মার্জিন ঋণগ্রহীতাদের নেতিবাচক ইক্যুইটির ঝুঁকি কমবে, স্বাভাবিক লেনদেনে ফিরবে বাজার

সময়: মঙ্গলবার, জুন ৯, ২০২৬ ১১:৫৯:৪০ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বেক্সিমকো লিমিটেড ও ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির শেয়ারের ওপর দীর্ঘদিন ধরে বহাল থাকা ফ্লোরপ্রাইস প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ)। সংগঠনটির মতে, এই সিদ্ধান্ত বাজারে দীর্ঘদিনের স্থবিরতা দূর করে স্বাভাবিক লেনদেন পুনরুদ্ধার এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ডিবিএর আবেদনের প্রেক্ষাপট
মঙ্গলবার (৯ জুন) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ডিবিএ জানায়, পুঁজিবাজারে ফ্লোরপ্রাইসজনিত অচলাবস্থা দূর করে স্বাভাবিক লেনদেন ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনতে গত ৪ মে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কাছে আবেদন করেছিল তারা।

ডিবিএর সভাপতি সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত ওই আবেদনে বলা হয়, বেক্সিমকো ও ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারে দীর্ঘদিন ধরে ফ্লোরপ্রাইস বহাল থাকায় স্বাভাবিক লেনদেন বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল এবং বাজারে প্রকৃত মূল্য নির্ধারণ প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছিল।

ফ্লোরপ্রাইসের নেতিবাচক প্রভাব
সংগঠনটির দাবি, ফ্লোরপ্রাইসের কারণে মার্জিন ঋণগ্রহীতা বিনিয়োগকারীদের নেতিবাচক ইক্যুইটির ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছিল। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছেও দেশের পুঁজিবাজার সম্পর্কে নেতিবাচক বার্তা যাচ্ছিল।

বিএসইসির সিদ্ধান্ত ও ডিবিএর প্রতিক্রিয়া
ডিবিএ জানায়, তাদের আবেদন এবং বাজারের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে বিএসইসির নবনিযুক্ত কমিশন বেক্সিমকো লিমিটেড ও ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির শেয়ারের ওপর আরোপিত ফ্লোরপ্রাইস প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে ডিবিএর সভাপতি সাইফুল ইসলাম বিএসইসির নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান মাসুদ খান এবং কমিশনের সদস্যদের ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত বাজারে দীর্ঘদিনের স্থবিরতা নিরসন, স্বাভাবিক লেনদেন কার্যক্রম পুনরুদ্ধার এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। একইসঙ্গে বাজারভিত্তিক মূল্য নির্ধারণ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর, স্বচ্ছ ও গতিশীল করবে।

ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা
ডিবিএ আশা প্রকাশ করেছে, নতুন কমিশনের নেতৃত্বে বাজারের স্বার্থে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশের পরিপন্থি বিধি-বিধানের প্রয়োজনীয় সংস্কার করা হবে। পাশাপাশি একটি স্বচ্ছ, আধুনিক, টেকসই ও আস্থাভিত্তিক পুঁজিবাজার গড়ে তুলতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সংগঠনটি পুঁজিবাজারের উন্নয়ন, বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং বাজারের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও কমিশনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ফ্লোরপ্রাইস প্রত্যাহারের পর স্বল্পমেয়াদে শেয়ারের দাম কিছুটা ওঠানামা করতে পারে, তবে দীর্ঘমেয়াদে এটি বাজারের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় ফিরতে সহায়তা করবে। ডিবিএর মতো প্রভাবশালী সংগঠনের সমর্থন নতুন কমিশনের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করছে বলে মনে করছেন তারা।

Share
নিউজটি ২ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged