বিনিয়োগকারীদের ডিভিডেন্ড না দেওয়ায় ১.৩৫ কোটি টাকা জরিমানা

সময়: রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ ৮:০৭:৫২ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঘোষিত ডিভিডেন্ড বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বিতরণ না করায় শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত আফতাব অটোমোবাইলসের চেয়ারম্যান, পরিচালক ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের মোট ১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা জরিমানা করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

একই সঙ্গে ২০২৪ সালের জুনে সমাপ্ত অর্থবছরের বকেয়া ডিভিডেন্ড বিএসইসির বৃহস্পতিবার জারি করা এনফোর্সমেন্ট আদেশের ৩০ দিনের মধ্যে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বিতরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ডিভিডেন্ডের অর্থ পরিশোধ এবং এ-সংক্রান্ত কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের দায়ে কোম্পানিটির চেয়ারম্যান, তিন পরিচালক, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা এবং কোম্পানি সচিবের ওপর এ জরিমানা আরোপ করা হয়েছে।

বিএসইসির আদেশ অনুযায়ী, আফতাব অটোমোবাইলসের চেয়ারম্যান শফিউল ইসলাম এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুল ইসলামকে ৩০ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। কোম্পানিটির পরিচালক খালেদা ইসলাম, সাজেদুল ইসলাম ও ফারহানা ইসলামকে ২০ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

এ ছাড়া কোম্পানিটির প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) সাহাদাত হোসেন মিয়াকে ১০ লাখ টাকা এবং কোম্পানি সচিব রাহাত মাহমুদকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করেছে বিএসইসি।

কমিশন জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ওপর আরোপিত জরিমানার অর্থ তাদের ব্যক্তিগত দায় হিসেবে বিবেচিত হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যাংক ড্রাফট অথবা পে-অর্ডারের মাধ্যমে বিএসইসির অনুকূলে এ অর্থ পরিশোধ করতে হবে।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জরিমানার অর্থ পরিশোধ না করলে বকেয়া থাকা প্রতিটি দিনের জন্য অতিরিক্ত ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা দিতে হবে।

তবে জরিমানার অর্থ পরিশোধ করলেই বিনিয়োগকারীদের পাওনা ডিভিডেন্ড বিতরণের দায় থেকে কোম্পানি মুক্তি পাবে না বলে স্পষ্টভাবে জানিয়েছে বিএসইসি।

বিএসইসির এনফোর্সমেন্ট আদেশে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুনে সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য আফতাব অটোমোবাইলসের পরিচালনা পর্ষদ ১০ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করে। পরবর্তী সময়ে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) শেয়ারহোল্ডাররা ওই ডিভিডেন্ড অনুমোদন করেন।

সিকিউরিটিজ আইন অনুযায়ী, এজিএমে অনুমোদিত হওয়ার পর ৩০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত ডিভিডেন্ড বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বিতরণ করতে হয়। সে অনুযায়ী, কোম্পানিটির ঘোষিত ডিভিডেন্ড ২০২৫ সালের ২৩ জানুয়ারির মধ্যে বিনিয়োগকারীদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল।

কিন্তু নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে ডিভিডেন্ড বিতরণ করতে ব্যর্থ হয় আফতাব অটোমোবাইলস। পাশাপাশি ডিভিডেন্ড বিতরণসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কমপ্লায়েন্স রিপোর্টও বিএসইসির কাছে জমা দেয়নি কোম্পানিটি।

এ ঘটনায় বিএসইসির এনফোর্সমেন্ট বিভাগ ২০২৫ সালের ৩ নভেম্বর আফতাব অটোমোবাইলসকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়। এরপর ১৭ নভেম্বর এ বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানিতে কোম্পানির প্রতিনিধিরা ডিভিডেন্ড বিতরণে বিলম্বের কারণ তুলে ধরেন।

কোম্পানির প্রতিনিধিরা জানান, মোট প্রদেয় ডিভিডেন্ডের ৮৪ দশমিক ৩৪ শতাংশ এরই মধ্যে পরিশোধ করা হয়েছে। বাকি অর্থ ২০২৫ সালের নভেম্বরের মধ্যে পরিশোধ করার বিষয়ে ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ শুরুতে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।

তবে কোম্পানিটির আর্থিক সংকটের কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অবশিষ্ট ডিভিডেন্ড পরিশোধের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান করা সম্ভব হয়নি বলে বিএসইসিকে জানানো হয়।

পরবর্তীতে বকেয়া ডিভিডেন্ড পরিশোধের জন্য ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত সময় বাড়ানোর আবেদন করে আফতাব অটোমোবাইলস। কিন্তু বাড়তি সময় পাওয়ার পরও কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের বকেয়া ডিভিডেন্ড পরিশোধ করতে পারেনি।

এদিকে ডিভিডেন্ড বিতরণে ব্যর্থতার পাশাপাশি কোম্পানিটির আর্থিক অবস্থাও দুর্বল হয়েছে। ২০২৪ অর্থবছরে আফতাব অটোমোবাইলস ১৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা লোকসান করে। পরের অর্থবছর ২০২৫-এ কোম্পানিটির লোকসানের পরিমাণ দাঁড়ায় ১৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা।

চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত নয় মাসে কোম্পানিটি আরও ১২ কোটি ৫০ লাখ টাকা লোকসান করেছে।

Share
নিউজটি ১ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged