শেয়ারবাজারে নতুন কোম্পানি আনতে দ্রুত উদ্যোগের আহ্বান

সময়: বুধবার, অক্টোবর ৭, ২০২৬ ৮:০৪:১৮ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: দীর্ঘ সময় ধরে শেয়ারবাজারে নতুন কোনো কোম্পানি তালিকাভুক্ত না হওয়ায় বাজারে নতুন বিনিয়োগকারী ও মূলধন প্রবেশের সুযোগ সংকুচিত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) সভাপতি ইফতেখার আলম। বাজারের এই স্থবিরতা কাটাতে দ্রুত ভালো ও সম্ভাবনাময় কোম্পানিকে তালিকাভুক্ত করার কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বুধবার ‘ওয়ার্ল্ড ইনভেস্টর উইক ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত এক সেমিনারে বক্তব্য দেওয়ার সময় এসব কথা বলেন বিএমবিএ সভাপতি। সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল) এবং সেন্ট্রাল কাউন্টার পার্টি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিসিবিএল) যৌথভাবে সেমিনারটির আয়োজন করে।

ইফতেখার আলম বলেন, নতুন কোম্পানিকে শেয়ারবাজারে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে মার্চেন্ট ব্যাংকারদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে। কিন্তু প্রায় আড়াই বছর ধরে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে কোনো নতুন কোম্পানি বাজারে তালিকাভুক্ত হয়নি। ফলে নতুন বিনিয়োগকারী ও অর্থবাজারে প্রবেশের যে সম্ভাবনা তৈরি হওয়ার কথা, তা সীমিত হয়ে পড়েছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে দ্রুত নতুন কোম্পানি তালিকাভুক্তির ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, ২০২৫ সালে ইস্যু অব ক্যাপিটাল রুলস পরিবর্তন করা হলেও কোম্পানিগুলোকে শেয়ারবাজারে আসতে আগ্রহী করার মতো প্রয়োজনীয় প্রণোদনার ঘাটতি রয়ে গেছে। বিশেষ করে কোম্পানির মূল্যায়ন ও শেয়ারদর নির্ধারণের বর্তমান প্রক্রিয়ায় কিছু অসামঞ্জস্য থাকায় অনেক প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে যাচ্ছে।

বিএমবিএ সভাপতি আরও বলেন, তালিকাভুক্ত ও অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানির মধ্যে কর ব্যবস্থার পার্থক্যও অনেক প্রতিষ্ঠানকে শেয়ারবাজারে আসার ক্ষেত্রে যথেষ্ট উৎসাহিত করছে না। এর পাশাপাশি তালিকাভুক্তির পর করপোরেট গভর্ন্যান্স ও কমপ্লায়েন্সের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন শর্তও সময়ের প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যালোচনা করা দরকার।

ইফতেখার আলমের ভাষ্য, দেশের অধিকাংশ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিবারকেন্দ্রিকভাবে পরিচালিত হয়। এ কারণে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হলে কী ধরনের সুবিধা পাওয়া যেতে পারে, সে বিষয়ে অনেক কোম্পানির মধ্যেই এখনো পর্যাপ্ত ধারণা নেই। শুধু তাই নয়, অনেক প্রতিষ্ঠানের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা, কোম্পানি সেক্রেটারি এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার মধ্যেও তালিকাভুক্তির বিষয়ে অনাগ্রহ দেখা যায়।

তবে বর্তমান কমিশন শেয়ারবাজারে নতুন কোম্পানি আনার বিষয়ে বেশ কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করছে বলে জানান তিনি। মার্চেন্ট ব্যাংকারদের পক্ষ থেকে নিয়ম ও নীতিমালায় পরিবর্তনের বিষয়ে যেসব প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, সেগুলো দ্রুত বাস্তবায়িত হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন বিএমবিএ সভাপতি।

তিনি জানান, শুধু আইপিওর ওপর নির্ভর না করে সরাসরি তালিকাভুক্তির পথও আবার চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০১০ সাল থেকে বন্ধ থাকা ডিরেক্ট লিস্টিংয়ের সুযোগ সম্প্রতি উন্মুক্ত করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) একটি খসড়া ডিরেক্ট লিস্টিং প্রবিধান তৈরি করেছে। এটি দ্রুত কার্যকর করা গেলে নতুন কোম্পানির তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়া আরও সহজ হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া ‘অফার ফর সেল’ বা হাইব্রিড পদ্ধতিতে কোম্পানির তালিকাভুক্তির সুযোগ চালু করায় বিএসইসিকে ধন্যবাদ জানান ইফতেখার আলম। তিনি বলেন, এমন অনেক প্রতিষ্ঠান রয়েছে যাদের নতুন করে মূলধন সংগ্রহের প্রয়োজন নেই, কিন্তু শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার আগ্রহ রয়েছে। অফার ফর সেল এবং ডিরেক্ট লিস্টিংয়ের মতো বিকল্প পদ্ধতি এসব কোম্পানির জন্য বাজারে প্রবেশের নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে।

বিএমবিএ সভাপতি বলেন, বহুজাতিক কোম্পানিসহ দেশের অনেক বড় প্রতিষ্ঠানের নতুন অর্থের প্রয়োজন না থাকলেও তারা শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হতে আগ্রহী। অতীতে এসব প্রতিষ্ঠানের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ ছিল না। নতুন তালিকাভুক্তির পদ্ধতিগুলো কার্যকর করা গেলে এ ধরনের কোম্পানির বাজারে প্রবেশের পথও সহজ হবে।

ইফতেখার আলমের মতে, নিয়মিত নতুন কোম্পানি তালিকাভুক্ত না হলে বাজারে নতুন বিনিয়োগকারী ও নতুন অর্থ প্রবেশের সুযোগ কমে যায়। একটি ভালো মানের আইপিও বাজারে এলে তার সঙ্গে নতুন বিনিয়োগকারী ও নতুন মূলধন যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়। তাই শেয়ারবাজারে লেনদেন ও বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়াতে নিয়মিতভাবে ভালো কোম্পানি তালিকাভুক্ত করা জরুরি।

গত কয়েক বছরে বিভিন্ন কোম্পানি আর্থিক সংকটে পড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব প্রতিষ্ঠানকে শেয়ারবাজারের মাধ্যমে মূলধন সংগ্রহের সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন। এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলো একদিকে তাদের মূলধন কাঠামো পুনর্গঠন করতে পারবে, অন্যদিকে ঋণের ওপর নির্ভরশীলতাও কমিয়ে আনতে সক্ষম হবে।

শেয়ারবাজারের গভীরতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও নতুন কোম্পানি তালিকাভুক্তির ওপর গুরুত্বারোপ করেন বিএমবিএ সভাপতি। তার মতে, বাজারের মোট বাজারমূলধন বাড়াতে হলে ভালো ও সম্ভাবনাময় প্রতিষ্ঠানকে তালিকাভুক্ত করতে হবে। পাশাপাশি একাধিক স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্তির সুযোগসহ নতুন উদ্যোগগুলো বাস্তবায়ন করা গেলে বাজারের পরিধি আরও বিস্তৃত হবে।

সংশ্লিষ্টদের ধারণা, প্রস্তাবিত নতুন বিধিবিধান কার্যকর হলে কোম্পানিগুলোর জন্য শেয়ারবাজারে আসার পথ ও বিকল্প উভয়ই বাড়বে। এতে দীর্ঘদিনের তালিকাভুক্তি-স্থবিরতা কাটিয়ে বাজারে নতুন কোম্পানি, বিনিয়োগকারী ও মূলধন প্রবেশের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

Share
নিউজটি ২ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged