নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে নতুন কেলেঙ্কারির ঘটনায় সাবেক বিএসইসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম এবং এলআর গ্লোবাল বাংলাদেশের প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তা রিয়াজ ইসলামকে আজীবন নিষিদ্ধ করার সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) গঠিত তদন্ত কমিটি।
ওভার দ্য কাউন্টার (ওটিসি) মার্কেটে তালিকাভুক্ত কোম্পানি কোয়েস্ট বিডিসি (সাবেক পদ্মা প্রিন্টার্স অ্যান্ড কালার)-এর কার্যক্রমে গুরুতর অনিয়ম, দুর্নীতি ও আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়ার পর এই সুপারিশ করা হয়।
তদন্ত কমিটির সুপারিশ
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়—
রিয়াজ ইসলাম ও শিবলী রুবাইয়াতকে শেয়ারবাজারসংক্রান্ত সব কার্যক্রম থেকে আজীবন নিষিদ্ধ করতে হবে।
এলআর গ্লোবাল বাংলাদেশ লিমিটেডের নিবন্ধন বাতিল করা জরুরি।
বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) বিস্তারিত তদন্তের জন্য পাঠানো উচিত।
অভিযুক্ত প্রত্যেককে ন্যূনতম ১ কোটি টাকা আর্থিক জরিমানা এবং ফৌজদারি মামলার আওতায় আনার সুপারিশ করা হয়েছে।
এলআর গ্লোবালের অধীনে থাকা মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর ট্রাস্টি বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডকে (বিজিআইসি) অবিলম্বে ফান্ড নিয়ন্ত্রণে নিতে এবং ফরেনসিক অডিট করতে নির্দেশ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
অনিয়মের বিবরণ
২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে তৎকালীন বিএসইসি চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম এবং রিয়াজ ইসলামের যোগসাজশে এলআর গ্লোবালের ছয়টি মিউচুয়াল ফান্ডের টাকা ব্যবহার করে পদ্মা প্রিন্টার্সের ৫১ শতাংশ শেয়ার কেনা হয়। প্রতিটি শেয়ার কেনা হয়েছিল ২৮৯.৪৮ টাকা দরে, যা বাজার মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি।
এরপর এই ছয়টি ফান্ড থেকে এলআর গ্লোবালের কর্মকর্তাদের কোয়েস্ট বিডিসির পরিচালক পদে বসানো হয়। তদন্ত কমিটি মনে করে, পুরো প্রক্রিয়াটিই ছিল অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এভাবে বিনিয়োগকারীদের তহবিল অবৈধভাবে ব্যবহার করে তাদের বড় ক্ষতি করা হয়েছে।
বিএসইসির প্রতিক্রিয়া
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএসইসির পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম গণমাধ্যমকে বলেন, “তদন্ত কমিটি নির্ধারিত সময়েই প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। ওই প্রতিবেদনের সুপারিশের ভিত্তিতে অভিযুক্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কিছু ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আরও কিছু বিষয় কমিশন পর্যবেক্ষণ করছে এবং সেগুলোতেও শিগগির ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
কোয়েস্ট বিডিসির অবস্থান
অন্যদিকে, কোয়েস্ট বিডিসির চেয়ারম্যান রেজাউর রহমান সোহাগ দায় অস্বীকার করে বলেন, তিনি কেবল একজন সম্মানসূচক চেয়ারম্যান এবং কোম্পানির দৈনন্দিন কার্যক্রমে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।


