বড় কোম্পানির মূলধন সংগ্রহ সহজ করতে বিএসইসির উদ্যোগ

সময়: রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ ৮:১৪:২২ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: বড় ও মানসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানগুলোকে সহজ প্রক্রিয়ায় শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত করে মূলধন সংগ্রহের সুযোগ করে দিতে কাজ করছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। একই সঙ্গে যেসব কোম্পানির বার্ষিক টার্নওভার ৫০০ কোটি টাকা বা তার বেশি, সেসব প্রতিষ্ঠান সরাসরি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির জন্য আবেদন করতে পারবে বলে জানিয়েছেন বিএসইসি চেয়ারম্যান মাসুদ খান।

শনিবার চট্টগ্রামের দেশের একমাত্র ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের সম্মেলনকক্ষে ‘ক্যাপিটাল মার্কেট: গ্রোথ ডায়ালগ—পাথওয়ে টু লিস্টিং’ শীর্ষক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান। চট্টগ্রাম চেম্বার ও আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড যৌথভাবে এ সংলাপের আয়োজন করে।

বিএসইসি চেয়ারম্যান মাসুদ খান বলেন, ব্যবসায়ীরা ব্যবসা শুরু করা, সম্প্রসারণ, পুনর্গঠন এবং পরিচালনার বিভিন্ন প্রয়োজনে মানি মার্কেট ও শেয়ারবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহ করে থাকেন। তবে ব্যবসার ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল উন্নয়ন নিশ্চিত করতে শেয়ারবাজার থেকে মূলধন সংগ্রহ অধিক কার্যকর।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে শেয়ারবাজারে কোম্পানি তালিকাভুক্ত করার প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রিতা রয়েছে। এ কারণে অনেক ব্যবসায়ী মানি মার্কেট বা অর্থায়ন খাতের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহের পথ বেছে নেন। এর ফলে একদিকে শেয়ারবাজারে প্রত্যাশিত গতিশীলতা তৈরি হচ্ছে না, অন্যদিকে ব্যবসার টেকসই সম্প্রসারণও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

বিএসইসি চেয়ারম্যানের মতে, শেয়ারবাজারের আকার ও সক্ষমতা বাড়াতে বড় এবং মানসম্পন্ন কোম্পানিগুলোকে বাজারে তালিকাভুক্ত করা অত্যন্ত জরুরি। এ লক্ষ্য অর্জনে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, তালিকাভুক্ত কোনো প্রতিষ্ঠান লাভ না করলেও ডিভিডেন্ড দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকায় অনেক ব্যবসায়ী শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হতে আগ্রহী হন না। এ ছাড়া তালিকাভুক্ত হওয়ার পর বিভিন্ন ধরনের নিয়ম ও প্রক্রিয়ার জটিলতার মধ্যেও তাদের পড়তে হয়।

তিনি বলেন, ব্যবসায় মুনাফা হলে ডিভিডেন্ড দেওয়ার এবং লোকসান হলে ডিভিডেন্ড না দেওয়ার সুযোগ থাকা উচিত। শেয়ারবাজারকে তার নিজস্ব গতিতে পরিচালিত হওয়ার সুযোগ দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, শেয়ারবাজারের কার্যক্রমের সঙ্গে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং বাংলাদেশ ব্যাংকও যুক্ত। তাই আইন ও নীতিমালা প্রণয়নের সময় সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে সমন্বয় এবং ঐকমত্য থাকা প্রয়োজন।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) চেয়ারম্যান মোমিনুল ইসলাম বলেন, দেশের শেয়ারবাজার বর্তমানে অনেকটা পঙ্গু অবস্থায় রয়েছে। দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে হলে শেয়ারবাজারকে গতিশীল করার পাশাপাশি একটি শক্তিশালী কমিশনও প্রয়োজন।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) চেয়ারম্যান এ কে এম হাবিবুর রহমান করপোরেট সুশাসন এবং অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষাব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

আইডিএলসি ফাইন্যান্সের চেয়ারম্যান কাজী মাহামুদ সাত্তার পুঁজিবাজারে করসংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে বিএসইসি ও এনবিআরের সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।

সংলাপে বক্তারা বলেন, শেয়ারবাজার, বন্ড মার্কেট এবং মিউচুয়াল ফান্ড সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে এখনো পর্যাপ্ত জ্ঞান ও ধারণা তৈরি হয়নি। পাশাপাশি শেয়ারবাজারের ব্যবসায়ী, নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যে আস্থার সংকট রয়েছে, সেটিও দূর করা জরুরি।

তারা তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর ওপর তুলনামূলক বেশি করের চাপ কমানোর পাশাপাশি শেয়ারবাজারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর, বিশেষ করে এনবিআর ও বাংলাদেশ ব্যাংকের, আইন ও নীতিগত জটিলতা দূর করার ওপর গুরুত্ব দেন।

এ সময় বক্তারা শেয়ারবাজারের জন্য একটি সহজ, সমন্বিত ও কার্যকর নিয়ন্ত্রক কাঠামো প্রতিষ্ঠারও আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন চেম্বারের সাবেক সভাপতি আমীর হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী, সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি এম এ ছালাম, আইডিএলসি ফাইন্যান্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জামাল উদ্দিন, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুর রহমান মজুমদার, বিএসআরএমের চেয়ারম্যান আলীহুসেইন আকবর আলী, চট্টগ্রাম কাস্টমস এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. শওকত আলী, লুব-রেফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ ইউসুফ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাণিজ্য অনুষদের ডিন ড. সালেহ জহুর, বারভিডার মহাসচিব রিয়াজ রহমান, মোদাচ্ছের এ সিদ্দিক অ্যান্ড কোম্পানির মোদাচ্ছের আহমেদ সিদ্দিকী, পিডব্লিউসির অ্যাসোসিয়েট ডিরেক্টর (ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন) শাদাব মাহমুদ, বিএসএম গ্রুপের আবুল বাশার চৌধুরী এবং আইআইএবির সভাপতি এম নুরুল আলম।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ।

অনুষ্ঠানে চেম্বার পরিচালক মোহাম্মদ আকতার পারভেজ, ইঞ্জিনিয়ার মো. গোলাম সরওয়ার, এ এস এম ইসমাইল খান, মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম, শহীদুল আলম এবং মো. সেলিম নুরসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

Share
নিউজটি ১ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged