নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে দরপতনকে কেবল ক্ষতির কারণ হিসেবে না দেখে বরং মুনাফার সম্ভাবনা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। তাদের ভাষ্য, দরপতনে প্রকৃত ক্ষতি হয় তাদেরই, যারা উচ্চমূল্যে বিতর্কিত কিংবা দুর্বল কোম্পানির শেয়ার কিনেছেন। কিন্তু সঠিক কৌশল অনুসরণ করলে পতনের বাজারেও ভালো মুনাফা অর্জন সম্ভব। কারণ পতনের সময় অনেক ভালো কোম্পানির শেয়ার বিনিয়োগের জন্য অনুকূল অবস্থানে চলে আসে।
তাদের মতে, দরপতনের সময় কম দামে ভালো শেয়ার কিনে উত্থানের সময় বিক্রি করলে প্রত্যাশার চেয়েও বেশি মুনাফা পাওয়া যায়। তাই পতনের বাজারে শেয়ার বিক্রি না করে বরং ক্রয় করা উচিত। একইভাবে উত্থানের বাজারে শেয়ার বিক্রি করে মুনাফা নিশ্চিত করাও বুদ্ধিমানের কাজ।
সাম্প্রতিক সময়ের দরপতনকে নেতিবাচক দৃষ্টিতে না দেখে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা। তাদের মতে, বাজারে যেমন উত্থান চিরস্থায়ী নয়, তেমনি পতনও স্থায়ী নয়। পতনের পরই আসে উত্থান। তাই পতনের সময় আতঙ্কিত না হয়ে ভালো শেয়ার কিনে রাখা উচিত।
এদিকে, গত সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসের ধারাবাহিকতায় আজ (২৭ সেপ্টেম্বর) সূচকের পতনের মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে। এদিন প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচকের পাশাপাশি টাকার অঙ্কে লেনদেনও কমেছে। একই সঙ্গে লেনদেনে অংশ নেওয়া বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর হ্রাস পেয়েছে। বাজারের এমন পরিস্থিতিকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।
তাদের মতে, আজকের পতনের কারণে অনেক ভালো কোম্পানির শেয়ার বিনিয়োগের উপযোগী অবস্থানে রয়েছে। যারা এসব শেয়ার কিনেছেন, তারা খুব শিগগিরই ভালো মুনাফা পাবেন। দরপতনের সময় লোকসানে শেয়ার বিক্রি না করে ধরে রাখলে পুঁজি সুরক্ষিত থাকে। তাই পতনের বাজারে আতঙ্কিত হয়ে শেয়ার বিক্রি না করে ধরে রাখা উচিত। বাজার নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। ধারাবাহিক উত্থান যেমন মেনে নিতে হয়, তেমনি পতনও মেনে নিতে হবে। পতন কেবল নেতিবাচক পরিস্থিতি তৈরি করে না, এর ইতিবাচক দিকও রয়েছে। জুন ক্লোজিং হওয়া কোম্পানিগুলো ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে। এমন পরিস্থিতিতে শেয়ার ধরে রেখে আরও ভালো শেয়ার কেনা বুদ্ধিমানের কাজ।
বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, রোববার সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৪৫.৫৭ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৫৩২.৭৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এদিন অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসইএস ১২.৫৮ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১০৩.৩০ পয়েন্টে অবস্থান করছে। ডিএসই-৩০ সূচক ১২.৮৩ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ৯৯.২৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।
আজ ডিএসইতে মোট ৩৮৮টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এর মধ্যে ৭৫টির দর বেড়েছে, ২৭৭টির দর কমেছে এবং ৩৬টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।
ডিএসইতে এদিন প্রায় ৭২৭ কোটি ৪০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। আগের দিন ডিএসইতে লেনদেন হয়েছিল প্রায় ৭৫৬ কোটি ৩১ লাখ টাকার। অর্থাৎ আগের দিনের তুলনায় আজ লেনদেন কমেছে প্রায় ২৮ কোটি ৯১ লাখ টাকা।
এদিকে, অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম এক্সচেঞ্জে (সিএসই) আজ ৩৯ কোটি ৫২ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের দিন সিএসইতে ১৬ কোটি ৭২ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছিল।
আজ সিএসইতে লেনদেন হওয়া ১৭৯টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শেয়ার ও ইউনিট দর বেড়েছে ৬৬টির, কমেছে ৯০টির এবং পরিবর্তন হয়নি ২৩টির।
এদিন সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১২৮.৮৭ পয়েন্ট কমে ১৪ হাজার ৭৮৩.৩১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আগের দিন সূচক সিএএসপিআই ৪১.৫০ পয়েন্ট বেড়েছিল।


