মিউচুয়াল ফান্ড খাতে অনিশ্চয়তা, ট্রাস্টি লাইসেন্স সমর্পণে ব্র্যাক ব্যাংক

সময়: বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ২, ২০২৬ ১১:৪২:২৯ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: হালনাগাদ সরকারি বিধিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে মিউচুয়াল ফান্ডের ট্রাস্টি নিবন্ধন বা লাইসেন্স সমর্পণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি। ব্যাংকটির এ সিদ্ধান্ত দেশের ইতোমধ্যে দুর্বল হয়ে পড়া ফান্ড ম্যানেজমেন্ট খাতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ট্রাস্টি হিসেবে নিবন্ধন বাতিলের অনুমোদন চেয়ে ব্র্যাক ব্যাংক বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন করেছে। এ বিষয়ে অংশীজনদের অবহিত করতে ব্যাংকটি ইতোমধ্যে গণবিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করেছে।

মিউচুয়াল ফান্ডের সর্বশেষ নীতিমালায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যাংক একই ফান্ডে কাস্টোডিয়ান ও ট্রাস্টি—দুই ভূমিকায় একসঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারবে না। ব্র্যাক ব্যাংক মূলত কাস্টোডিয়ান হিসেবেই বেশি সক্রিয় এবং ট্রাস্টি হিসেবে সরাসরি কার্যক্রমে জড়িত ছিল না।

ফলে নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশনা মেনে সম্পূর্ণ কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করতে ব্যাংকটি কাস্টোডিয়ান কার্যক্রম বজায় রেখে ট্রাস্টি লাইসেন্স সমর্পণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, ব্র্যাক ব্যাংকের মতো স্বচ্ছতা ও সুশাসনের জন্য পরিচিত প্রতিষ্ঠানের এই খাত থেকে সরে দাঁড়ানো বিনিয়োগকারীদের আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

বর্তমানে মিউচুয়াল ফান্ডের ট্রাস্টি হিসেবে ইস্টার্ন ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি) এবং গ্রামীণ ব্যাংক দায়িত্ব পালন করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, আগে থেকেই অনিয়ম ও ব্যবস্থাপনা দুর্বলতার অভিযোগে জর্জরিত এই খাতে একটি নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠানের প্রস্থান বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়াতে পারে। এর ফলে ফান্ডগুলোর নিট সম্পদ মূল্য (এনএভি) আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

বর্তমানে দেশে ৩৮টি ক্লোজ-এন্ড এবং ৯০টি ওপেন-এন্ড মিউচুয়াল ফান্ড কার্যক্রম চালাচ্ছে। ক্লোজ-এন্ড ফান্ডগুলোর মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৪ হাজার ৬৫০ কোটি টাকা, আর ওপেন-এন্ড ফান্ডগুলোর সম্পদ প্রায় ৪ হাজার ৯৭৮ কোটি টাকা।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যবস্থাপনা দুর্বলতার কারণে খাতটির বাজারমূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ফলে অনেক ফান্ড নিয়মিত ডিভিডেন্ড দিতে পারছে না।

বিশ্লেষকদের মতে, আগামী অর্থবছরগুলোতে মিউচুয়াল ফান্ড খাতকে স্থিতিশীল অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার আরও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।

Share
নিউজটি ৩ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged