক ৫৯ পয়েন্টে, যা আগের সপ্তাহে ছিল ১ হাজার ২৩৯ দশমিক ৭০ পয়েন্ট। যদিও চলতি বছরে সূচকটির প্রবৃদ্ধি এখনো ৪৪ দশমিক ৫৯ শতাংশ।
এদিকে সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে মোট লেনদেনের পরিমাণ কমেছে। বিদায়ী সপ্তাহে মোট টার্নওভার হয়েছে ৩ হাজার ৯৭৮৬ কোটি ৬৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা, যা আগের সপ্তাহে ছিল ৪ হাজার ৩৯৭ কোটি ৩৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা। অর্থাৎ এক সপ্তাহের ব্যবধানে মোট লেনদেন কমেছে ৯ দশমিক ৫২ শতাংশ বা ৪১৮ কোটি ৬৯ লাখ ৯০ হাজার টাকা।
অন্যদিকে বাজার মূলধনে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। বিদায়ী সপ্তাহ শেষে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৭৯ হাজার ৮১৯ কোটি ৪২ লাখ ২০ হাজার টাকা, যা আগের সপ্তাহে ছিল ৬ লাখ ৭৭ হাজার ৩৩৬ কোটি ৯৭ লাখ ১০ হাজার টাকা। অর্থাৎ বাজার মূলধন বেড়েছে শূন্য দশমিক ৩৭ শতাংশ বা ২ হাজার ৪৮২ কোটি ৪৫ লাখ ১০ হাজার টাকা ।
সাপ্তাহিক বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিদায়ী সপ্তাহে মোট ৩৭২টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৮৪টির, কমেছে ১৬২টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ২৬টির দর। এছাড়া লেনদেনে অংশ নেয়নি ৪০টি প্রতিষ্ঠান।
ডিএসইর তথ্যমতে, সপ্তাহজুড়ে মোট শেয়ার ও ইউনিট হাতবদল হয়েছে ১০৬ কোটি ৫৯ লাখ ৮০ হাজার, যা আগের সপ্তাহে ছিল ১১০ কোটি ৮২ লাখ ২৩ হাজার। মোট ভলিউমও কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩৪৯ দশমিক ২০ মিলিয়নে, যা আগের সপ্তাহে ছিল ১ হাজার ৪৪৮ দশমিক ২২ মিলিয়ন।
এদিকে, বিদায়ী সপ্তাহে (১৭-২১ মে, ২০২৬) চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) অধিকাংশ প্রধান মূল্যসূচকে পতন দেখা গেছে। তবে এসএমই সূচকে ইতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। সপ্তাহজুড়ে মোট ১৪৭ কোটি ৬৬ লাখ ৮ হাজার ১২০ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। সিএসই প্রকাশিত সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনা থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
সপ্তাহ শেষে সিএসইর প্রধান মূল্যসূচক সিএএসপিআই (CASPI) দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৭০০ দশমিক ১৭ পয়েন্টে, যা আগের সপ্তাহে ছিল ১৪ হাজার ৭১৫ দশমিক ৩৬ পয়েন্ট। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে সূচকটি শূন্য দশমিক ১০ শতাংশ কমেছে।
একইভাবে সিএসই-৩০ সূচক (CSE30) শূন্য দশমিক ২৬ শতাংশ কমে ১২ হাজার ৮৯৯ দশমিক ৪৯ পয়েন্টে নেমে এসেছে। আগের সপ্তাহে সূচকটির অবস্থান ছিল ১২ হাজার ৯৩৩ দশমিক ৮৩ পয়েন্টে।
বাজারের সার্বিক প্রবণতা নির্দেশক সিএসসিএক্স (CSCX) সূচকও পতনের ধারায় ছিল। সপ্তাহ শেষে সূচকটি শূন্য দশমিক ১৫ শতাংশ কমে ৯ হাজার ৫০ দশমিক ১৪ পয়েন্টে অবস্থান করছে, যা আগের সপ্তাহে ছিল ৯ হাজার ৬৪ দশমিক ১৩ পয়েন্ট।
এছাড়া সিএসই-৫০ সূচক (CSE50) শূন্য দশমিক ২৪ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯৪ দশমিক ৯১ পয়েন্টে। আগের সপ্তাহে সূচকটি ছিল ১ হাজার ৯৭ দশমিক ৫০ পয়েন্টে।
শরিয়াহভিত্তিক সূচক সিএসআই (CSI) সপ্তাহজুড়ে শূন্য দশমিক ৪৮ শতাংশ কমে ৮৯৬ দশমিক ৩৪ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আগের সপ্তাহে সূচকটির অবস্থান ছিল ৯০০ দশমিক ৬৪ পয়েন্টে।
তবে এসএমই প্ল্যাটফর্মের সূচক সিএসইএসএমইএক্স (CSESMEX) ইতিবাচক ধারায় ছিল। সপ্তাহ শেষে সূচকটি ১ দশমিক ২৭ শতাংশ বেড়ে ২ হাজার ২৮৬ দশমিক ৪৬ পয়েন্টে অবস্থান করছে, যা আগের সপ্তাহে ছিল ২ হাজার ২৫৭ দশমিক ৮৪ পয়েন্ট।
সাপ্তাহিক বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিদায়ী সপ্তাহে মোট ৩১০টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১৪১টির, কমেছে ১৪৮টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ২১টির দর।
লেনদেন হওয়া শেয়ারের মোট পরিমাণ ছিল ৩ কোটি ২৯ লাখ ২৯ হাজার ৩৮টি। একই সময়ে মোট কন্ট্রাক্ট বা চুক্তির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ৫৭টি।
ক্যাটাগরি ভিত্তিক লেনদেনে সবচেয়ে বেশি অবদান ছিল ‘এ’ ক্যাটাগরির কোম্পানিগুলোর। এ ক্যাটাগরির কোম্পানিগুলোর মোট লেনদেন হয়েছে ১৩২ কোটি ৪৫ লাখ ৭৪ হাজার ৩১২ টাকা, যা মোট লেনদেনের ৮৯ দশমিক ৭০ শতাংশ।
অন্যদিকে ‘বি’ ক্যাটাগরির কোম্পানিগুলোর লেনদেন হয়েছে ১৩ কোটি ৪৫ লাখ ৪৭ হাজার ৫৭৩ টাকা, যা মোট লেনদেনের ৯ দশমিক ১১ শতাংশ। এছাড়া ‘এন’ ক্যাটাগরির কোম্পানিগুলোর লেনদেন দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৭৩ হাজার ৬৪৩ টাকায়, যা মোট লেনদেনের শূন্য দশমিক ০৪ শতাংশ।
‘জেড’ ক্যাটাগরির কোম্পানিগুলোর লেনদেন হয়েছে ১ কোটি ৬৯ লাখ ১২ হাজার ৫৯০ টাকা, যা মোট লেনদেনের ১ দশমিক ১৪ শতাংশ।


